প্রজন্ম বদলাচ্ছে, দশকের পর দশক অতিক্রান্ত হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ১৯৪৫ সালে নাত্সীবাদকে জয় করা এখনো সারা পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষের কাছে এটা সবচেয়ে স্মরণীয় ঐতিহাসিক ঘটনা. জাতিসংঘ ৮ই ও ৯ই মে কে স্মৃতি ও শান্তিস্থাপণ দিবস বলে ঘোষণা করেছে. রাশিয়ায় ৯ই মে – পবিত্র ও সর্বজনের প্রিয়তম উত্সব. কারণ রাশিয়ার প্রতিটি পরিবারেই ছিল বা আছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধকারী. প্রতিটি পরিবারেই এই দিন স্মরণ করা হয় সেই সব আত্মীয়দের, যারা বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর যুদ্ধের ফ্রন্ট থেকে আর ফিরে আসেনি.

      ইউরোপের বহু দেশের নাগরিকেরা ৮ই মে ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণ দিবস পালন করে. এই দিনে পোল্যান্ডের প্রাক্তন সৈনিকদের সব সংস্থা তাদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে. আর পরের দিন ঐ সব জীবিত সৈনিকদের ওয়ারশয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতাবাসে আমন্ত্রণ করা হয় পোল্যান্ডের স্বাধীনতা পুণরূদ্ধার করার সংগ্রামে যে সব সোভিয়েত সৈনিক জীবন দান করেছিল, তাদের স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পার্পণ করার জন্য.

     প্যারিসে অজানা সৈনিকের স্মৃতিস্তম্ভের পাদস্থলে ৮ই মে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি মালাপ্রদান করেন. ঐ অনুষ্ঠাণে ছোট একটা ফৌজ মোতায়েন থাকে. বলছেন ফরাসী রাজনীতিতত্ত্ববিদ দমিত্রি দ্য কোশকো.

         ৮ই মে ফ্রান্সে এখনো স্মরণ করা হয়. অবশ্যই নাত্সীবাদের বিরূদ্ধে বিজয়. তবে দুঃখের বিষয়, যে ইদানীং ফরাসীরা ইতিহাস ভুলে যেতে শুরু করেছে. বিশেষতঃ, অনেকেরই দৃঢ় বিশ্বাস, যে নর্মান্ডিতে ১৯৪৪ সালের ৬ই জুন মার্কিনী ও বৃটিশ সেনাবাহিনী অবতরন করার দৌলতেই নাকি জয়লাভ করা সম্ভব হয়েছিল. আর সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিপুল অবদানের কথা তারা ভুলে যেতে শুরু করেছে. আমার আশা এই, যে আগামী বছরে যখন স্তালিনগ্রাদের লড়াইয়ে সোভিয়েত বাহিনীর জয়ের জয়ন্তী পালিত হবে, তখন আমরা ফরাসীদের স্মরণ করিয়ে দিতে সক্ষম হব নাত্সীবাদের বিরূদ্ধে বিজয় কতখানি মূল্যে অর্জিত হয়েছিল.

      জার্মানীতে ৯ই মে পালন করা হয় নাত্সীবাদের হাত থেকে মুক্তি দিবস হিসাবে. অবশ্যই এটা খেয়াল রেখে, যে দেশ ঐ যুদ্ধে পরাজয় বরন করেছিল ও আত্মসমর্পন করেছিল. বলছেন জার্মান সাংবাদিক ও রাজনীতিতত্ত্ববিদ আলেক্সান্দর রার.

      ৯ই মে সোভিয়েত সৈনিকদের প্রতি উত্সর্গীকৃত অসংখ্য স্মৃতিস্তম্ভে মাল্যদান করা হবে. অনুষ্ঠানে অংশ নেবে রাশিয়ার দূতাবাস ও অন্যান্য সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধিরা, বার্লিন ও তার আশেপাশে বসবাসকারী রুশী ও অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রের নাগরিকরা. তাছাড়াও জার্মান বামপন্থী কিছু রাজনীতিবিদ, যাদের পূর্বপুরুষরা হয় ফ্যাসিবাদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করেছে, নতুবা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী ছিল. অবশ্যই রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতাবাসে জীবিত সোভিয়েত সৈতিকদের আপ্যায়ন করা হবে, যাদের অনেকেই জার্মানীতে বসবাস করেন.

      আমেরিকায় হিটলারবাদের বিরূদ্ধে বিজয় উপলক্ষ্যে সবচেয়ে উদ্দীপক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয় ২৫শে এপ্রিল. ঐ দিন মৈত্রীশক্তি সোভিয়েত ইউনিয়ন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈনিকরা জার্মানীর এলবা নদীতে মিলিত হয়েছিল. এই উপলক্ষ্যে ওয়াশিংটনে সরকারী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়. আর্লিংটন সমাধিক্ষেত্রে স্মৃতিফলকে মাল্যদান করে রাশিয়া ও অন্যান্য বহু দেশের দূতাবাস এবং বিভিন্ন সরকারী মার্কিনী দপ্তর. বলছেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জীবিত সৈনিক ডেভিড উইলেট.

            আমরা সবাই যুদ্ধ করেছিলাম একটাই উদ্দেশ্য নিয়ে – হিটলারকে নিপাত করা. আমি আমার উপস্থিতিতে সোভিয়েত সৈনিকদের সম্পর্কে কোনো খারাপ উক্তি সহ্য করবো না. রুশীরা আমাদের জন্য যা করেছে, তা কোনোদিন ভোলা যাবে না. আমরা চিরকাল তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো. আমার ইচ্ছা এই, যে এরকম সম্পর্ক যেন আরও গাঢ় হয়, এবং আমাদের দুই দেশের রাষ্ট্রপতিরা যেন এমন সম্পর্কে মদত দেয়.

       নাত্সীবাদ ছিল মানব জাতির মুখ্য সব স্বাধীনতার অধিকার ও মূল্যবোধের শত্রু, সবার আগে - বেঁচে থাকার অধিকার, উল্লেখ করছেন ডেভিড উইলেট. তার বিরূদ্ধে যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ জাতিদের জিততেই হতো.