দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ফ্যাসিস্ট জার্মানীর বিরুদ্ধে বিজয় দিবস উত্সবের প্রাক্কালে রাশিয়ার বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক কারেন শাখনাজারোভের নতুন সিনেমা “সাদা বাঘ” রাশিয়ার সিনেমা হল গুলিতে দেখানো শুরু হয়েছে.

    এই ফিল্মে দেখানো হয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের এক ইতিহাস. এটা একটা বিস্ময়কর ভাবে বেঁচে যাওয়া সোভিয়েত ট্যাঙ্ক চালক ও আর একটা ফ্যাসিস্ট ভৌতিক ট্যাঙ্ক যাকে “সাদা বাঘ”, আখ্যা দেওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে এক উত্তেজনায় টানটান লড়াই. এই ট্যাঙ্ক কোন চালক ছাড়াই হঠাত্ করে উদয় হয়, আবার মিলিয়ে যায়, সোভিয়েত বাহিনীর পিছনে আচমকা উদয় হয়ে, সৈন্য বাহিনীর ক্ষয় ক্ষতি করে, হত্যা করে, সন্ত্রাস ছড়িয়ে যুদ্ধের গতি ভঙ্গ করে দেয়... রাশিয়ার এক সেনা এটাকে যুদ্ধ ঘোষণা করে. “এক জ্যান্ত মানুষ একটা আত্মাহীণ ভূতের প্রতিপক্ষ হয় – এটাতেই রয়েছে কিছুটা উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো, ভাববার মতো কারণ” – এই রকমই মনে করে বিখ্যাত পরিচালক প্রথমবার যুদ্ধের বিষয় নিয়ে সিনেমা তৈরী করেছেন.

    “যাতে আমি শেষমেষ যুদ্ধ নিয়ে সিনেমা করি, তার জন্য অনেক ঘটনার একসাথে হওয়ার দরকার ছিল” – এই কথা স্বীকার করে কারেন শাখনাজারোভ “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

    “প্রথমতঃ, যখন সিনেমা তোলা হয়. তখন সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ হল, কোন একটা ইতিহাসকে ছোঁয়া. যা তোমার জন্যই আগ্রহের ও চিত্তাকর্ষক. এখানে লেখক ইলিয়া বইয়াশভ যে ইতিহাস কল্পনা করেছেন, তা আমার কাছে আগ্রহ জনক মনে হয়েছিল. এটা এমন এক দারুণ আর রোমাঞ্চকর ইতিহাস, যা যুদ্ধের বাস্তবের মধ্যেই ঢুকে পড়েছে. দ্বিতীয় বিষয় হল – যুদ্ধের চলচ্চিত্র তোলা খুবই কঠিন, এই ধরনের কাজের জন্য নিজেকে ভিতর থেকে প্রস্তুত হতে হয়. আমি এর আগে পর্যন্ত যুদ্ধের বিষয় কখনও ছুঁয়ে দেখি নি. শুধু প্রযোজক হয়েছিলাম নিকোলাই লেবেদেভের “নক্ষত্র” নামের চলচ্চিত্রের – হিটলারের বাহিনীর পিছনে রুশ গুপ্তচরদের সাফল্য নিয়ে এক সিনেমায় – কিন্তু এটা অন্য ব্যাপার. আর এবারে ঠিক করেছি, যে, আমি প্রস্তুত. আর, তৃতীয় বিষয় হল – বিবেক – আমার বাবা ফ্যাসিস্টদের সাথে যুদ্ধ করেছেন. আমার ইচ্ছা হয়েছে তাঁকে ও তাঁর যুদ্ধের সময়ের সঙ্গীদের প্রতি, নিজের সম্মান প্রদর্শন করার”.

    “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ – এই বিষয় শেষ হওয়ার নয়. তার সম্বন্ধে ছবি তোলা হয়েছে, হচ্ছে ও আরও হবে” – এই কথাই বিশ্বাস করেন শাখনাজারোভ. আর এটাও জানা যে, বর্তমানে যুদ্ধ ক্ষেত্রের ছবি তোলা কম্পিউটার গ্রাফিক ব্যবহার না করে আয়োজন করা, আরও কঠিন হয়েছে. “সাদা বাঘ” চলচ্চিত্রে, বলা দরকার যে, বেশীর ভাগ যুদ্ধ ক্ষেত্রের অংশই তোলা হয়েছে বাস্তবে, কারণ “মসফিল্ম” সিনেমা কোম্পানী, যেখানে এই ছবি তোলা হয়েছে, তাদের নিজেদের এক বিরল প্রযুক্তিগত ভিত্তি রয়েছে. এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের অস্ত্র সংরক্ষণ করা হয়ে থাকে. কারেন শাখনাজারোভ বলেছেন যে, “এই সব অস্ত্র কাজ করার উপযুক্ত. বিশেষজ্ঞরা সবাই খুব ভাল, যারা আগে নিজেরাই যোদ্ধা ছিলেন, তারাই এই গুলিকে সংরক্ষণ করেন, আর তা বেশ ভাল অবস্থাতেই রয়েছে. এমন কখনও হয় নি যে, ট্যাঙ্ক সিনেমা তোলার সময়ে চালু হয় নি, সবই চলেছে, যেন “মার্সেডিজ” গাড়ী. আর অনেক অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করা হয়েছে, সেই গুলির বয়স ৭০ পার হয়েছে. কিন্তু এটা সত্যি যে, এই সিনেমা তোলার আগে সব কিছুরই অনেক গভীর পর্যন্ত ভাল করে মেরামত করা হয়েছিল”.

0    প্রসঙ্গতঃ, শুধু যুদ্ধই নয়, সমস্ত ভৌতিক ব্যাপার, পরিস্থিতির নাটকীয়তা পরিচালককে আচ্ছন্ন করেছিল, এই জীবনে প্রথম সামরিক বিষয়ে সিনেমা তোলার আগে. নিজের জীবনের ষাট বছর পার হয়ে এসে (এই জুলাই মাসে শাখনাজারোভের ষাট বছর হবে), তিনি বলেছেন: “যতই আমি বয়স্ক হচ্ছি, তত বেশী করেই আমার মনে প্রশ্ন তৈরী হচ্ছে: যুদ্ধ কি আসলে আমাদের জীবনেরই একটা অংশ নয়? আমার নিজের কাছে কোনও উত্তর নেই. কিন্তু উত্তর দিতে ইচ্ছা হয় লেভ তলস্তয়ের মতো, তাঁর “যুদ্ধ ও শান্তি” উপন্যাসে, তিনি যেমন বলেছেন: যুদ্ধ হয়েছে, যা মানুষের জন্য তার প্রকৃতির বিরোধী. কিন্তু সারা ইতিহাসই আমাদের বলে উল্টোটাই: যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব নয়. কিন্তু এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াও যায় না.”