কয়েক মিলিয়ন রুশীদের কাছে ‘সেন্ট জর্জ ফিতা’ ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে মহান পিতৃভূমি রক্ষা যুদ্ধে বিজয় অর্জনের প্রতীক হিসেবে স্থান পেয়েছে. ভেটেরানদের প্রতি সম্মান ও নিহত যোদ্ধাদের আত্বার শান্তি বহন করছে এ ফিতা. এ বছরে টানা দুই সপ্তাহ ধরে এই ‘সেন্ট জর্জ ফিতা’  রাশিয়া ছাড়াও বিশ্বের ৯২টি দেশে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে.

      রাশিয়ার শিক্ষার্থীরা এই প্রচারাভিযানের আয়োজন করেছে. সমাজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিকে আরও জাগরণ করে তোলার জন্যই ২০০৫ সাল থেকে রুশী শিক্ষার্থীরা এই অভিযান শুরু করেছিল. স্বেচ্ছাসেবকরা পথচারীদের মাঝে কমলা- কালো রঙের ফিতা বিলি করেছেন. রাশিয়া ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এই ফিতা সংগ্রহের জন্য বেশ আগ্রহ সৃষ্টি হয়. রাশিয়ায় ফুটপাতে এ ফিতা বিলি করা গেলও দেশের বাইরে তা সরবরাহ করা খুব একটা সহজ কাজ নয়. বলছিলেন ছাত্র সংলাপ সংগঠনের পরিচালক ভাসেলী আভচিন্নীকোভ. তিনি বলছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত রুশী তরুণরা এই কর্মসূচির কথা জানতে পেরে নিজেরাই ৪ বছর আগে এ অভিযানে অংশ নিয়েছেন. এ ফিতা তৈরী করা খুবই সহজ, সাদা কাপড়ে মার্কার কলম দিয়ে কালো ও কমলা রং লেপে দিলেই তৈরী হয়ে যাবে’.

    রেডিও রাশিয়া ৬ বছর ধরে ‘সেন্ট জর্জ ফিতা’ প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছে. কালো-কমলা রং ধারী এই ফিতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার মানুষ আমাদের কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন. বলেছেন  রেডিও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক প্রকল্পের সমন্বকারী সোফিয়া বেরেঝকোভা.

‘আমাদের অনেক শ্রোতা এই ফিতা পেয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা স্মরণ করেছেন. এ বছর আমরা সেন্ট জর্জ ফিতা পাঠিয়েছি বিদেশে রুশিদের সংগঠন, রাশিয়ার বন্ধুদের ক্লাব ও আমাদের শ্রোতাদের, যাঁরা এই ফিতার জন্য আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন.

    যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়াসহ দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে ইতিমধ্যে এ ফিতা বিলি করা হয়েছে. আমি মনে করছি, এই বছরে আমাদের সাইটে ছবি গ্যালারি দেওয়া হবে, যেখানে আমাদের শ্রোতাদের তোলা ছবিও থাকবে.

পৃথিবীর প্রতিটি মহাদেশে সেন্ট জর্জ ফিতা প্রচারাভিযানে অংশগ্রহণকারীরা ছড়িয়ে

আছেন. উত্সবের এই দিনগুলোতে এ ফিতা সবাই পোশাক, ব্যাগ ও গাড়ির এ্যান্টিনায় বাঁধবেন. তাদের  স্লোগান হবে- ‘মনে রেখেছে ও গর্ব করি!’.