এক গুচ্ছ নির্দেশ, কর্ম সূত্রে সফর, রাজ্যপালদের পদত্যাগ: রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পরের এক সপ্তাহ এই ভাবেই কেটেছে. স্বাক্ষরিত দলিল ও মৌখিক নির্দেশ দিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর রাজনীতির ক্ষেত্রে মুখ্য বিষয় গুলিকে নির্দিষ্ট করেছেন: তা যেমন আন্তর্জাতিক ও সামাজিক নীতির ক্ষেত্রে, তেমনই অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রেও.

 পুতিনের ১১টি নির্দেশের বেশীর ভাগই তিনি স্বাক্ষর করেছেন শপথ গ্রহণের দিনই, ৭ই মে. তার এক গুচ্ছ শিক্ষা ও বিজ্ঞান ক্ষেত্রে উদ্যোগ বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য, - অন্য গুলি রাশিয়ার অর্থনৈতিক বিকাশ ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য.

 আরও একটি নির্দেশ রয়েছে সামরিক ক্ষেত্রে – সঠিক করে বললে দেশের সামরিক শিল্প ব্যবস্থার প্রতি. এক্ষেত্রে প্রধান কাজ হল, যা দলিলে বলা হয়েছে, তা অনুযায়ী রাশিয়ার সামরিক বাহিনীকে ২০২০ সালের মধ্যে আধুনিক অস্ত্র সরঞ্জামে সজ্জিত করা. সামরিক বায়না করা ও তা পাওয়ার জন্য প্রশাসনের মধ্যে দুটি সংস্থা তৈরী করা হচ্ছে. এই ভাবে, রাশিয়ার নেতৃত্ব আশা করছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সামরিক শিল্প উত্পাদকদের মধ্যে সমস্যার সমাধান করার, এই কথা উল্লেখ করে বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন বলেছেন

 প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও শিল্পের মধ্যে সম্পর্কে বহু নেতিবাচক জিনিস জমা হয়েছে. তাদের কোন ভাবে একে অপরের সঙ্গে কাজ করা আবার শিখতে হবে. সঠিক ভাবে মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা করতে হবে – তার মধ্যে এটাও ধর্তব্যের মধ্যে রাখতে হবে যে, সামরিক বাহিনীর লোকরা সব সময়েই চাইবে দাম কম করতে, আর শিল্প উত্পাদকরা চাইবে দাম বাড়াতে.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতির প্রধান দিক গুলিও এক বিশেষ নির্দেশে বলা হয়েছে. এই দলিলের মুখ্য বিষয় হল – স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের এলাকায় বহু মাত্রিক সহযোগিতা ও সমাকলন প্রক্রিয়াকে জোরদার করা. এটা, অংশতঃ ইউরো-এশিয়া জোট ও শুল্ক জোটের সম্বন্ধেও. তাছাড়া মস্কো সক্রিয়ভাবে আবখাজিয়া ও দক্ষিণ অসেতিয়া প্রজাতন্ত্রকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য সাহায্য করবে.

 ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন পরিকল্পনা এক স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য সামনে রেখেছে – অতলান্তিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষেত্র নির্মাণের. আর ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে মস্কো স্থিতিশীলতা ও পূর্বানুমান সাপেক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার পথই ধরবে.

    আজকেই বলা যেতে পারে যে, ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী প্রবন্ধে উল্লেখ করা পথ থেকে সরে দাঁড়াতে চান না, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ পাভেল দানিলিন বলেছেন:

 “এমনকি প্রথম কয়েকদিন কাজের মধ্য দিয়েই নতুন রাষ্ট্রপতি তাঁর পথ নির্দেশ করেছেন, যা তিনি আগেই দেশের সমাজের কাছে প্রস্তাব করেছেন. এটা এক শক্তিশালী সামাজিক রাষ্ট্র গঠন, যেখানে রাশিয়ার নাগরিকদের জনসংখ্যা সংক্রান্ত ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা, রাশিয়ার সার্বভৌমত্বকে গঠন ও মজবুত করে তৈরী করা. রাশিয়ার নতুন পররাষ্ট্র নীতি হবে সবচেয়ে বেশী বাস্তব সম্মত ও স্বাধীন”.

 রাষ্ট্রপতি গত সপ্তাহে নিজের পূর্বসূরি দিমিত্রি মেদভেদেভকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিযুক্ত করার নির্দেশে স্বাক্ষর করেছেন. রাশিয়ার পার্লামেন্ট ৮ই মে এই মনোনয়ন সমর্থন করেছে. ১৫ই মে তারিখের মধ্যে প্রশাসনের নতুন প্রধান রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সভার সদস্যদের নাম প্রস্তাব করবেন. ভ্লাদিমির পুতিনের রাষ্ট্রপতিত্বের প্রথম সপ্তাহের ফল বলতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কাজকর্মের প্রধান লক্ষ্য: রাশিয়া নিজের স্বার্থ “সমস্ত দিকেই” রক্ষা করবে.