মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে ইরানের খনিজ তেলের বিষয়ে নির্ভরতা কম করার বিষয়ে সাহায্য করবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন. তাঁর কথামতো, ওয়াশিংটন খুব শীঘ্রই ভারতে রাষ্ট্র দপ্তরের জ্বালানী নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের প্রধান কার্লোস পাস্কুয়ালের নেতৃত্বে এক দল বিশেষজ্ঞ পাঠাবে, যারা এই সমস্যা সমাধানের বিষয়ে সাহায্য করবে. বিষয়ের সম্বন্ধে বিশদ করে জানিয়েছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    এই ঘোষণা হিলারি ক্লিন্টন তাঁর সরকারি ভাবে পররাষ্ট্র সচিব হিসাবে চিন, বাংলাদেশ ও ভারত সফরের একেবারে পরেই করেছেন. হিলারি ক্লিন্টন খুবই জোর দিয়েছেন ভারতের নেতৃত্বকে ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানীর থেকে নিরস্ত করার জন্য. অনেক পর্যবেক্ষকই এই প্রশ্নকে তাঁর ভারতের সফরের মুখ্য উদ্দেশ্য বলে মনে করেছেন. হিলারি ক্লিন্টন এর আগেও একাধিকবার ভারতকে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞায় সামিল করতে চেয়েছেন. এবারে হুমকির বদলে এসেছে আশ্বাস. কিন্তু ভারত এখনও ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা বা তাদের তেল আমদানী করা থেকে নিরস্ত হয় নি. দিল্লী এর আগেও বহু বার ঘোষণা করেছে যে, তেহরান প্রসঙ্গে শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞাই তারা মানবে. আর ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র থেকে খনিজ তেল আমদানী করা চালিয়ে যাচ্ছে. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আলেকজান্ডার ভাভিলভ বলেছেন:

    “আমেরিকার লোকরা ইরানের খনিজ তেল আমদানী বয়কট ব্যাপারটা জোর করে চাপিয়ে দিতে চায়. এই ধরনের প্রচেষ্টা খুবই আশা করা যেতে পারে, কারণ, সব মিলিয়ে, আপাততঃ এটা আশানুরূপ ফল দিতে পারছে না. ইউরোপীয় সঙ্ঘ এটা শুধু জুলাই মাসে করতে চায়. কিন্তু এখানে কথা হচ্ছে ভারত, চিন ও আরও বহু দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশের কাছে, যাদের নিজেদের খনিজ তেলের উত্স কম, তাদের ইরানের খনিজ তেলের বদলী হিসাবে কোনও ব্যবস্থা বাস্তবে নেই. সুতরাং, এই ধরনের শক্তি প্রয়োগের কোনও ফল হবে বলে তো মনে হয় না. ইরানের খনিজ তেলের বদলী খুঁজে পাওয়া বেশ দুষ্কর, কারণ এখানে শুধু পরিমানই নয়, গুণগত মানের কথাও রয়েছে. এই কথা অনেকেই প্রায় ভুলে যান. যেমন, সিরিয়ার খনিজ তেল কেউই নিতে চায় না, কারণ তাতে সালফারের পরিমান অনেক বেশী, আর ইরানের তেল এত ভাল গুণের যে, বলা যেতে পারে, একেবারে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করা যায়. তাই সমস্যা রয়েই যাবে. সম্ভবতঃ, কিছু দেশে একটা প্রতীকী ভাব আমেরিকার সমর্থনে দেখিয়ে খনিজ তেল কেনা ইরান থেকে কিছুটা কমাবে. কিন্তু এই নিয়ে লড়াই চলতেই থাকবে”.

    এপ্রিল মাসে ভারত ইতিমধ্যেই ইরান থেকে খনিজ তেল কেনা শতকরা তিরিশ বাগ কমিয়ে দিয়েছে. কিন্তু আগের মতই চিনের পরেই তার সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়েই রয়ে গিয়েছে. প্রতিদিন এই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র থেকে ভারতে আমদানী করা খনিজ তেলের পরিমান তিন লক্ষ ব্যারেলের বেশী হয়ে থাকে, যা প্রায় শতকরা ১১ শতাংশ ভারতীয় প্রয়োজন পূরণ করে থাকে. সম্ভবতঃ ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী একেবারে বন্ধ করে দিলে, তা ভারতীয় অর্থনীতির উপরে খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এই উল্লেখ করেছেন ভারতের খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডী.

    কয়েক দিন আগে এক খবর বেরিয়েছে যে, ইরানের লোকরা খনিজ তেলের বদলে চিনের ইউয়ান মুদ্রায় দাম নিতে শুরু করেছে. এক মাস আগে একই ভাবে ভারতের কাছ থেকে খনিজ তেলের জন্য ভারতীয় টাকা নেওয়া শুরু করেছিল. তাহলে দেখা যাচ্ছে যে, আমেরিকার ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞায় শুধু আন্তর্জাতিক ব্যবসায় ডলারের বাগই কমছে. উল্লেখ যোগ্য যে, একই সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিবের দিল্লী সফরের সময়ে ভারতে এর ইরানী ব্যবসায়িক প্রতিনিধি দলও ছিল. তাদের লক্ষ্য ছিল ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একসাথে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা পার হওয়ার পথের সন্ধান.