ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফন রাসমুসেন পাকিস্তানকে আফগানিস্তানে মাল পৌঁছনোর রাস্তা খুলে দিতে আহ্বান করেছেন. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, পাকিস্তান আফগানিস্তান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে চিকাগো শহরে যোগ দিতে পারবে না, যদি এটা না করে. ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যেই এই সম্মেলন ১৮- ১৯শে মে হবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

 বাস্তবে, পাকিস্তানকে একটা চরম হুমকি দেওয়া হয়েছে – হয় আমাদের সঙ্গে এসো, নয়তো নয়. পাকিস্তান আপাততঃ চিকাগো সম্মেলনে আহুত নয়. কিন্তু তাদের সেখানে অংশ নেওয়া নিয়েও কেউ না করে নি. জোটের সাধারন সম্পাদক বলেছেন, “আমাদের পাকিস্তান হয়ে ট্রানজিটের পথ আপাততঃ বন্ধ করে দেওয়া রয়েছে, তাই আমাদের তাদের সঙ্গে কথা বলতে হচ্ছে, যাতে একটা সমাধান বের করা যায়, কারণ এটা সত্যই গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা”. অন্য পথ যেটা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট ব্যবহার করেছে নিজেদের মাল আফগানিস্তানে পাঠানোর জন্য, তা অংশতঃ, তথাকথিত “উত্তরের রাস্তা”, যা রাশিয়া হয়ে গিয়েছে, তা এমনিতেই অনেক লম্বা ও পাকিস্তানের চেয়ে দামী. তার ওপরে পাকিস্তান হয়ে যাওয়ার চেয়ে এই মাল পৌঁছতে সময় লাগছে দুই তিন গুণ বেশী.

 ইসলামাবাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হয়েছিল পাকিস্তানকে না জানিয়ে ওসামা বেন লাদেন হত্যা করার পরে, সেটা আরও খারাপ হয়েছে ন্যাটো জোটের সেনারা ভুল করে পাকিস্তানের ২৪ জন সীমান্ত রক্ষীকে হত্যা করার পরে, আর যখন একই সঙ্গে ৪০ জন আহত হয়েছিল. এর পরেই পাকিস্তান পেন্টাগনের কাছ থেকে ড্রোন ব্যবহার বন্ধের দাবী করেছিল ও শামসি বিমান ঘাঁটি বন্ধ করে দিয়েছিল. তারপরে মাল পরিবহনের জন্য বন্দর ব্যবহার এবং স্থল পথও বন্ধ করে দিয়েছিল. বর্তমানে এই দেশে খুবই বেশী করে ন্যাটো ও আমেরিকা বিরোধী মানসিকতা রয়েছে জনগনের মধ্যে.

 বিশেষ করে বিপদের কারণ হয়েছে স্থানীয় চরমপন্থী ও সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী গুলি, যারা দেশের আইন প্রণেতাদের হুমকি দিয়েছে যে, যদি আবার করে দেশের মধ্যে দিয়ে ন্যাটো জোটের মাল পরিবহন করতে দেওয়া হয়, তবে তারা এবারে সাংসদ দেরই হত্যা করবে. এই ধরনের হুমকি দিয়েছে পাকিস্তানের তালিবান দল “তেহরিক এ তালিবান – পাকিস্তান”.

 পাকিস্তানের সরকার এটা হিসাবের মধ্যে না ধরে পারছে না. তা স্বত্ত্বেও পাকিস্তানের খুব জটিল পরিস্থিতিতেও দেশের পার্লামেন্ট ন্যাটো জোটের মাল পরিবহন আবার শুরু করতে প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছে. এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু শর্তও প্রয়োগ করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট সরকারি ভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী ব্লক পোস্টে আক্রমণের জন্য ক্ষমা চাইবে, পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নিজেদের সেনা বাহিনীকে বোমা আঘাত হানতে বারণ করবে ও পাকিস্তানের এলাকার উপর দিয়ে আমেরিকার ড্রোন চালনা বন্ধ করবে. পাকিস্তানের প্রধান মন্ত্রী ইউসুফ রেজা গিলানি সংসদ সদস্যদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, প্রশাসন এই পরামর্শ শুনবে. পর্যবেক্ষকরা পাকিস্তানের সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের আশা নাকচ করেন নি. তাদের মধ্যে আছেন রাশিয়ার রাজনৈতিক গঠন কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ, তিনি বলেছেন:

    “পাকিস্তানের সরকার, সব মিলিয়ে, খুব একটা তাড়াহুড়ো করছে না, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এখন অবধি নষ্ট হওয়া বন্ধুত্ব মূলক পারস্পরিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের জন্য. কিন্তু, বোধহয়, সকলেরই লক্ষ্য – সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই – এটাই এক জোট করেছে. আমি মনে করি যে, পাকিস্তানের রাস্তা খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু তা হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশী কঠোর শর্তে. তাছাড়া, পাকিস্তান খুবই বেশী করে আমেরিকার বিনিয়োগ ও সামরিক সহায়তার উপরে নির্ভর করে, আর এটাও হিসাবের মধ্যে রাখা দরকার”.

 আগামী মঙ্গলবারে পাকিস্তানের মন্ত্রীসভা আফগানিস্তানের ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর জন্য ট্রানজিটের মাল পাঠানোর রাস্তা খোলা নিয়ে আলোচনা করবেন. এই আলোচনাতে মন্ত্রীসভার প্রধান, পররাষ্ট্র মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী. সামরিক বাহিনীর প্রধান ও গুপ্তচর বাহিনীর প্রধানও অংশ নেবেন. প্রধান প্রশ্ন - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করার জন্য এগিয়ে যাওয়ার দরকার আছে কি নেই, যাতে মে মাসে ন্যাটো জোটের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেওয়া যেতে পারে.