রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি সুসিলো বামবাঙ ইউদইনো দুই দেশের মিলিত ভাবে রাশিয়ার বিমান “সুখই সুপারজেট – ১০০” ভেঙে পড়ার কারণের তদন্ত করার বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছেন. শুক্রবারে ইন্দোনেশিয়ার সহকর্মীদের সাহায্য করতে মস্কো থেকে জাকার্তায় রুশ প্রজাতন্ত্রের বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কুশলীরা উড়ে গিয়েছেন.

    রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন দপ্তর রাষ্ট্রপতির নির্দেশে ইন্দোনেশিয়াতে একটি মালবাহী বিমান “ইল – ৭৬” পাঠিয়েছে. তার মধ্যে রয়েছে – খোঁজ ও ত্রাণের উপযুক্ত হেলিকপ্টার, যন্ত্রপাতি ও এক দল কুশলী, যাঁরা পাহাড়ী জায়গায় কাজ করতে পারেন, এই কথা উল্লেখ করে বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক দপ্তরের ডিরেক্টর ইউরি ব্রাঝনিকভ বলেছেন:

    “এই দল সব রকমের উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ করতে সক্ষম, যারা তৈরী আছে সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতিতে কাজ করার জন্য, প্রায় সরাসরি উপরে উঠে যাওয়া পাহাড়ের ঢালে. আমাদের ইন্দোনেশিয়ার সহকর্মীদের থেকে আমরা যেমন জানি যে, বিমানটি এক খাড়া পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়েছে. তার ভাঙা অংশ নিচে পড়েছে, জঙ্গলের মধ্যে. সেখানেই আমাদের কুশলীদের কাজ করতে হবে”.

    এখন সমস্ত শক্তি সমস্ত অনুসন্ধান দলের একত্রিত করা হয়েছে, যাতে নিহতদের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়. ত্রাণ কর্মীরা পাহাড়ে চড়ার যন্ত্রপাতি দিয়ে হাতে করে ধরে সেই দেহ গুলি পাহাড়ের নীচে নামাচ্ছেন, আর তার পরে সেই গুলিকে হেলিকপ্টার দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে. ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকদের, যাঁরা এই বিমানে ছিলেন, তাঁদের আত্মীয়রা এর মধ্যেই নিজেদের ডি এন এ নমুনা দিয়েছেন শনাক্ত করার জন্য. এবারে বিশেষজ্ঞরা অপেক্ষা করছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকদের ডি এন এ নমুনা পাওয়ার জন্য.

    দুর্ঘটনার কারণ সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে – তা এই মুহূর্তে বেশ কয়েকটি রকমের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে. পাইলট ও বিমান পরীক্ষক ভ্লাদিমির বিরিউকভ মনে করেন যে, এই ক্ষেত্রে পাইলটের ভুল হতেই পারে না. তিনি একই সঙ্গে নিহত সুপারজেটের পাইলট আলেকজান্ডার ইয়াবলনত্সভের মতোই এই বিমান পরীক্ষা করেছেন, তাই তিনি বলেছেন:

    “ইয়াবলনত্সভের মতো পাইলট – যিনি একজন খুবই অভিজ্ঞ ও নেতৃ স্থানীয় পাইলট আর এই “সুখই অসামরিক বিমান” কোম্পানীর প্রধান পরীক্ষা কারী পাইলট, যিনি সকলের চেয়ে বেশী দিন এই বিমান চালনা করেছেন, তার সম্বন্ধে আমি বলতে পারি যে, তিনি অন্য সকলের চেয়ে এই বিমানের বিশেষত্ব জানতেন”.

    তদন্তকারীদের এখনও বিমান নিয়ন্ত্রণে রত কর্মীদের কাছ থেকেও জানতে হবে, যাঁরা এই বিমানটির উড়ান নিয়ন্ত্রণ করছিলেন. কি করে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ রাশিয়ার পাইলটকে পাহাড়ের চেয়ে নীচে নেমে ওড়ার অনুমতি দিয়েছিলেন? এই প্রসঙ্গে “আভিয়াপোর্ট. রু” সাইটের প্রধান সম্পাদক ওলেগ পান্তেলেয়েভ বলেছেন:

    “এই প্রশ্ন সম্ভবতঃ, বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে. এমনও হতে পারে যে, বিমানের পাইলট ও নিয়ন্ত্রকের বিভিন্ন ধারণা তৈরী হয়েছিল, বিমানের অবস্থান নিয়ে. আর এটাই ছিল দুর্ঘটনার কারণ”.

    রাশিয়ার “সুখই সুপারজেট – ১০০” বিমানটি ৯ই মে ইন্দোনেশিয়ার রাজধানীতে এক প্রদর্শনী উড়ানের সময়ে রাডার থেকে হারিয়ে যায়. পরে ১৬০০ মিটার উচ্চতায় পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার পরে তার ভাঙা অংশ দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. বিমানটিতে ছিল মোট ৪৫ জন মানুষ. তাঁদের মধ্যে – ৮ জন রুশী নাগরিক, আর তাঁদের সঙ্গে ইন্দোনেশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও ফ্রান্সের নাগরিকরা.