নমস্কার, প্রিয় শ্রোতারা. আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ ‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ শুনছেন আপনারা.   এই অনুষ্ঠাণে আমরা রাশিয়া সম্পর্কে আপনাদের দেওয়া বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি.

   সেই জন্য আমরা ভারতের, বাংলাদেশের, পাকিস্তানের, মরিশাসের শ্রোতাদের অনুরোধ করবো যত বেশি সম্ভব প্রশ্ন পাঠাতে. লিখুন, আপনাদের জন্য কোন সব বিষয় আগ্রহদ্দীপক. আমাদের এই অনুষ্ঠাণের সহ-রচয়িতা হওয়ার চেষ্টা করুন.

    আর আমরা চেষ্টা করবো বিশদ করে আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে.

    ভারতের বিহার রাজ্যের বার্মা শহর থেকে কৃষ্ণ মুরারি সিং জিজ্ঞাসা করেছেন – রাশিয়ায় সাহিত্যিকদের সংঘবদ্ধ কোনো সংস্থা আছে কিনা.

    রাশিয়ায় সব চেয়ে বড় সেতু কোনটি? – জানতে চেয়েছেন নয়াদিল্লী থেকে দীপক কুমার.

   আমরা সেইসঙ্গেই আজ আপনাদের গল্প করবো রাশিয়ার সবচেয়ে ঠান্ডা এলাকা সম্পর্কে. এই বিষয়ে প্রশ্ন করেছেন পাকিস্তানের মুজফ্ফরহারা থেকে মারি ফারুকি.

         এবার উত্তর দিচ্ছি কৃষ্ণ মুরারি সিংয়ের প্রশ্নের. সাহিত্যিকদের ও সাহিত্য সমালোচকদের অরাজনৈতিক সংস্থাগুলির মধ্যে বৃহত্তম হল – রাশিয়ার লেখকদের ইউনিয়ন, যেখানে দেশের প্রায় ৬০টি আঞ্চলিক সংস্থা যুক্ত. আমাদের দেশে লেখক- অনুবাদকারীদের ইউনিয়ন, কবিদের ইউনিয়ন, অর্থোডক্স ধর্মের কবিদের ইউনিয়ন ও ইন্টারনেটের কবিদের ইউনিয়নও রয়েছে. কারণ এখন ইন্টারনেটেও নিজস্ব রচনা প্রকাশ করা যায়.

   এই সব ও অন্যান্য সাহিত্যিক সংস্থা নতুন বই প্রকাশের অনুষ্ঠাণের আয়োজন করে থাকে, সংবাদপত্র ও পত্রিকা ছাপায়, পাঠকদের সাথে লেখক ও কবিদের সাক্ষাত্কারের আয়োজন করে, রাশিয়ার বিশ্ববিখ্যাত সাহিত্যিকদের বিভিন্ন জয়ন্তী উদযাপনের জন্য সংগঠক কমিটি গঠণ করে, প্রসিদ্ধ রুশী সাহিত্যিকদের স্মৃতিতে মূর্তি উন্মোচনের ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়. সাধারণতঃ, এই সব ব্যাপারে লেখক ইউনিয়ন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাথে একসাথে কাজ করে.

     যে কোনো উঠতি লেখক তার আঞ্চলিক সংস্থার কাছে বইয়ের ভদ্রস্থ সম্পাদক খুঁজে দেওয়ার, বা ভালো ডিজাইনার খুঁজে দেওয়ার আবেদন করতে পারে. সম্পাদক মনোযোগের সাথে পান্ডুলিপি পড়ে এবং নিজের মতামত জানায়. ডিজাইনার বইয়ের প্রতিরূপ তৈরি করে, প্রচ্ছদ আঁকে ও বইয়ের ভেতরকার ছবি আঁকে.

     লেখকদের ইউনিয়ন ও তার আঞ্চলিক শাখাগুলি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যে সম্পর্কে বিশেষ করে বলা দরকার.

     যেমন, রাশিয়ার লেখক ইউনিয়ন বিগত কয়েক বছর ধরে মে মাসে বুলগেরিয়ার ভার্না শহরে আন্তর্জাতিক কবিতা উত্সবে যোগদান করার জন্য বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে. ঐ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা রাশিয়ার লেখক ইউনিয়নের তরফ থেকে উক্ত উত্সবে প্রতিনিধিত্ব করে. ভার্নায় উঠতি সাহিত্যিকরা প্রকাশকদের সাথে, সাহিত্যের এজেন্টদের সাথে, সাহিত্য সমালোচকদের সাথে পরিচয় করে. প্রায়শঃই এরকম পরিচিতি উঠতি সাহিত্যিকদের রাশিয়ায়, এমনকি বিদেশে তাদের রচনা প্রকাশ করতে সাহায্য করে.

    লেখক ইউনিয়নের মস্কো নাগরিক শাখা ও লেখক-অনুবাদক ইউনিয়ন আজ কয়েক বছর ধরে রুশী সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখার জন্য ‘চেখভ পুরস্কার’ প্রদান করে.

     লেখক ইউনিয়ন সাহিত্যিকদের রচনার একাংশ মস্কো ও সেন্ট-পিটার্সবার্গের বইয়ের দোকানগুলিতে সরবরাহ করতে সাহায্য করে. প্রকাশিত বইগুলি সম্পর্কে সমালোচকদের মতামত প্রকাশ করে স্থানীয় সংবাদ প্রচার মাধ্যমগুলিতে, যাতে পাঠকদের আগ্রহ ও চাহিদা বাড়ে. আর সবচেয়ে উচুঁমানের রচনাবলীর জন্য কলকাতা, দিল্লী, প্যারিস, লন্ডন সহ সব জনপ্রিয় বইমেলায় যোগ দেওয়ার দরজা খোলা.

        দীপক কুমার ভারতের রাজধানী থেকে জানতে চাইছেন – রাশিয়ায় কোন সেতুটি দীর্ঘতম?

     আমরা কয়েক মাস ধরে এই প্রশ্নটির উত্তর দিইনি, কারণ অপেক্ষা করে ছিলাম, কবে ভ্লাদিভস্তোক শহর ও রুস্কি দ্বীপের মধ্যে বসফোর সামুদ্রিক প্রণালীর উপর দিয়ে সংযোগকারী সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হবে. আশা করেছিলাম, যে ঐ সেতুটি হবে আমাদের দেশে দীর্ঘতম. দুর্ভাগ্যক্রমে, ঐ সেতুটির দৈর্ঘ্য মাত্র ৩ কিলোমিটার ও ১০০ মিটার. তবে উপরোক্ত সেতুটির অনন্য সাধারণতা হচ্ছে অন্যখানে – সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে সাড়ে তিনমাসে, যখন বিদেশে সমুদ্রের উপর দিয়ে এরকম সেতু নির্মাণ করতে ১০ বছর লেগে যায়. সেতুটির উচ্চতা বিস্ময়জনক. তার নীচে দিয়ে অনায়াসে বহুতল যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল করে.

     উপরোক্ত সেতুটি রাশিয়ায় ১৫ তম সেতু, যার দৈর্ঘ্য ২ কিলোমিটারের বেশি. তবে আপাততঃ আমাদের দেশে দীর্ঘতম সেতুটি অবস্থিত উলিয়ানোভস্ক শহরে ভোলগা নদীর ওপর, যার দৈর্ঘ্য ৫ কিলোমিটার ও ৮২৫ মিটার.

          পাকিস্তানের থেকে আমাদের শ্রোতা মারি ফারুকি জানতে চেয়েছেন – রাশিয়ায় কোথায় শীতলতম এলাকা?

         এখন ভারতীয় উপ মহাদেশের দেশগুলিতে সাংঘাতিক গরম. সেইজন্যেই আমরা মারি ফারুকির প্রশ্নটির জবাব আজ দিতে চাই বৈপরীত্য বোঝানোর জন্যে.

      সাইবেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইকুতিয়া সবচেয়ে কম তাপমাত্রার ক্ষেত্রে রেকর্ড করে. সেখানে চিরকালীন শীত, মানে মাটির নীচে দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত বরফ পাথরের মতো শক্ত হয়ে সারাবছর জমা থাকে. স্বল্পকালীন গ্রীস্মের সময় ১ মিটারেরও কম স্তরের বরফ গলে. ঘাস ছাড়া সেখানকার মাটিতে আর কিছুই জন্মায় না. কৃষিকার্য সেখানে সম্ভবপর নয়, যদিও লোকজন সেখানে বাস করে. তারা হরিণ চরায়, উত্তর বরফ সাগরে মাছ ধরে, অথবা খনিজ পদার্থ নিষ্কাশণ করে. আটা, চিনি, শাকসব্জি, ফলমূল ও অন্যান্য সব খাদ্যদ্রব্য সেখানে গ্রীষ্মকালে নদীপথে সরবরাহ করা হয়. ইকুতিয়া প্রসিদ্ধ তার হীরের জন্য.

       এমনকি কঠোর ইকুতিয়াতেও রূপকথার জায়গা আছে, - মনে করেন ‘চিরকালীন শীত’ নামক পর্যটন কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ. তারা পর্যটকদের তাদের কাছে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান. ‘চিরকালীন শীত’ নামক কমপ্লেক্সটি পাহাড়ের ভেতরে একটা বিশাল বরফের ভবন, যা পেশাদার স্থপতিরা বানিয়েছেন. শীতকালে, যখন রাস্তায় সেখানে মাইনাস ৫০ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড, পাহাড়ের ভেতরে তাপমাত্রা কেবলমাত্র মাইনাস ১০ ডিগ্রী, আর গ্রীস্মকালে তাপমাত্রা মাইনাস ৪ ডিগ্রীর বেশি ওঠে না. ঐ কমপ্লেক্সে সিংহাসনও আছে, তবে বরফ কেটে বানানো. সিংহাসনটি রাজ হংস ভাস্কর্য দিয়ে অলংকৃত. ইকুতিয়ায় রাজহাঁস হচ্ছে শুদ্ধতার প্রতীক, আর রাশিয়ায় দাম্পত্য আনুগত্যের. সেই কারনেই সদ্য বিবাহিত দম্পতিরা ঐ কমপ্লেক্স সফর করতে ভালোবাসে. গাইড সেখানে গল্প করে উত্তরের তথাকথিত বরফ-মানব সম্পর্কে, যে নাকি চিরকালীন বরফের দেশে ফসল উত্পন্ন করে ও তাদের প্রাণ দেয়.

      কমপ্লেক্সের একটা হলে ম্যামথ ও অন্যান্য বিশাল প্রাণীদের দেহাবশেষ রয়েছে, যাদের বয়স ১০ হাজার বছরেরও বেশী. চিরকালীন শীতের জন্য তাদের দেহ এখনো অক্ষত রয়েছে.

      ভ্রমণের শেষে কমপ্লেক্সে ইকুতিয়ার জাতীয় খাদ্যের স্বাদ পরখ করে দেখতেই হবে এবং শরীর গরম করার জন্য ভারতীয় অথবা চীনা চা.

         আপনাদের একটা গান শোনানোর মতো সময় আমাদের আছে. গানের নাম --, গাইছেন --.

     ‘রাশিয়ার আদ্যোপান্ত’ নামক আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ এখানেই শেষ করছি. আমরা আপনাদের নতুন নতুন চিঠি ও রাশিয়া সম্পর্কে প্রশ্নের অপেক্ষায় থাকবো. আমাদের ঠিকানাঃ রেডিও রাশিয়া, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে বেতার সম্প্রচার দপ্তর, পিয়াতনিত্স্কায়া স্ট্রীট, হাউস নম্বর-২৫, বিল্ডিং - ১. মস্কো, রাশিয়া - ১১৫৩২৬. ইন্টারনেটে আমাদের ঠিকানা ইংরাজি অক্ষরে - আর ইউ ভি আর.