রাশিয়া আজ মহান পিতৃভূমি যুদ্ধ বিজয়ের ৬৭তম বার্ষিকী উদযাপন করছে. রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল যেমন ভ্লাদিভাস্তক থেকে কালিনিনগ্রাদ পর্যন্ত সবখানিই আজ নানা উত্সবের আয়োজন করা হয়েছে. তবে বিজয় দিবসের প্রধান আকর্ষণ  হচ্ছে মস্কোর রেড স্কোয়ারের ঐতিহাসিক সামরিক কুচকাওয়াজ.

   সময়ের পার্থক্য থাকায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে. রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা আয়োজন করা হয়েছে. সব জায়গাই আজ বাজানো হচ্ছে যুদ্ধের সেই গানগুলো.

  টানা ৪ বছরের ওই যুদ্ধে রাশিয়ার ২৩ মিলিয়নেরও বেশী মানুষ মারা গিয়েছিল. প্রতিটি বছরে এই বিজয় অনুষ্ঠানের প্রানকেন্দ্রে থাকেন ভেটেরানরা যারা জীবন বাজি রেখে ১৯৪১ সালে যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন. এদের মধ্যে যারা জীবিত আছেন তাদের মধ্যে কম বয়সের যোদ্ধার এখন বয়স হচ্ছে ৮৫ বছর.

  রাশিয়ার পশ্চিমের একটি শহর হচ্ছে স্মোলেনস্ক. এখানেও জার্মান সৈন্যরা হামলা চালিয়েছিল. আজ বিজয় দিবসের এই দিনে শহরের অধিবাসীরা ছাড়াও সামরিক একাডেমীর শিক্ষার্থীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন. তারা ভেটেরানদের সামনে কবিতা ও যুদ্ধ বিষয়ক গান পরিবেশন করেন.

  ৯ মে শুধুমাত্র রাশিয়ার জন্যই বিশেষ দিন নয়. স্বাধীন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রবর্গের জন্যও ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ. বলছিলেন কিরগিজিস্তানের সামরিক শিক্ষার্থী আজাত রাহমাতোভ. ‘আমার মতে, ৯ মে প্রতিটি দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ. আমাদের এখানেও বিজয় দিবসের দিনে রুশ গান গাওয়া হয়’.

 

  বিজয় দিবস একই সাথে আমাদের আরও একটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয় এবং তা হল আমাদের চিন্তা করা উচিত যেন এ ঘটনার আবার পুনরাবৃত্তি না ঘটে. এমনটি বলছিলেন যুদ্ধের সময় অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া সাইবেরিয়ার জাবাইকালের একটি গ্রামের অধিবাসী ভেরা পালমানোভা. তিনি বলছেন,     ‘শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা উচিত এবং এই শান্তি ধরে রাখা উচিত যেন আপনারা কখনও জানতে না পারেন যে, যুদ্ধ কাকে বলে. আপনারা জানবেন না যে যুদ্ধ ক্যাম্প কি. সেখানে অনেক শিশু নিহত হয়েছিল. সৌভাগ্যক্রমে আমি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলাম’.

  রাশিয়ার উত্তর ককেশাসের চেচনিয়া প্রজাতন্ত্রে বাড়তি নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বিজয় দিবস পালিত হচ্ছে. চেচনিয়ার জন্য এ দিনটি শুধুমাত্র উত্সবেরই নয় বরং একই সাথে ক্যালেন্ডারের একটি কালো দিন. উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৯ মে গ্রোজনী শহরে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের দিন চেচনিয়ার রাষ্ট্রপতি আহমাদ কাদিরোভকে হত্যা করা হয়.

  বিজয় দিবস বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে. এ ক্ষেত্রে উল্লেখ না করলেই নয় ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হওয়া কুচকাওয়াজ. সেখানের জেরুজালেম, তেল-আবিব ও হাইফা শহরে ভেটেরানদের শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে. পিতৃভূমি যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এমন ১০ হাজার মানুষ বর্তমানে ইসরাইলে বাস করছেন.