ভ্লাদিমির পুতিন আগামীকাল ৭ই মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন. রাষ্ট্রপতির অনাড়ম্বর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিমূলক কাজ প্রায় শেষের দিকে. শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন গণ্যমান্য রাজনীতিবিদ ও ব্যাবসায়ী সমাজ. সেই সাথে উচ্চ পর্যায়ের বিদেশী অতিথিরা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মস্কো আসবেন.

         চলতি সপ্তাহে বিগত চার বছরে দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিনের কার্যক্রমের চুড়ান্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে. রাষ্ট্র বিজ্ঞানীরা যে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তা হলে, রাশিয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বৃদ্ধি পেয়েছে. সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট থেকে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেছে যে, দেশ সমাজের সাথে একত্রে তা মোকাবিলা করতে তৈরী আছে.

       রাষ্ট্রপতি হিসেবে দিমিত্রি মেদভেদেভের দায়িত্ব শেষ হওয়ার আগেই তিনি রাশিয়ার রাজনীতিতে ব্যাপক সংস্কার করেছেন. দেশের রাজনৈতিক পদ্ধতিকে অনেক শিথিল করেছেন মেদভেদেভ. এর মধ্যে রয়েছে পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচনে নতুন পদ্ধতি, সরাসরি গভর্নর নির্বাচন ও রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া.

       অর্থনৈতিক মন্দা স্বত্বেও নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়কে দিমিত্রি মেদভেদেভ জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য বলে উল্লেখ করেছেন. তাঁর ভাষায়,

        'আমরা অর্থনৈতিক মন্দায় ব্যাপক অর্থে ক্ষতিগ্রস্থ হই নি. বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দার এই কঠিন সময়েও কয়েক মিলিয়ন পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা কাজ করে যাব. আধুনিক রাশিয়ার ইতিহাসে এ বছরে আমাদের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল সবচেয়ে নিম্ন এবং তা হচ্ছে শতকরা ৪ ভাগ. মুদ্রাস্ফীতির হার আরও কমিয়ে আনাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য. রাশিয়ায় বেকারত্বর হার হচ্ছে ৬.৫ ভাগ এবং গত ৪ বছর আগেও এই সংখ্যা ছিল. অর্থাত্ অর্থনৈতিক মন্দা শুরু আগে. রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন স্থিতিশীল রয়েছে এবং তা হচ্ছে শতকরা ৪ ভাগ. বিশ্বের বৃহত অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলোর বিচারে এটি সত্যিই ইতিবাচক পরিসংখ্যান’.

          অন্য দিকে গত ২ মে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন শেষবারের মত মন্ত্রীপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহন করেন. বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের দায়িত্বপূর্ণ কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান. পুতিনের বলেছেন,

‘আমরা ১৯৯৮ সালের পুনরাবৃত্তি হতে দেয় নি এবং এতে আপনাদের কাজের একটা বিরাট ভূমিকা ছিল. অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায়  সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত পদক্ষেপ কার্যকরী হয়েছে. সচেতনমূলক কাজ ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে. প্রতিবেশী দেশগুলো যেখানে সামাজিক প্রকল্পগুলো কমিয়ে আনছে সেখানে আমরা সামাজিক প্রকল্পের পরিমান আরও বৃদ্ধি করেছি. চিকিত্সা ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে’.

৭ই মে ভ্লাদিমির পুতিন প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে রাষ্ট্রপতির পদমর্যাদা লাভ করবেন. ক্রেমলিনে জাকজমক ওই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান রাশিয়ার কেন্দ্রীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলি সরাসরি সম্প্রচার করবে.