“বিমানবন্দরে নামাজ পড়ার ঘর কি আছে? মস্কোর কোন রেস্তোরাঁয় হালাল করা মাংসের খাবার পাওয়া যায়?” বিদেশ থেকে আসা মুসলমানেরা রোজ মস্কোর বিমানবন্দর গুলিতে তথ্য দপ্তরের কর্মীদের এই সব নানা প্রশ্ন করে থাকেন.

    খুব শীঘ্রই কাজ করতে শুরু করবে মুসলমানদের জন্য বিশ্ব জোড়া সামাজিক সাইট “সালাম ওয়ার্ল্ড”, আর তখন এই সব প্রশ্নের উত্তর বিদেশের মুসলমানরা বিমানে চড়ার আগেই নিজেদের মাতৃভাষায় ঘরে বসেই পেতে পারবেন, নিজেদের বাড়ীর কম্পিউটারে. অথবা – রাশিয়ার যে কোন বিমানবন্দরে এসেই নিজেদের মোবাইল কমিউনিকেটরে.

    রাশিয়ার মুফতিদের সভা এই আন্তর্জাতিক ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তথ্য প্রযুক্তি প্রকল্পের অংশীদার, যারা ইন্টারনেট সাইট রাশিয়ায় “মুসলমানদের জন্য পথ নির্দেশিকা” তৈরী করেছেন. এটা রাশিয়ার “সালাম ওয়ার্ল্ড” অংশে অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে.

    রাশিয়ার মুফতিদের সভার উপ সভাপতি ও “সালাম ওয়ার্ল্ড” কার্যকরী পরিষদের সদস্য, রুশান-হজরত আব্বিয়াসভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    ““মুসলমানদের জন্য গাইড” রাশিয়ার শহর গুলি ও এলাকাগুলির এক ধরনের পরিচয় পত্র. মানচিত্রে দেখানো হয়েছে কোন নির্দিষ্ট জনপদে কি ধরনের মুসলিম সংস্থা রয়েছে, ক্যাফে, রেস্তোরাঁ, হালাল করা মাংসের দোকান, কি ধরনের মুসলিম সংস্থা, কোথায় মসজিদ ও মাদ্রাসা আছে এই সব. এখন এই ইন্টারনেটে পাতা ভরার কাজ চলছে. তাই ভবিষ্যতে কোন মুসলমান যদি রাশিয়াতে আসতে চান, তবে তিনি আমাদের বৈদ্যুতিন মুসলিম পথ প্রদর্শক ব্যবহার করতে পারবেন, যাতে মসজিদের কাছাকাছি কোনও হোটেল খুঁজে পেতে পারেন. আমরা শুধু রাশিয়ার বড় শহর গুলি সম্বন্ধেই এখানে খবর দিতে চাই না, বরং ছোট শহর গুলি সম্বন্ধেও দিতে চাই, যেখানে সক্রিয়ভাবে মুসলিম সংস্থা কাজ করছে. এখন আমরা সেই সমস্ত সমাজের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে তাঁরা আমাদের ইন্টারনেট- পাতাগুলির জন্য ভরসা যোগ্য তথ্য দেন. বাস্তবে, আমরা রাশিয়ার একটা মুসলিম মানচিত্রই বানাচ্ছি, যেখানে সমস্ত ঠিকানা থাকছে, টেলিফোন ও নাম সমেত”.

    মনে করিয়ে দেবো যে, মুসলমানদের সামাজিক সাইট আন্তর্জাতিক: “সালাম ওয়ার্ল্ড” সাইটের প্রধান দপ্তর ইস্তাম্বুলে, আঞ্চলিক রয়েছে মস্কো ও জাকার্তায়. পরিকল্পনা রয়েছে লন্ডনে অফিস খোলার, কায়রো ও কিছু অন্যান্য বড় শহরে ও গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ট্যুরিস্ট কেন্দ্র গুলিতে.

    ফেসবুক, টুইটারের মতো (আর বিশ্বের অন্যান্য দেশে তাদের বড় সব প্রতিদ্বন্দ্বী সাইট গুলি) সুবিশাল আরও একটি সামাজিক সাইটের প্রয়োজন আছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক কমছে না. সেই বিতর্ক চলছে, সেই তখন থেকেই, যখন বিশ্বের ১২টি দেশের আর তাদের সঙ্গে রাশিয়াতেও, এক দল মুসলমান “সালাম ওয়ার্ল্ড” সাইটের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন. সন্দেহ বাতিক লোকরা তখন জোর গলায় বলেছিলেন যে, নতুন সাইট খুব একটা কারও আগ্রহের বিষয় হবে না.

    এই প্রকল্পের উদ্যোক্তারা এই বিষয়ের সঙ্গে একেবারেই একমত নন ও এটাই প্রমাণ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন. আজকের দিনে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন এমন মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় তিরিশ কোটি, দশ বছর পরে এই সংখ্যা বেড়ে হবে দ্বিগুণ. মস্কোর “সালাম ওয়ার্ল্ড” দপ্তরের প্রতিনিধি দাউদ কাখরামানভ মনে করেন যে, অনেক গুলি কারণেই মুসলিম ইন্টারনেটের সাফল্য সম্বন্ধে আশ্বস্ত হওয়া যেতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

    “প্রথমতঃ, এটা একেবারেই আলাদা রকমের গঠনের সাইট, যা অন্য কোন সাইটের সঙ্গেই এক রকমের হবে না, এই গঠনের ভিত্তি হল যে, সামাজিক সাইট তৈরী হচ্ছে বড় মুসলিম সমাজ গুলির অংশগ্রহণে, যারা এই সাইটের ভিতরেই খুবই প্রসারিত রকমের স্বনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা পাবেন. আজ আমরা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াতে, তুরস্কে, আরব দেশ গুলিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের সবচেয়ে বড় মুসলিম সংস্থা গুলির সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে কাজ করছি. এই সব সংস্থার মধ্যে রাশিয়ার মুফতিদের সভাও রয়েছে. আমাদের সামাজিক সাইট মূলত যুব সমাজের উদ্দেশ্যেই তৈরী, আর তারাই মুসলিম দেশ গুলিতে জনসংখ্যার শতকরা ৬০ ভাগ. আমরা পরিকল্পনা করেছি নানা ধরনের পরিষেবার ব্যবস্থাও করব, যা অল্প বয়সী মুসলমানদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে কাজ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে, নিজেদের বিশ্ব নিয়ে ধারণাকে প্রসারিত করতে সাহায্য করবে, তারা বন্ধু খুঁজে পাবে আর এমনকি হয়ত পরিবার গঠনও করতে পারবে”.

    পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে অনেক বড় ধরনের, ধারণা ও উদ্দেশ্য – খুবই সাধু বাদের যোগ্য. এই সব বাস্তবায়ন হওয়ার কথা উদ্যোক্তাদের কথামতো এই বছরের গরম কালের দ্বিতীয় ভাগে, রমজানের দিন গুলিতে, তাই রুশান আব্বিয়াসভ শেষে বলেছেন:

    “আমি মনে করি যে, রমজান মাস, যখন এই পবিত্র কোরানের বাণী বর্ষিত হয়েছিল, তখনই এই সাইটের চালু হওয়া উচিত্. তা আমাদের একে অপরের সঙ্গে কথাবার্তা বলা, যোগাযোগ করা, নিজেদের প্রকল্প গুলিকে নিয়ে জানানোর ও পরিকল্পনার কথা বলার জায়গা হবে. আমরা নিজেদের পক্ষ থেকে সেই সব বিষয় নিয়ে কাজ করে যাবো, যাতে রাশিয়ার সামাজিক সাইটের অংশ ভর্তি হতে থাকে”.