ভ্লাদিমির পুতিন তৃতীয়বার রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি পদের দায়িত্ব নিচ্ছেন. তাঁর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ২০১২ সালের ৭ই মে মস্কোর ক্রেমলিনের প্রাসাদের আন্দ্রেই নামাঙ্কিত কক্ষে হয়েছে.

    ভ্লাদিমির পুতিন ১৯৫২ সালের ৭ই অক্টোবর লেনিনগ্রাদে (এখন সেন্ট পিটার্সবার্গ) এক শ্রমিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন. তিনি বাল্যকাল থেকেই খেলাধূলা করতে ভালবাসতেন ও গুপ্তচর দের নিয়ে সিনেমা দেখতে ভালবাসতেন.

    ১৯৭৫ সালে তিনি লেনিনগ্রাদ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের আন্তর্জাতিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ হন. তাঁকে সেই সময়ের নিয়ম মেনে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিভাগে কাজ করতে পাঠানো হয়েছিল.

    ১৯৮৪ সালে তিনি মস্কো শহরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদের উচ্চ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন ও জার্মান ভাষায় দক্ষ হয়ে এই ভাষার দেশ গুলিতে কাজের জন্য বিশেষ ভাবে তৈরী হন.

    ১৯৮৫ সালে তাঁকে তত্কালীন পূর্ব জার্মানীতে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তিনি ১৯৮৯ সালের শেষ পর্যন্ত ড্রেসডেন শহরের সোভিয়েত জার্মান মৈত্রী ভবনের ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করেছিলেন.

    সেন্ট পিটার্সবার্গ ফিরে আসার পরে, তিনি শহরের বিধান সভার সভাপতি আনাতোলি সবচাকের পরামর্শদাতা হিসাবে কাজ শুরু করেন, যাঁকে তিনি তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থা থেকেই চিনতেন. ১৯৯৪ সালে – তিনি সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রশাসনের প্রধানের প্রথম ডেপুটি হিসাবে কাজ শুরু করেন. এই পদে তিনি এলাকায় বিনিয়োগ, বিদেশী কোম্পানীগুলির সঙ্গে সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগ তৈরী সংক্রান্ত প্রশ্নাবলী বিষয়ে দায়িত্ব নিয়েছিলেন.

    ১৯৯২ সালে তিনি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষদ থেকে অবসর নেন, সেই সময়ে তিনি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল. ১৯৯৬ সালে, মস্কো আসার পরে তিনি রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যভার নিরসনের দায়িত্ব প্রাপ্ত পাভেল বরোদিনের ডেপুটি হিসাবে কাজ নেন, তারপরে – রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রধান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্তা হিসাবে আলেক্সেই কুদরিনের জায়গায় কাজ নেন.

    ১৯৯৮ সালে তাঁকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পরিষেবার ডিরেক্টর পদ দেওয়া হয়েছিল – আর ১৯৯৯ সালের মার্চ মাস থেকে রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সচিব নিযুক্ত করা হয়েছিল.

    ১৯৯৯ সালের আগষ্ট মাসে তিনি মন্ত্রীসভার সভাপতি হন.

    ১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর, রাষ্ট্রপতি বরিস ইয়েলতসিনের পক্ষ থেকে সময়ের আগেই নিজের উপর থেকে দায়িত্বভার প্রত্যাবর্তনের পরে, তিনি কার্যকরী ভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন.

২০০০ সালের ২৬শে মার্চ, শতকরা ৫২, ৯৪ শতাংশ নাগরিকের ভোটে  সমর্থন পেয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন. তিনি ২০০০ সালের ৭ই মে প্রথমবার রাষ্ট্রপতি পদে শপথ গ্রহণ করেন.

২০০৪ সালে ১৪ই মার্চ, তিনি দ্বিতীয় বারের জন্য শতকরা ৭১, ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন.

২০০৮ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নিজে এই দলের সদস্য হন নি.

২০০৮ সালের ৭ই মে রাষ্ট্রপতির পদের দায়িত্বভার থেকে রেহাই নেন.

২০০৮ সালের ৮ই মে থেকে ২০১২ সালের ৬ই মে অবধি দেশের মন্ত্রীসভার সভাপতি ছিলেন.

২০১১ সালের হেমন্ত কালে “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের তরফ থেকে তাঁকে দেশের রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল.

২০১২ সালের ৪ঠা মার্চ অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি রুশ নাগরিকদের শতকরা ৬৩, ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন.

ভ্লাদিমির পুতিন অর্থনীতি বিদ্যায় ডক্টরেট, তিনি জার্মান ও ইংরাজী ভাষা জানেন.

সাম্বো ও জুডো খেলার তিনি মাস্টার. পাহাড়ে স্কি করতে ভালবাসেন.

0তিনি বিবাহিত ও তাঁর দুই কন্যা সন্তান. তাঁদের পরিবারের এক প্রিয় অনুচর ল্যাব্রাডর কুকুর কোনি.