দক্ষিণ কোরিয়াতে এক্সপো – ২০১২ নামের বিশ্ব প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে. ১০০টিরও বেশী দেশ ও ৮টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এখানে নিজেদের উত্পাদিত দ্রব্য ও নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন করার জন্য নিয়ে এসেছে. সকলেই এই প্রদর্শনীর প্রধান বিষয়কে উদ্দেশ্য করে তাদের দ্রব্য তুলে ধরেছে, বিষয়: “বিশ্বের মহা সমুদ্র গুলি ও সমুদ্র উপকূল অঞ্চল: রসদের বিভিন্নতা ও তাদের উপযুক্ত ব্যবহার”.

    কোরিয়াতে এক্সপো – ২০১২ প্রদর্শনীর ধারণা নিজেদের দেশের প্রদর্শনী কক্ষ নির্মাণে নয়. দেশ গুলি নিজেদের জিনিস ইতিমধ্যেই তৈরী হওয়া প্যাভিলিয়ন গুলিতে রেখেছে. রাশিয়ার জন্য এই রকম সবচেয়ে বড় গুলির মধ্যে একটি দেওয়া হয়েছে – প্রায় এক হাজার স্কোয়ার মিটার জায়গা জুড়ে. আর এটা অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়, কারণ রাশিয়ারই বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র উপকূল এলাকা রয়েছে, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে রাশিয়ার প্যাভিলিয়নের শৃঙ্খলা বিষয়ক প্রধান আলেকজান্ডার দিয়ানভ বলেছেন:

 “রাশিয়া নিজের সম্বন্ধে খুবই সক্রিয়ভাবে ও যুক্তিযুক্ত ভাবে প্রকাশ করতে বাধ্য. কারণ যদি রাশিয়া পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে গুরুত্ব না দেয়, আধুনিক সামুদ্রিক পরিবহনের বিষয়ে মনোনিবেশ না করে, তবে মহা সমুদ্রের জন্য খুবই বড় ক্ষতি হতে পারে. তাই রাশিয়ার উপরে নির্ভর করছে এই ধরনের দায়িত্ব পালন. আর আমরা চাই সারা বিশ্বকে দেখাতে  যে, রাশিয়ার অনেক ইন্টারেস্টিং প্রযুক্তি রয়েছে – বৈজ্ঞানিক, ভারী শিল্প সংক্রান্ত, যা এই ধরনের কাজ যথেষ্ট সাফল্যের সঙ্গে সমাধানের ব্যবস্থা করে দেয়”.

    রাশিয়ার প্রদর্শনীর নাম “মহাসাগর ও মানুষ: অতীত থেকে ভবিষ্যতের দিকে পথ”. ২০ মিনিটের মধ্যে এই প্রদর্শনী ঘুরে দেখে দর্শকরা এক সম্পূর্ণ নাটক দেখতে পাবেন, যার প্রধান কাজ হল – আর্কটিক ও উত্তরের সমুদ্র পথ নিয়ে: কি করে তা অতীতে লোকে পথ করে নিয়েছে ও কি করা দরকার, যাতে তা আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সুরক্ষিত ভাবে রাখা যায়. এই কথা উল্লেখ করে এক্সপো – ২০১২ তে রাশিয়া প্যাভিলিয়নের ডিরেক্টর তাতিয়ানা সাদোফিয়েভা বলেছেন”

 “আমাদের প্রদর্শনী কয়েকটি আলাদা এলাকা করে তৈরী করা হয়েছে: ঐতিহাসিক, জ্ঞান অর্জনের এলাকা ও সংরক্ষণের এলাকা. ঐতিহাসিক এলাকায় আমরা ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছি, উত্তরের সমুদ্র পথ বিগত ৫০০ বছর ধরে কি ভাবে মানুষে ব্যবহার করতে শিখেছে. এর পরে দর্শক যেন বরফ ভাঙা পারমানবিক জাহাজ “রাশিয়ার” ডেকে চড়ে বসে ও তার এক কক্ষে দেখতে পায় আর্কটিক নিয়ে এক সিনেমা – কি করে রাশিয়া ঠিক করেছে এর সুরক্ষা করার. তারপরে একটা বন্দরের নকল তৈরী করা হয়েছে. আমরা এমন এক জায়গায় উপস্থিত হই, যা আমাদের প্রদর্শনীর সবচেয়ে সুন্দর জায়গা. এটা একটা বড় সিনেমা হল, যেখানে একটা পারস্পরিক ভাবে প্রতিক্রিয়া করতে সক্ষম এই রকমের একটা সিনেমা দেখানো চলছে. এর ছাত ও দেয়াল সবই একটা বড় সিনেমার পর্দা. আমরা “মির” নামের এক গভীর জলে ডুব দেওয়ার মতো যন্ত্রকে সঙ্গে নিয়ে যেন আর্কটিক এলাকার জলে ডুব দিই. তারপরে আমরা যেন আবার পারমানবিক বরফ ভাঙা জাহাজে উপস্থিত হই, যা সশব্দে দুই মিটারের বেশী পুরু বরফের আস্তরণ ভেঙে পথ করে দেয়. খুবই চমত্কার এক দর্শনীয় ব্যাপার”.

 এই প্রদর্শনীর সম্পূর্ণতা আনার জন্য এটাকে শেষ করা হয়েছে রাশিয়ার উত্তরের সমুদ্র উপকূলে থাকা প্রজাতিদের জাতীয় খাবার দিয়ে – এই সবই ছুঁয়ে দেখা যায়, চেখে দেখা যায় ও স্যুভেনির হিসাবে কেনা যায়.

 এক্সপো – ২০১২ নামের বিশেষ এই প্রদর্শনী তিন মাস ধরে কাজ করবে – ১২ই মে থেকে ১২ই আগষ্ট. পরিকল্পনা রয়েছে যে, এই সময়ের মধ্যে রাশিয়ার প্রদর্শনী দেখে যাবেন প্রায় চার লক্ষ লোক.