ভ্লাদিমির পুতিন কথা রেখেছেন, ছোট্ট মেয়ে সোনিয়া ক্রেমলিন বেড়াতে যেতে পেরেছে. ৭ বছরের এক শিশু, যেই কঠিন রোগে আক্রান্ত হয়ে, রাষ্ট্রীয় বৈজ্ঞানিক শিশুদের ককর্ট রোগের চিকিত্সা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে, আর যাকে বর্তমান রাষ্ট্রপতি শীত কালে, তাঁর নিজের নিয়ন্ত্রণে তৈরী এই হাসপাতাল দেখতে গিয়ে ক্রেমলিনে বেড়ানোর জন্য আশ্বাস দিয়েছিলেন, সেই সোনিয়া বেড়াতে যেতে পেরেছে.

    জার কামান, জার ঘন্টা, গির্জা স্কোয়ার, ইভান দ্য গ্রেটের ঘন্টাঘর – মস্কোর ক্রেমলিনের দেখার মতো এই সবই আগে ছোট্ট সোনিয়া বইতে আর টেলিভিশনে দেখেছে. আর এবারে দেখতে পেয়েছে নিজের চোখে. তার জন্য, তার মা আর বাবার জন্য বিশেষ একটা বেড়ানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছিল, আর তারপরে তাদের সঙ্গে দেখা করেছেন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. চা পান পর্বে তিনি সোনিয়াকে তার কেমন লাগলো বেড়ানো ও শরীর কি রকম আছে, তা জিজ্ঞাসা করেছেন.

    ভ্লাদিমির পুতিন ও সোনিয়া পিয়াতনিত্সা গত বছরে মস্কোতে শিশু ক্যানসার রোগ হাসপাতাল খোলার সময়ে একে অপরকে প্রথম দেখেছিলেন. সোনিয়া আজ চার বছর ধরে এই ভয়ঙ্কর ক্যানসার রোগের সঙ্গে যুদ্ধ করছে. আর পুতিন এই শিশুদের জন্য বিশেষ কেন্দ্র, যা আরও এক ক্যানসারের কবলে মৃত শিশু দিমিত্রি রগাচোভের নামে খোলা হয়েছে, তার সমস্ত নিয়ন্ত্রণ নিজে করেছেন, কারণ তিনি যখন ২০০৫ সালে এই লিউকেমিয়া রোগে আক্রান্ত ১২ বছরের ছেলেটির সঙ্গে প্রথমবার দেখা করেছিলেন, তখন থেকেই ঠিক করেছিলেন এই ধরনের বাচ্চাদের জন্য বিশেষ কেন্দ্র খোলার বন্দোবস্ত করে দেবেন. গত বছরেই পুতিনের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়ে সোনিয়া বলেছিল যে, ক্রেমলিন বেড়াতে যেতে চায়. আর যখন এই বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে পুতিন আবার করে এই ক্যানসার চিকিত্সা কেন্দ্রে গিয়েছিলেন, তখন সোনিয়া আবার করে নিজের ইচ্ছার কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল:

    “- ভ্লাদিমির ভ্লাদিমিরোভিচ!

-   বল সোনা আমার.

-   আর আপনি আমাকে সেই বছরে বলেছিলেন ক্রেমলিন বেড়াতে নিয়ে যাবেন. কই নিয়ে তো গেলেন না.

-   যদি সব কিছু ভাল থাকে, তোমার শরীর সব কিছু ঠিক থাকে, আর আমি বিশ্বাস করি যে, এটা হবেই, তা হলে আমি তোমাকে ৯ই মে নিমন্ত্রণ করছি. আমাদের সেই দিন বিজয় দিবসের উত্সব হবে”.

ভ্লাদিমির পুতিন তাঁর কথা রেখেছেন – ৯ই মে বিজয় দিবসে সোনিয়া, তার মা ও বাবর জন্য ক্রেমলিনে বেড়ানোর বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন. মেয়েটির শরীরও সেই দিন ভালই ছিল. ২০০৮ সালে তার হাইপোথ্যালামাস প্রতিস্থাপনের অপারেশন হয়েছিল. শিশুটির শরীর এই প্রতিস্থাপিত অঙ্গ ভাল করে সহ্য করতে পারছে না, তাই মেয়েটিকে থাকতে হচ্ছে রাজধানীর চিকিত্সকদের নিয়ন্ত্রণে.

    দিমিত্রি রগাচোভের নামাঙ্কিত শিশু রক্ত বিজ্ঞান, কর্কট ও রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞান সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় বৈজ্ঞানিক চিকিত্সা কেন্দ্র এই বছরের জানুয়ারী মাস থেকে রোগীদের ভর্তি করা শুরু করেছে. পরিকল্পনা রয়েছে যে, প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই এই কেন্দ্র পুরোদমে কাজ করতে শুরু করবে, যখন সেখানে ৪০০ জন অবধি রোগী ভর্তি করা চলবে. এই কেন্দ্রে সব কিছুই করা হয়েছে, যাতে ছোট্ট রোগীদের সেখানে সুবিধা হয়: তাদের খেলার ঘর তৈরী করা হয়েছে, কার্টুন দেখার জন্য ভিডিও বন্দোবস্ত রয়েছে. বাবা মা শিশুদের সঙ্গে শুধু তাদের ঘরেই নয়, এমনকি ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটেও থাকতে পারেন. তাছাড়া, যাদের এখানে চিকিত্সা করা হচ্ছে, বিশেষ ধরনের বাড়ীতে সেই বাচ্চা নিয়ে বাবা মায়েরা থাকতে পারেন.