ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ করেছেন. তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সোমবার মস্কোর ক্রেমলিনে সম্পন্ন হয়েছে. রাশিয়ার পার্লামেন্টের আইন প্রণয়নের উপযুক্ত দুই সভা, সাংবিধানিক আদালতের প্রতিনিধি ও প্রায় তিন হাজার উপস্থিতি অতিথিদের সামনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতির শপথ বাক্য উচ্চারণ করেছেন ও নিজে রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্বভার তুলে নিয়েছেন.

    পিওতর চাইকোভস্কির আনুষ্ঠানিক মার্চ পাস্টের সঙ্গীতের মধ্যে ঠিক মধ্য দিনে ভ্লাদিমির পুতিন বৃহত্ ক্রেমলিন প্রাসাদের সম্রাট আন্দ্রেই নামাঙ্কিত সম্বর্ধনা কক্ষে প্রবেশ করেন. সেই মুহূর্তে তখনও কার্যকরী রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, নিজের পরবর্তী পদাধিকারীর প্রতি উদ্দেশ্য করে ও উপস্থিতি সমস্ত অতিথিদের সামনে একটি ভাষণ দিয়েছেন. তিনি বলেছেন:

    “নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ – এটা সব সময়েই রাশিয়ার জীবন ও ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের শুরু. রাষ্ট্রপতি দেশের নেতা, সংবিধানের ভরসা, মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতার ভরসা. এই কাজ গুলিই, আমার জন্য, রাষ্ট্রপতি পদে থাকা কালীণ, প্রাথমিক হয়ে ছিল. আমি শপথ নেওয়ার সময়ে যে আশ্বাস দিয়েছিলাম, সেই রকমই কাজ করেছি, - খোলাখুলি ও সত্ভাবে, দেশের মানুষের স্বার্থে, সবই করেছি, যাতে তাঁরা স্বাধীন থাকতে পারেন ও ভবিষ্যতের দিকে নিশ্চিত ভাবে দৃষ্টিপাত করতে পারেন. আমাদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু আরও অনেক কিছুই করা বাকী রয়েছে.  আর আমি এই কারণে খুশী যে, আজ রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন ভ্লাদিমির পুতিন – তিনি অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও শক্তিশালী নেতা, যাঁকে আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মানুষই সমর্থন করেন. আমি ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদে সাফল্য কামনা করছি”.

    উত্তরে ভ্লাদিমির পুতিন শপথ গ্রহণ করেছেন, তাঁর দক্ষিণ করতল বিশেষ করে তৈরী রুশ সংবিধানের একটি গ্রন্থের উপরে রেখে, যা রাষ্ট্রপতির প্রতীক ও পতাকার সঙ্গে একসাথে রাষ্ট্রপতি শাসনের চিহ্ন. তিনি বলেছেন:

    “আমি শপথ করছি রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি হিসাবে কাজ করার সময়ে মানুষ ও নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষাকে মর্যাদা দেওয়ার ও রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের সংবিধানকে পালন ও রক্ষা করার, দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষা করার, দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষা করার, দেশের জনগনের জন্য বিশ্বস্ত ভাবে নিজের দায়িত্ব পালন করার”.

    কয়েক মিনিট বাদে, পদ গ্রহণ করে, ভ্লাদিমির পুতিন আরও প্রয়োজনীয় মনে করে যোগ করেছেন:

    “আমি আমার জন্মভূমির সামনে সম্পূর্ণ ভাবে নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারি. তার স্বার্থ, নিরাপত্তা, দেশের মানুষের সুখী জীবন, সব সময়েই আমার কাছে সমস্ত কিছুর উর্দ্ধে ছিল ও থাকবে. আমি সব কিছুই করব, যাতে দেশের বহু কোটি মানুষের বিশ্বাস বাস্তবায়ন করতে পারি. আগামী বছর গুলিতে রাশিয়ার জন্য বহু দশকের ভবিষ্যত নির্দিষ্ট হবে. আমরা সকলেই বুঝতে বাধ্য যে, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের জীবন, রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক সম্ভাবনা ও আমাদের জাতির ভবিষ্যত নির্ভর করছে আমাদের উপরেই. নতুন অর্থনীতি সৃষ্টির সাফল্যের থেকে ও নতুন আধুনিক জীবনের মান নির্ণয় থেকে, আমাদের নেতৃত্ব থেকে ও সমগ্র ইউরো এশিয়া অঞ্চলের জন্য এক আকর্ষণের বিন্দুতে পরিণত হওয়ার থেকে. আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করবোই, যদি ঐক্যবদ্ধ হই, একজোট নাগরিক সমাজে পরিণত হই, যদি আমাদের পিতৃভূমির প্রতি মর্যাদা বোধ বজায় রাখি, রাশিয়ার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করি, সাংবিধানিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে মজবুত করি. আমরা অবশ্যই সফল হবো”.

    প্রবল হর্ষধ্বনির মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ করে ভ্লাদিমির পুতিন ক্রেমলিনের প্রাসাদ কক্ষ ত্যাগ করেন. তাঁর জন্য চত্বরে কামান দাগা হয়েছে ৩১ বার – এটি রাষ্ট্রপতির জন্য সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান প্রদর্শন অনুষ্ঠান, যিনি একই সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রপতি ছাড়াও রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক. তার পরে ভ্লাদিমির পুতিন দেখেছেন রাষ্ট্রপতির বাহিনীর প্যারেড.

    ভ্লাদিমির পুতিন ৪ঠা মার্চের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম পর্যায়েই খুবই সাফল্যের সঙ্গে শতকরা ৬৩ ভাগ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন. এটা তাঁর তৃতীয় রাষ্ট্রপতি শাসনের সময়. এর আগে তিনি দেশের নেতা হিসাবে ২০০০ ও ২০০৪ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন. কিন্তু এই প্রথমবার রাষ্ট্রপতি পদ গ্রহণ করছেন ছয় বছরের জন্য, আগের মত চার বছরের জন্য নয়.