রাশিয়ার তদন্ত পরিষদ ইন্দোনেশিয়ায় “সুখই সুপারজেট- ১০০” বিমান বিপর্যয়ের ঘটনা নিয়ে এক ফৌজদারী মামলা শুরু করেছে. এছাড়া বিপর্যয়ের কারণ নিয়ে এক আন্তর্জাতিক তদন্ত করার কথাও হয়েছে. সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই একমত হয়েছেন যে, এই বিপর্যয়ের কারণ হয়েছে দুটি ঘটনার এক সাথে হওয়া: আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন ও উড়ানের জন্য যথেষ্ট রকমের আয়োজন না থাকা.

    রাশিয়ার “সুখই সুপারজেট – ১০০”, ৯ই মে দিনের বেলা রাডার নিয়ন্ত্রণের পর্দা থেকে হারিয়ে যায়. এই বিমানের ধ্বংসাবশেষ আজ সকালে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে. এই বিমানটি ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা থেকে স্বল্প দূরে সালাক নামের এক খাড়া পাহাড়ের গায়ে ধাক্কা খেয়েছে. বিমানটি কয়েক মিটার উঁচু দিয়ে উড়ে গেলেই আর পাহাড়ে ধাক্কা খেত না, আর ধাক্কা খেয়েছে পাহাড়ের প্রায় চূড়ার কাছেই. “সুখই সুপারজেট – ১০০” এশিয়ার ছয়টি দেশে প্রদর্শনী উড়ান করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল. ২০০৯ সালে এই বিমানটি কারখানা থেকে পাওয়া গিয়েছিল ও এর মধ্যেই পাঁচশোরও বেশী বার, সব মিলিয়ে প্রায় ৮০০ ঘন্টা উড়েছে. বিপর্যয়ের আগে এই বারের প্রদর্শনী উড়ানের সময়ে বিমানে ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানীর সম্ভাব্য ক্রেতা দের প্রতিনিধিরা ছিলেন. এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কম অভিযোগ থাকা উচিত্ বিমানের বিরুদ্ধে. এই বিমান তৈরী করার সময়ে সেই সমস্ত প্রযুক্তি ও সমাধান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা সাধারণত ব্যবহার করা হয়ে থাকে দূর পাল্লার বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে, এই কথা ব্যাখ্যা করে “আভিয়াপোর্ট. রু” নামের সাইটের সম্পাদক ওলেগ পান্তেলেয়েভ বলেছেন:

“এর ফলে এমন এক বিমান তৈরী করা সম্ভব হয়েছে, যা একদিকে যাত্রীদের জন্য বেশ আরামদায়ক, আর অন্য দিক থেকে, এই বিমানে সংযুক্ত প্রযুক্তিগত সমাধান বিমান কোম্পানী গুলিকে অনেকটাই সাশ্রয় করার সুযোগ দেবে বিমান মেরামতের জন্য সময়ের ব্যবধান অনেকটা হওয়ার কারণে. অর্থাত্, বিমানে ব্যবহৃত নতুনত্ব ও ব্যবহারিক দিক থেকে এই বিমানকে তার প্রতিযোগীদের চেয়ে ভাল করতে সাহায্য করবে. এই বিমান চালনার ক্ষেত্রেও এক গুচ্ছ নতুন বিষয় যোগ করা হয়েছে, যা এই বিমান চালনার সময়ে ভুল সংশোধনে সাহায্য করবে আর বিমানকে সবচেয়ে বেশী নিরাপদ করবে”.

    এখানে অভিযোগ সম্ভবতঃ করা দরকার হবে ইন্দোনেশিয়া পক্ষের প্রতি, এই কথা মনে করে এক পাইলট ও বিমান পরীক্ষা বিশারদ মাগোমেদ তলবোয়েভ বলেছেন:

“একটাই কারণ – উড়ানের আয়োজন ঠিক করে করা হয় নি. আমরা সেখানে বিমান চালিয়েছি, তাই জানি যে, এটা খুবই কঠিন এলাকা, সেখানে আবহাওয়া খুব দ্রুত পরিবর্তিত হয়, কাছেই ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগর, তার সঙ্গে আবার বেশ কয়েকটি আগ্নেয় গিরি রয়েছে. সেখানে বিমান চালনা বেশ কঠিন. এই উড়ানের প্রস্তুতি এমন ভাবেই নেওয়ার দরকার ছিল যে, যাতে বিমান কুয়াশার মধ্যে না ওড়ে আর পাইলটরা জানে যে, সামনেই পাহাড় আছে”.

আজ দুর্ঘটনার জায়গায় ত্রাণ কর্মীরা কাজ করছেন. এই কথা সত্য যে, তাঁরা আর কাউকে জীবন্ত অবস্থায় পাওয়ার আশা করছেন না. “সুখই সুপারজেট – ১০০” বিমানের শেষ উড়ানে কজন যাত্রী ছিল, সেটা এখনও রয়েছে রহস্য হয়েই. বিভিন্ন খবর অনুযায়ী ৪০ থেকে ৫৫ জন. রাশিয়ার নাগরিক ছিলেন ৮ জন – বিমান চালক ও “সুখই” কোম্পানীর প্রতিনিধি দল.