বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস বর্তমানে প্রধান সঞ্চয়ের মুদ্রায় পরিণত হয়েছে, আর বিনিয়োগের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি – এটা দেশ গুলিকে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেওয়ার পরিস্থিতিতে উপনীত করবে, এটাই মনে করেছেন বিশ্লেষকরা. রাশিয়া বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এর মধ্যেই বিশাল সাফল্য পেয়েছে. ২০১১ সালের সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমান ছয় হাজার পাঁচশো কোটি ডলার মূল্যের সমান হয়েছে, যা ২০১০ সালের তুলনায় শতকরা ৫০ ভাগ বেশী. একই সঙ্গে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও বেশী করেই বিনিয়োগকারীদের চোখে হেরে যাচ্ছে. বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন ধরেই উল্লেখ করছেন যে, বিনিয়োগের ধারা ধীরে হলেও দিক পরিবর্তনই করছে.

    আমেরিকার পিটারসন আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ইনস্টিটিউট এক প্রশ্নের উপস্থাপনা করেছিল যে, আন্তর্জাতিক অর্থনীতির কি ভবিষ্যত, যদি বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার দোহা শহরের আলোচনায় দেশ গুলি কোন সম্মিলিত অবস্থান তৈরী করতে না পারে তাহলে. ১১ বছর ধরে চলে আসা আলোচনাতে দেশ গুলি এখনও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ কমানোর বিষয়ে কোন সম্মিলিত ধারণায় উপনীত হতে পারে নি. পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট. ফলে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থায় পতনের আশঙ্কা তৈরী হয়েছে, এই কথা মনে করেছেন আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা.

    এই ধরনের ভয় দেখানোর মতো পূর্বাভাস অনেক দিনই আর কোন খবর নয়, এই কথা উল্লেখ করে আধুনিক বিকাশ ইনস্টিটিউটের পরামর্শদাতা নিকিতা মাসলেন্নিকভ বলেছেন:

    “এটা কোন একক ঘটনা নয়, যখন আমাদের বিশ্ব বাণিজ্য নিয়ে এক বিপর্যয়ের পরিস্থিতির কথা বলা হয়ে থাকে. আর এটা কটা দৃষ্টিকোণ, যা শুধু থাকতেই পারে. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আজ একেবারেই খুব ভাল নয়. গত বছরে বৃদ্ধির গতি ব্যাহত হয়েছে প্রায় অর্ধেকের বেশী. বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান তাঁদের বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ঘোষণা করেছেন. তাতে বলা হয়েছে যে, ২০১২ সালে বিশ্বের মোট বাণিজ্য শতকরা চার শতাংশের বেশী”.

    পিটারসন ইনস্টিটিউটের পূর্বাভাস অনুযায়ী পরবর্তী কালে আমেরিকা ও জাপানের পক্ষেই লাভ থাকবে, আর রাশিয়া, চিন ও ভারতের জন্য অপেক্ষা করছে অর্থনৈতিক সমস্যা.

    এটা সত্যই খুব আশ্চর্য জনক পূর্বাভাস, মনে করেছেন রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইওসিফ দিসকিন, তিনি বলেছেন:

    “এই ধরনের মূল্যায়ন পাওয়াটাই খুব অবাক কাণ্ড, কারণ তা অনেকটাই বিশ্ব ব্যাঙ্কের পূর্বাভাসের সঙ্গে মেলে না ও তারই সঙ্গে মেলে না বহু নেতৃস্থানীয় বিশ্লেষণ সংস্থার মূল্যায়নের সঙ্গেই. তাদের সকলেই একেবারে উল্টোটাই বলেছেন, ব্রিকস দেশ গুলির বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভূমিকা বৃদ্ধি ও তাদের প্রভাব বৃদ্ধির কথা”.

    খুবই সম্ভবতঃ, এই ধরনের পূর্বাভাস নিজের জন্য একটাই লক্ষ্য রাখে – নিজেদের দিকে বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা শুধু নিজেদের অবস্থানকেই এগিয়ে দেওয়া নয়. আমেরিকার অর্থনীতি খুবই বেশী রকমের বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের উপরে নির্ভর করে আর কোন ভাবেই ঝুঁকি নিতে তৈরী নয়, তাই ইওসিফ দিসকিন বিশেষ করে বলেছেন:

    “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমগ্র বিনিয়োগের ব্যবস্থা আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বণ্ডে পুনরায় বিনিয়োগের দামের উপরে নির্ভর করে রয়েছে. আজ ধার নেওয়ার দাম হল শতকরা এক শতাংশ প্রায়. যদি এই পুনর্বিনিয়োগের দান বেড়ে শতকরা তিন শতাংশ হয়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটা আর বাজেটের ক্ষমতায় কুলোবে না ও এত বেশী করে খরচ কমাতে হবে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনগনের জীবনযাত্রার মানের উপরেই তার প্রভাব পড়বে. এই পরিস্থিতিকেই যারা আমেরিকার অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ করেন, তাঁদের জন্য দুঃস্বপ্নের কারণ বলা যেতে পারে. এই ধরনের পূর্বাভাস করা হয়ে থাকে, যাতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের আগের মতই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি বণ্ডে বিনিয়োগের জন্য ঠেলা দেওয়া যায়”.

    কিন্তু এমনকি সবচেয়ে প্রভাবশালী বিশেষজ্ঞরাও এখন অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া গুলির উপরে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম নন. আর সেই গুলি স্পষ্টই সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, বিশ্বে নতুন শক্তির উদয় হচ্ছে, যাদের ভূমিকা পরবর্তী কালে শুধু বাড়তেই থাকবে.