৭ইমে – রেডিও দিবস. এই দিনেই উনবিংশ শতকের শেষে রাশিয়ার বিখ্যাত বিজ্ঞানী আলেকজান্ডার পাপোভ, তাঁর নিজের তৈরী রেডিও যন্ত্র উপস্থাপিত করেন. একশ বছর পরে বিশ্বে বহু রকমের বৈদ্যুতিন তথ্য সম্প্রচারের যন্ত্র নতুন করে আবিষ্কৃত হয়েছে, কিন্তু রেডিও আগের মতই একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক সংবাদ প্রচার মাধ্যম হয়েই রয়েছে, খবরের কাগজ, টেলিভিশন ও ইন্টারনেটের সঙ্গে সমান তালে পা ফেলে.

    ১৮৯৫ সালের ৭ই মে সভ্যতার বিকাশের ক্ষেত্রে নতুন এক পাতার উন্মেষ হয়েছিল. রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে পদার্থ- রসায়ন বিদ্যা সমাজের সভায় পদার্থ বিদ আলেকজান্ডার পাপোভ তাঁর বিস্মিত সহকর্মীদের সামনে দেখিয়ে ছিলেন, কিভাবে তড়িত্-চুম্বকীয় তরঙ্গ মানুষের কন্ঠস্বরে পরিণত হয়. তিনি নিজে খুশী হয়েছিলেন তাঁর আবিষ্কার ৬৪ মিটার দূরে কাজ করতে সক্ষম হয়েছে বলে. এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় প্রবেশ করেছে – শুরু হয়েছিল এর পর থেকেই টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি. রাশিয়াতে নিয়মিত ভাবে রেডিও তরঙ্গে তথ্য প্রচার শুরু হয়েছিল ১৯২৪ সালে. আর ১৯৪৫ সালে – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মহান বিজয়ের বছরে – সোভিয়েত দেশে উত্সবের দিন হিসাবে এই দিনকে ঘোষণা করা হয়েছিল “রেডিও দিবস” হিসাবে.

    বিংশ শতকের শুরুতে রেডিও শোনার যন্ত্রকে আশ্চর্য বলেই মনে করা হত. কিন্তু তার পর থেকে রেডিওর দিন শেষ বলা হয়েছিল বহুবারই. প্রথমে – যখন টেলিভিশন এসেছিল, তারপরে- ইন্টারনেট উদ্ভবে. কিন্তু তা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পেরেছে ও আজও একটি সবচেয়ে দ্রুত কর্মক্ষম ও গণতান্ত্রিক সংবাদ মাধ্যম হিসাবেই পরিচিত হয়ে রয়েছে. রেডিও তরঙ্গ মানুষকে জোট বদ্ধ করে, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা গুলির সঙ্গে একটা সহযোগিতার পরিবেশ তৈরী করে দেয়, এই রকম মনে করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সভাপতি ইয়াসেন জাসুরস্কি বলেছেন:

    “আমি রেডিও খুবই ভালবাসি. এটা তথ্য প্রচার, যোগাযোগ, আলাপের একটি সবচেয়ে বিশ্ব স্বীকৃত মাধ্যম. কিন্তু এর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল যে, মানুষের কন্ঠস্বরের জন্য তা বিরল তম – যা যে কোন রকমের অনুভূতির স্তর ও মানসিকতাকে পৌঁছে দিতে পারে”.

    বর্তমানের জীবন রেডিও তরঙ্গ ছাড়া অনুমান করাও খুব কঠিন, যা খবর নিয়ে আসে, সঙ্গীত ও নানা রকমের তথ্য পৌঁছে দেয়. আজ রাশিয়াতে প্রায় দেড় হাজার রেডিও স্টেশন কাজ করছে, যারা নানা রকমের তরঙ্গ স্তরে প্রচার করছে. পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ষাট শতাংশ মানুষ রেডিও শোনেন এই দেশে. এখন পরিবর্তন এসেছে, নতুন যুগ শুরু হয়েছে – ডিজিট্যাল প্রচারের. রেডিও সঙ্কেতের এই রকমের প্রচারের জন্য এবারে রেডিও স্টেশনের সংখ্যা অনেক গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে ও তাদের গুণ মানও বাড়বে.

    আজ এই কঠিন প্রতিযোগিতার সময়ে আমাদের রেডিও স্টেশন “রেডিও রাশিয়া”, যা ১৯২৯ সাল থেকে বিদেশে প্রচার শুরু করেছে, তা এখনও নিজের অবস্থান বজায় রাখতে পেরেছে, আর শুধু তাই নয়, এখনও নতুন শ্রোতাদের হৃদয় জয় করার কাজ করে চলেছে. প্রতি দিনে বিশ্বের ৩৮টি ভাষায় “রেডিও রাশিয়ার” প্রচার করা হয়, যা বহু কোটি শ্রোতাদের কাছে বিশ্বের সমস্ত মহাদেশে রাশিয়াতে যা কিছু ঘটছে, তা রাজনীতি, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, সমাজ জীবন, সমস্ত কিছুকেই পৌঁছে দিচ্ছে. মস্কো থেকে এই অনুষ্ঠান শোনা যায় বিশ্বের ১৬০টি দেশে ১৫০ ঘন্টার বেশী সময় ধরে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি তরঙ্গে, এফ এম রেডিও তরঙ্গে, উপগ্রহ মারফত পৌঁছে দেওয়া চ্যানেলে, মোবাইল টেলিফোনে. এছাড়া সমস্ত বিষয় বস্তু জানতে পারা যায় রেডিও রাশিয়ার সাইটে www.ruvr.ru,  যা ৩৩টি ভাষায় লেখা হয়. “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধিত্ব মূলক অফিস এখন খোলা রয়েছে ওয়াশিংটনে, কিয়েভে আর লন্ডনে. পরিকল্পনা রয়েছে, বিশ্বের আরও দশটিরও বেশী দেশে তা খোলার – জার্মানী, ব্রাজিল, বালকান এলাকায় ও মধ্য এশিয়াতে. “রেডিও রাশিয়ার” সৃষ্টি বিভাগের আরও বহু আগ্রহোদ্দীপক ও নতুন প্রকল্প রয়েছে. সবচেয়ে খোলা মনে রেডিও দিবসে “রেডিও রাশিয়ার” শ্রোতা ও দপ্তরের সকলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিনের কন্যা ও মস্কোর ক্রেমলিনের জাদুঘরের ডিরেক্টর এলেনা গাগারিনা, তিনি বলেছেন:

    ““রেডিও রাশিয়ার” সকল শ্রোতাদের এই উল্লেখযোগ্য উত্সবের দিনে শুভেচ্ছা জানাই. আর “রেডিও রাশিয়ার” কর্মী বিভাগের সকলকে জানাই বিকশিত হওয়ার আশা এবং আরও এই কামনা যে, “রেডিও রাশিয়াতে” কাজ করতে যেন বেশী করে অল্প বয়সী প্রতিভাধর লোকরা আসেন, যাদের দৃষ্টিকোণ আলাদা রকমের ও মানসিকতা ইতিবাচক”.

    আমরাও সকলকে “রেডিও দিবসের” শুভেচ্ছা জানাচ্ছি! আমাদের শ্রোতাদের জন্য ভাল তরঙ্গ যেন হয়, আর রেডিও চ্যানেলের কর্মীরা আগের মতই সব কিছুই করবে, যাতে বিশ্ব “রেডিও রাশিয়া” শোনে!