ভারত নিজেদের পাঁচ হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেশী উড়ে যেতে সক্ষম ব্যালিস্টিক রকেট “অগ্নি – ৫” একই সঙ্গে অনেক গুলি বিভিন্ন লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে এমন পারমানবিক অস্ত্র সহযোগে তৈরী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে. এই বিষয়ে বৃহস্পতিবারে ভারতের সামরিক গবেষণা ও নির্মাণ সংস্থার প্রধান বিজয় কুমার ঘোষণা করেছেন. এই ধরনের রকেটের সফল পরীক্ষা ভারত এপ্রিল মাসের শেষে করতে পেরেছে.

    বিজয় কুমারের ঘোষণা যেন পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবারে করা স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক রকেট “হাতফ-৩” এর পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে করা হয়েছে, যা ৫০০ কিলোগ্রাম অবধি ওজনের পারমানবিক বোমা বয়ে নিতে যেতে সক্ষম.

    দুই দেশের মধ্যে ঐতিহ্য হওয়া সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা স্বত্ত্বেও, বিগত কিছু কাল ধরে ভারত- পাকিস্তানের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ধরনের উষ্ণতার সঞ্চার হয়েছে. ইসলামাবাদ ভারতীয় ব্যবসায়ের জন্য সবচেয়ে ভাল সুবিধা দিতে তৈরী বলে ঘোষণা করেছে, যা আগেই দিল্লী করেছিল ইসলামাবাদের জন্য. বাণিজ্য সম্পর্ক আরও সক্রিয়ভাবে বাড়তে শুরু করেছে, ভিসা ব্যবস্থাও সহজ হচ্ছে. আশার ভিত্তি হয়েছে যে পরবর্তী কালে ভারত – পাকিস্তান সম্পর্কের উন্নতি হবে. তবে অবশ্যই যদি এই প্রক্রিয়াতে তৃতীয় কোন শক্তি হস্তক্ষেপ না করে.

    কিছুদিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন দিল্লীতে এসে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তানে নেতৃত্ব ভারত বিরোধী সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী লস্কর এ তৈবার প্রধান হাফিজ সঈদকে গ্রেপ্তার করার বিষয়ে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, যদিও প্রমাণ রয়েছে যে, সেই ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার প্রধান আয়োজক ও যে হামলার ফলে ১৬৬ জন মানুষ নিহত হয়েছেন. তাকে বিচারের জন্য তুলে দিতে দাবী করেছে ভারত. ক্লিন্টন পাকিস্তানের কাছে দাবী করেছেন যে, তারা নিজেদের দেশের এলাকাকে অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ঘাঁটি বানাতে দেবে না, এই বিষয়ে গ্যারান্টি দিতে বাধ্য. এই ধরনের ঘোষণা মনে তো হয় না যে, ভারত – পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল করার জন্য করা হয়েছে, এই কথা মনে করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের রুশ বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “এক দিক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে পাকিস্তানকে চরমপন্থার বিরুদ্ধে আরও সক্রিয় হতে আহ্বান করা সঠিক. অন্য দিক থেকে এটা খুব একটা সঠিক ভাবে করা হয় নি. যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াই আরও জোরদার করতে বলতে, তবে তাদের উচিত্ ছিল এটা প্রতিবেশী দেশের, ভারতের রাজধানী থেকে না ঘোষণা করার – যাদের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক এখনও উত্তেজক হয়েই রয়েছে. সুতরাং, যদি হিলারি দিল্লী থেকে এই ধরনের আহ্বান নিয়ে ঘোষণা করেন, তবে তা বেশীটাই করা হয়েছে ভারতের শ্রোতাদের জন্য, যত না পাকিস্তানের জন্য”.

    পাকিস্তান আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেই সহযোগী দেশ আর নেই, যা তারা ছিল বিগত কয়েক দশক ধরেই. ওয়াশিংটন, আগে পাকিস্তানের দিকে কড়া সমালোচনা এড়িয়ে গেলেও, এখন যে কোন সুযোগেই খুব রাগত ভাবে তাদের উদ্দেশ্য কথা বলছে. আর যে কোন রকমের সুযোগ পেলেই চেষ্টা করছে, পাকিস্তানের নেতৃত্বের উপরে চাপ সৃষ্টি করতে, তার মধ্যে, ভারত ও পাকিস্তানের বহু দিনের সমস্যা গুলিকে ব্যবহার করেও. ভারত- পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল করার ক্ষেত্রে এই ধরনের রাজনীতি কোন ভাবেই খাপ খায় না.