ইন্দোনেশিয়াতে “সুখই সুপারজেট -১০০” বিমান ভেঙে পড়ার জায়গায় উদ্ধার কার্য চালু রয়েছে. এর আগে হাসপাতালে নিহতদের দেহাবশেষ সমেত ১৬টি কন্টেনার পাঠানো হয়েছিল. এর মধ্যেই একটি দেহকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে.

রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের উদ্ধার কর্মীরা খুবই সক্রিয়ভাবে কাজে অংশ নিয়েছেন, এই খবর রেডিও রাশিয়াকে জানিয়ে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক বিভাগের উপ প্রধান এলেনা স্মিরনীখ বলেছেন:

 “আমাদের হেলিকপ্টার উড়ানের ও উদ্ধার এবং ত্রাণ কার্য সমাধানের জন্য সমস্ত রকমের স্বীকৃতী পাওয়া গিয়েছে. রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন দপ্তর নিজেদের খোঁজার প্রযুক্তি ব্যবহার করবে. ইন্দোনেশিয়ার সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে কোন রকমের সমস্যা আমাদের কর্মীদের নেই”.

 বর্তমানে জাকার্তা উড়ে গিয়েছে আরও যন্ত্রপাতি ও উদ্ধার কর্মী সমেত দ্বিতীয় বিমান. একই সময়ে বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞই এই ধারণায় উপনীত হচ্ছেন যে, এই দুর্ঘটনার জন্য যন্ত্র দায়ী নয়. “সুখই সুপারজেট – ১০০” বিমানের সমস্ত রকমের প্রযুক্তিগত সূচক গুলিই বিপর্যয়ের আগে পর্যন্ত ছিল ঠিক. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন “সম্মিলিত বিমান নির্মাণ কর্পোরেশনের” নেতৃত্ব, যাঁদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে “সুখই সুপারজেট – ১০০” নির্মাতারাও পড়েন. সেখানেই আরও সমর্থন করা হয়েছে যে, এই বিমানের পরীক্ষার সময়ে কোনও সমস্যাই ছিল না. সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই একমত যে, এই বিমান কোন ভাবেই আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট পাওয়ার পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে পারত না, যদি তাতে সামান্যতমও কোন খুঁত দেখা যেত. এই প্রসঙ্গে “আভিয়া. রু” সাইটের প্রধান রমান গুসারভ বলেছেন:

 “আমরা মনে করি না যে, ঘটে যাওয়া ঘটনা খুব একটা বেশী ভাবে সেই সমস্ত বিমান সংস্থার সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করবে, যারা ইতিমধ্যেই “সুপারজেট – ১০০” কেনার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. যা এই বিমান কেনার সিদ্ধান্তের পক্ষে প্রধান কারণ হতে পারে, তা হল এই বিমানের সফল ও লাভজনক ব্যবহার, যা “এরোফ্লোট” কোম্পানী আগামী দেড় বছরের মধ্যে করবে. তার পরে বায়না করার লোকরা একেবারে লাইন লাগিয়ে দেবে”.

    “সুখই সুপারজেট- ১০০” বিমানের ক্রেতা ইন্দোনেশিয়াতে যে দুটি কোম্পানী – তারা এখনও বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি প্রত্যাহার করে নেয় নি. আর রাশিয়া ও আর্মেনিয়ার কোম্পানী, যারা ইতিমধ্যেই এই বিমান ব্যবহার করছে (এটা রাশিয়ার “এরোফ্লোট” ও আর্মেনিয়ার “আরমাভিয়া” কোম্পানী), তারা ঘোষণা করেছে যে, তারা শুধু এই বিমানের উড়ান যে চালু রাখবে তাই নয়, তারা আরও এই ধরনের বিমান কিনবে.

    “সুখই” কোম্পানীর জন্য অসামরিক বিমান নির্মাণ ক্ষেত্র নতুন কাজের দিক, এই কথা উল্লেখ করেছেন “স্বাধীন সামরিক পর্যালোচনা” জার্নালের সম্পাদক ভিক্তর লিতোভকিন. কিন্তু এই বিপর্যয় এর উন্নতির প্রসঙ্গে কোন শেষের সূচনা করে নি, বলেই তিনি বিশ্বাস নিয়ে বলেছেন:

 “বিশ্বে “সুখই” কোম্পানীর মর্যাদা অনেক বিশাল. অবশ্যই, “সুপারজেট – ১০০” বিমানের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে এই বিপর্যয় প্রভাব ফেলবে. কিন্তু তা খুব ভারী বা দীর্ঘস্থায়ী হবে না. “সুখই” কোম্পানীর অসামরিক বিমান গুলিকে শুধু এই পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে – আর আমি মনে করি যে, তারা এর থেকে সসম্মানে বেরিয়ে আসতে পারবে”.

0    বিশেষজ্ঞরা দুর্ঘটনার সমস্ত রকমের সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখছেন. কিন্তু সত্যিকারের আলোকপাত করতে পারে ব্ল্যাক বক্সের তথ্য. তাদের তথ্য বিশ্লেষণ করা হবে ইন্দোনেশিয়াতেই.