বেজিং শহরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে. এই বৈঠকের একটি প্রধান বিষয় ছিল আফগানিস্তানের পরিস্থিতি. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলি উল্লেখ করেছে: আফগানিস্তান যত দ্রুত স্বাধীন ও শান্তিপ্রিয় দেশে পরিণত হবে, ততই দ্রুত এই সমগ্র এলাকা স্থিতিশীল হবে.

    ছয়টি দেশের মন্ত্রীরা এখানে বৈঠকে উপস্থিত (রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্থান) হয়ে এক গুচ্ছ দলিল তৈরী করেছেন, যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আগামী ৬-৭ই জুনের শীর্ষ বৈঠকে বিবেচনা করা হবে. তার মধ্যে একটি হল বৈঠক শেষের সম্মিলিত ঘোষণা, যাতে বাস্তবে বিগত সময়ের বিশ্বের ঘটনা গুলির মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে.

    এই সংস্থার মূল কাজ হল – মধ্য এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা মজবুত করা. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলি ইচ্ছা প্রকাশ করেছে যে, তারা সঙ্কটের সময়ে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে চায়, একে অপরের কাছ থেকে তদন্ত ও পূর্বাভাস সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে এবং বিশেষ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করতে দিয়ে, বিপর্যয়ের এলাকা থেকে স্থানীয় জনতাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সহযোগিতা করে, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক বিষয়ে এবং মানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে.

    এই আলোচ্য বিষয়ের তালিকায় একটি মূল বিষয় রয়ে গিয়েছে আফগানিস্তানের সমস্যা. এই দেশের পরিস্থিতি সরাসরি ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির এলাকাতে প্রভাব বিস্তার করছে. ১৪ই জুন কাবুলে আফগানিস্তান সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলন হতে চলেছে. বৈঠকের শেষ সভাপতির বক্তৃতায় চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইয়ান শ্জেচি বলেছেন যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উপরে এই সমগ্র এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে. রাশিয়াও প্রধান হুমকি হিসাবে উল্লেখ করেছে আফগানিস্তানের থেকে উদ্ভূত মাদক পাচার ও অন্তর্ঘাতের সম্ভাবনা. মন্ত্রীরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, আগামী বৈঠকে সদস্য দেশ গুলির নেতাদের সামনে আফগানিস্তানের এই সংস্থায় পর্যবেক্ষক দেশ হিসাবে সংযুক্ত হওয়ার জন্য প্রস্তাব করা. মস্কোয় এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা হয়েছে, উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ, তিনি বলেছেন:

    “আফগানিস্তান ও তার চারপাশের পরিস্থিতি আমাদের গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে. আমরা মনে করি যে, আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে সমস্ত রকমের আন্তর্জাতিক আলোচনায় আমাদের অংশ নেওয়া প্রয়োজন, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনর্জন্মের জন্য সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার তরফ থেকে সকলে প্রস্তুতি অনুযায়ী সহমতে এসে একই অবস্থান থেকে যে কোন ধরনের আন্তর্জাতিক সমাজের সহযোগিতার বিষয়ে গঠন মূলক ভাবে আমাদের মতামত দেওয়া উচিত্.  এটাতে, কেন সন্দেহই নেই যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় আফগানিস্তানকে পর্যবেক্ষক হতে দেওয়া সাহায্য করবে”.

    আগামী বেজিং শহরের শীর্ষবৈঠকে ২০১৩- ২০১৫ সালের জন্য এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির তরফ থেকে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার মোকাবিলা করার পরিকল্পনাকে গ্রহণ করার কথা রয়েছে. তার সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন হবে দরকারি যোগাযোগের ব্যবস্থা তৈরী করার. রাশিয়া তৈরী রয়েছে নানা ধরনের উপায় পর্যালোচনা করে দেখতে: আঞ্চলিক সন্ত্রাস বিরোধী সভাকে বাড়তি দায়িত্ব দেওয়া অথবা স্বয়ং সম্পূর্ণ এক দপ্তর তৈরী করা.

    রাশিয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সমস্ত দেশের শক্তি ও ক্ষমতাকে একত্রিত করার স্বপক্ষে, তাই সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

    “সম্ভাব্য ব্যবস্থা গুলির মধ্যে – সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আঞ্চলিক সন্ত্রাস বিরোধী সভাকে এক সর্ব ক্ষেত্রে কার্য ক্ষম কেন্দ্রে পরিণত করতে চায়, যা নতুন বিপদ ও হুমকির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে. এই সভার কাজে বাড়তি সংযোগ হতে পারে পর্যবেক্ষক দেশ গুলির পক্ষ থেকে – ভারত, ইরান, পাকিস্তান, মঙ্গোলিয়া আর সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আলোচনার বিষয়ে সহকর্মী দেশ বেলোরাশিয়া ও শ্রীলঙ্কার যোগ দেওয়া”.

    সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হওয়ার দাবী করেছে আফগানিস্তান ও আলোচনার জন্য সহযোগী দেশ হতে চেয়েছে তুরস্ক. ভারত ও পাকিস্তান বহু দিন ধরেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্পূর্ণ সদস্য দেশ হতে চেয়েছে. এই প্রশ্নে বহু দিন ধরে নিরুত্তর থাকা সের্গেই লাভরভের মতে বিপরীত ফল দিতে পারে.