প্রিয় বন্ধুরা, ধন্যবাদ.  শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ – ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’. আজকের অনুষ্ঠাণে আছে

       দাগেস্তানের কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরান পাঠ.

     মস্কোর শহরতলীতে সবচেয়ে বড় মাংস বিক্রয়কর প্রতিষ্ঠান ‘খালাল-আশ’এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ইভান ভেত্রেনকো.

   মুকতাদা আস-সাদ্রা মুহাম্মদ আল-হারাভি আন্দোলনের প্রধান পরামর্শদাতা রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সাথে আলাপ-আলোচনা করেছেন.

    অতঃপর, আপনারা শুনছেন, ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’ নামক অনুষ্ঠাণ.

          হজরত মহম্মদ বলতেন, যে জ্ঞানার্জন মুসলমানের জন্য আবশ্যকীয়, তবে বৃদ্ধ বয়সে এটা করা শক্ত, আরও শক্ত আরবী ভাষা শেখা, যাতে পবিত্র কোরান পাঠ করা যায়.

           রামাজান রামাজানভ, যিনি দাগেস্তানের একটি গ্রামে বাস করেন, তিনি কোরানের আয়াত পাঠ করছেন. একদিন অকস্মাত তিনি পরিবার ও মালিকানা ছেড়ে দাগেস্তানের রাজধানী মাখাচকালায় চলে যান শুদ্ধভাবে কোরান পাঠ শেখবার জন্য.

            আমি আগেও কোরান পাঠ করেছি, তবে সঠিকভাবে নয়, তাজউইদের নিয়ম অনুযায়ী নয় – বলছেন রামাজানভ. ভুল শুদ্ধ করা শক্ত, তবে আমার শিক্ষকরা ছিলেন সহনশীল, এবং আমাকে পাঠ সঠিক করতে সাহায্য করেছিলেন. অল্পবয়সী, যারা শূ্ন্য থেকে শুরু করেছে, তাদের পক্ষে সহজ, কিন্তু আমার বয়সে, যে নিজেই শিখতে চেয়েছিলাম, এটা শক্ত কাজ.

       রামাজানের বয়স প্রায় ৬০ বছর, কিন্তু তিনি অল্পবয়স্কদের সাথে একত্রে আরবী ভাষা শিখতে শুরু করেছিলেন, কিছুদিনের জন্যে বাস্তব জীবনের কথা ভুলে গিয়ে এবং শুদ্ধভাবে কোরান পাঠ করতে শিখেছিলেন.

      মাহাচকালায় কেন্দ্রীয় মসজিদে কোরান পাঠের কোর্সে প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তরা আসে. শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস দেওয়া হয়, তাদের খাওয়া দাওয়া বিনা পয়সায়. কোরান পাঠ শিক্ষা ছাড়াও তারা আরবী ভাষার চর্চা করে দ্রুত বেগে.

           অধ্যাপক আহমেদ মহামেদভ বলছেন, যে কোর্সের মেয়াদ ৩ মাস. আমরা শুরু করি আরবী ভাষার স্বরবর্ণ দিয়ে, আর শেষ করি আল-বাকারার সুরা পাঠ শিক্ষা দিয়ে. তার পরে স্নাতকদের শিক্ষকের পদে তাদের নিজস্ব গ্রামে পাঠানো হয়, যাতে তারা আরও অল্পবয়স্ক ও শিশুদের শিক্ষা দিতে পারে. রামাজান রামাজানভ তাই করতে চান, কারণ তিনি জানেন, যে কোরান পাঠ শিক্ষা করা উচিত শৈশব থেকে.

             এবার রাশিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের খবর শুনুন.

      রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সদর দপ্তরে মুকতাদি আস-সাদ্রা আন্দোলন গোষ্ঠীর নেতা মহম্মদ আল-হারাভি ও রাশিয়ার মুফতি পরিষদের উপ-সভাপতি দামির গিজাতুল্লিনের মধ্যে সাক্ষাত্কারের আয়োজন করা হয়েছিল. ঐ সাক্ষাত্কারে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক পরামর্শদাতা তুয়াইমা মুত্তাইর হুসেন. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে রাশিয়ায় কোনো কোনো জাতি, যেমন তাতার ও বাশকিরদের জন্য ইরাক, বাগদাদের অগাধ মূল্য -  প্রায় ১হাজার ১শো বছর আগে ভোলগার তীরে সেখান থেকে সরকারী দূতেরা এসেছিল. এবারে ইরাকের প্রতিনিধিরা রাশিয়ার মুফতি পরিষদের উদ্যোগে পরিকল্পিত হালাল এক্সপো ও মস্কোয় আন্তর্জাতিক কোরান পাঠের প্রতিযোগিতার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে. ঐ সাক্ষাত্কারে দুই সংস্থার সাক্ষাত্কারে শিক্ষার জন্য মুফতিদের পারস্পরিক বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.

       চেচেনিয়ায় ১৫০ জন শিক্ষার্থী এখন ‘ছোট-হজ’ উদযাপন করছে. সৌদী আরবে তাদের যাত্রার আয়োজন করেছে আইমানি কাদিরোভার নামাঙ্কিত তহবিল. সেখানে শিক্ষার্থীরা ২ সপ্তাহ থাকবে. বর্তমানে চেচনিয়ায় ২০টি কর্মরত মাদ্রাসা, রাজধানী গ্রোজনীতে ঐস্লামিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী উচ্চ শিক্ষায়তন আছে.

 

           সেন্ট-পিটার্সবার্গে ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্রে আজান পাঠ করার মাস্টার-ক্লাস হয়ে গেল. ঐ মাস্টার-ক্লাসে অংশ নিয়েছিল পুরুষরা, যাদের মধ্যে কিশোররাও ছিল. ঐ মাস্টার-ক্লাস পরিচালন করেছেন আলজেরিয়ার আব্দুররহমান আবুহাবিলিয়া. উদ্দেশ্য ছিল – সেন্ট-পিটার্সবার্গের মুসলমানদের সঠিকধারায় আজান পড়ানো শেখানো.

            ভোলগা তীরবর্তী সারাতভ শহরে ‘শেখ সঈদ’ নামক মাদ্রাসায় শিক্ষারত ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সের শিশুদের কোরান পাঠের প্রতিযোগিতা হয়ে গেল. প্রতিযোগিতা মা-বাবাদের, আত্মীয়-স্বজনদের ও নগরবাসীদের উপস্থিতিতে নগরের কেন্দ্রে জুম্মা মসজিদে আয়োজিত হয়েছিল. উক্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল ১৬ জন বালক ও ৬ জন বালিকা. তারা দেড়মাস ধরে মুখস্ত করা ‘আন-নাবি’র ৭৮ তম সুরা আবৃত্তি করেছে. অনুষ্ঠাণ চলাকালে সংগঠকরা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যও কোরানের সম্পর্কে জ্ঞান নিয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল. বালকদের মধ্যে বিজয়ীকে বাই সাইকেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, বালিকাদের মধ্যে বিজয়ীনিকে দেওয়া হয়েছে নগদ পুরস্কার. বাকি প্রতিযোগীদের মধ্যে মিষ্টি বিলি করা হয়েছে.

             তাতারস্তানের কেন্দ্রীয় জুম্মা মসজিদে ‘কোরান উপহার দাও’ নামক দাতব্য অনুষ্ঠাণ আয়োজিত হয়েছিল. ইচ্ছুক যে কেউ, পবিত্র কোরান আরবী ভাষায় অথবা তাতার বা রুশী অনুবাদে পেতে পারতো.

       ‘ইসলাম ও মুসলমান’ নামক অনুষ্ঠাণ আপনারা শুনছেন রেডিও রাশিয়া থেকে.

       ১২ বছর আগে মস্কোর শহরতলীর হালাল-আশ নামক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাণ মাংস ও মাংস দিয়ে বানানো বিভিন্ন খাবার বিক্রি করে, যা মস্কো ও শহরতলীর প্রায় যে কোনো বড় সুপারমার্কেটে কেনা যায়.

          সেই সময়ে মস্কোয় হালালের মাংস প্রায় পাওয়াই যেত না. প্রতিষ্ঠাণের কমার্শিয়াল ডিরেক্টর ইভান ভেত্রেনকো বলছেন – মুসলিমদের খাদ্যদ্রব্য কেনার কোনো সুযোগ ছিল না. সেইজন্যই ১২ বছর আগে ‘হালাল’ ট্রেড মার্কে মাংসাশী খাদ্যদ্রব্য উত্পাদনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়. বিগত ১২ বছরে আমরা খাদ্যদ্রব্য নিয়ে পরীক্ষা করে দেখেছি, নিজেদের উত্পাদন করা খাদ্যদ্রব্যের উত্কর্ষ সাধন করেছি. আজকের দিনে আমাদের কোম্পানীকে মধ্য রাশিয়ায় অন্যতম প্রাচীণ, সেইসাথেই নতুন কোম্পানী বলে অভিহিত করবো. ব্যাখ্যা করে বলছি, কেন. কোম্পানীর মাল বিক্রি করার বাজার আছে, মুসলমানেরা খুব ভালো করে আমাদের ট্রেড মার্ক জানে এবং আমাদের বিক্রিবাটাও প্রচুর. একই সাথে, কর্তৃপক্ষ চায় না, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে, সেইজন্যই সালামি উত্পাদনের জন্য নতুন কারখানা বানানো হয়েছে, নতুন পদ্ধতিতে সালামি বানানো হবে, তার স্বাদ হবে অন্যরকম.

 

           নতুন কারখানা ইসলামের সমস্ত নিয়ম মেনে বানানো হয়েছে. যে সব ছুরিকাঁচি কেনা হয়েছিল, তারা এর আগে কখনো মাংস কাটেনি. নতুন কারখানার বিশেষজ্ঞরা ১ বছরের মধ্যে ২৫টি নতুন সালামির ক্যাটাগরি ভেবে বার করেছে.

    আমাদের কারখানায় মুখ্য ব্যক্তি হল – টেকনিশিয়ান, যে বাড়িতে যেমন স্ত্রী স্বামীর জন্য খাবার বানায়, সেই রকমই যত্নের সাথে প্রত্যেকটি নতুন খাদ্যদ্রব্য বানায় ক্রেতাদের জন্য. নতুন প্রকারের সালামি বানানোর প্রক্রিয়া অত্যন্ত সৃজনশীল. যেমন, আমাদের টেকনিশিয়ান বিভিন্ন প্রকারের চীজ ব্যবহার করে, ও সালামির স্বাদও সেইসাথে বদলায়. মস্কোয় এখন প্রচুর হালালের মাংস দিয়ে তৈরী খাদ্যদ্রব্য, কিন্তু আমাদের উত্পাদন করা খাদ্যদ্রব্যের বিশাল চাহিদা.

         ‘হালাল-আশ’ প্রতিষ্ঠাণ মস্কোয় আগামী ৭-১০ই জুন অনুষ্ঠিতব্য হালাল-এক্সপো নামক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে তাদের সর্বশেষ উত্পাদিত খাদ্যদ্রব্য প্রদর্শন করবে.

   প্রিয় বন্ধুরা, আমাদের ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’ নামক অনুষ্ঠাণ আজ এখানেই শেষ করছি. অনুষ্ঠামটি প্রস্তুত করেছেন ওলগা সিওমিনা. স্টুডিওয় ভাষ্যকারের ভূমিকায় ছিলাম আমি, শ্রী রথীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি. আল্লা আপনাদের মঙ্গল করুন.