রাশিয়ার তিন কোটি প্রতিবন্ধী মানুষরা ভাল ভাবে বেঁচে থাকতে পারবেন. যাদের শারীরিক অসুবিধা রয়েছে, তাদের জন্য বাধা বিহীণ পরিবেশ তৈরী করার ক্ষেত্রে রাশিয়া এক নীতিগত ভাবে পদক্ষেপ নিয়েছে – রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিবন্ধী অধিকার সংক্রান্ত কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পরে স্বাক্ষর করেছেন.

    সীমিত শারীরিক ক্ষমতা যাদের আছে, তাদের অধিকার সুরক্ষার জন্য একশরও বেশী দেশ এই কনভেনশনে যোগ দিয়েছে. এবারে রাশিয়ার প্রতিবন্ধীদের সুবিধা হবে কাজ পেতে, চিকিত্সা পেতে, জাদুঘর বা খেলাধূলার জায়গায় যেতে অথবা স্রেফ গাড়ী বা ট্রেনে চড়ার ক্ষেত্রে. এক কথায়, তিন কোটি রুশ মানুষের জন্য – প্রতিবন্ধী ও তাদের আত্মীয় স্বজনের জন্য – বেঁচে থাকা হতে চলেছে সহজ ও আরামদায়ক.

    ২০০৮ সালের মে মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিবন্ধী কনভেনশন কার্যকরী হয়েছে. সেই বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়া এতে স্বাক্ষর করে. এই বছরের মার্চ মাসে আইন হিসাবে গ্রহণের জন্য এর উপরে প্রস্তুতি করা হয়. কাজের ক্ষেত্রে রাশিয়াতে প্রতিবন্ধীদের জন্য সহজ পরিবেশ আজ প্রথম বছর তৈরী করা হচ্ছে না. প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ জাতীয় পরিকল্পনা রয়েছে. তাদের জন্য বহু রকমের ছাড় রয়েছে – চিকিত্সা করার জন্য, উচ্চ শিক্ষা পাওয়ার জন্য, গাড়ী ঘোড়া চড়ার জন্য, প্রদর্শনী ও জাদুঘরে যাওয়ার জন্য ইত্যাদি. বর্তমানে পড়াশোনার ক্ষেত্রেও একসাথে পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে শারীরিক ভাবে সুস্থদের সাথে. সমাজ নিজেই পাল্টেছে ও প্রতিবন্ধীদের প্রতি লোকে বেশী করে মনোযোগী হয়েছে, এই ব্যাপারটি লক্ষ্য করেছেন প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কার্যক্রমের বিষয়ে রুশ রাষ্ট্রপতির সভার সদস্য নাদেঝদা বেলকভা. এই কনভেনশনের কাজ বাধাহীণ পরিবেশ সৃষ্টির কাজে সহায়তা করবে, বলে মনে করে বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

    “আমাদের অনেক কিছু এখন করা হয়েছে. গত ৪ বছরে একটা বড় লাফ দেওয়া সম্ভব হয়েছে. রাষ্ট্রপতির প্রতিবন্ধীদের নিয়ে পরিকল্পনা সংক্রান্ত এই সভা, এই পরিষদ, যারা কর্ম সংস্থান ও একত্রিত ভাবে শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন, তাদের তৈরী “সহজ পরিবেশ” নামের প্রোগ্রামে মহিলা – প্রতিবন্ধীদের জন্য আবার কাজের জীবনে যুক্ত হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে. এখন এই মহিলারা পরিবার তৈরী করছেন, সুস্থ শিশুর জন্ম দিচ্ছেন”.

    প্যারা অলিম্পিক আন্দোলনও বিকশিত হচ্ছে. শারীরিক ভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্য খোলা হচ্ছে নানা ধরনের ক্লাব ও চর্চার জায়গা. প্রতিবন্ধীদের জন্য বাস ট্রাম আরও সুবিধা জনক হচ্ছে. আর শহরের পরিবেশও পাল্টাচ্ছে – প্রতিবন্ধীদের জন্য ওঠা নামার ঢাল ও গাড়ী পার্ক করার জায়গা তৈরী হচ্ছে. আর মস্কোতে এমনকি আপাততঃ এই গুলি কম নয়. আপাততঃ “এর মধ্যে দুর্বল পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে জাদুঘর ও থিয়েটার গুলি – ঐতিহাসিক প্রাসাদ গুলিকে সব সময়ে ঢাল বা লিফ্ট দিয়ে আধুনিক করে ফেলা যাচ্ছে না”, এই কথাই নাদেঝদা বেলকভা বলেছেন.

    রাশিয়ার অঞ্চলগুলি আপাততঃ বাধা বিহীণ পরিবেশ তৈরীর ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে: তাদের এই ব্যাপারে খরচের ক্ষমতা খুবই কম. সেখানে প্রতিবন্ধীরা সব সময়ে ওষুধ বা চিকিত্সার উপযুক্ত যন্ত্রপাতি পান না, এই কথা বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেন. বাস্তবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশন রূপায়ণ করার জন্য অনেক কাজই বাকি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্ত ভ্লাদিমির লুকিন বলেছেন:

    “কনভেনশনে একটা সর্বজন স্বীকৃত মাত্রার কথা বলা হয়েছে, যার নীচে প্রতিবন্ধীদের প্রতি যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে নামা যেতে পারে না. সেখানে প্রতিবন্ধীদের জন্য পেনশনের একটা সর্ব নিম্ন মাত্রা রয়েছে ও ক্ষতিপূরণেরও মাত্রা রয়েছে. খুব ভাল হয়, যদি আমরা জানি যে এটা নিয়ম. আমরা এই মাত্রায় পৌঁছনোর জন্য আরও সক্রিয়ভাবে এগোতে পারব. অবশ্যই, এটা খরচের ব্যাপার. কিন্তু কার জন্য খরচ করা হবে, যদি তা ভাগ্যের পরিহাসে দুর্বল মানুষের জন্য না করা হয়”.

    শেষ অবধি প্রতিবন্ধীদের সম্বন্ধে যত্ন দেখেই মানুষের নিজের ও দেশের প্রতি মর্যাদা বোধ সম্বন্ধে বোঝা যায়. প্রসঙ্গতঃ এটা রুশ দেশের প্রাচীন ঐতিহ্যকেই আবার করে জাগরুক করেছে.

    প্রতিবন্ধীদের সম্বন্ধে বাঁধাধরা ধারণা এখনও রয়েছে. কিন্তু যাদের শারীরিক ক্ষমতা কম, তাদের প্রতি অন্যায় এখন অনেক বেশী কড়া সমালোচনার সম্মুখীণ হয়েছে. এক্ষেত্রে সন্দেহ নেই যে, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কনভেনশন রূপায়ণ করার ক্ষেত্রে সমাজ রাষ্ট্রের শক্তিশালী সহকর্মী হবে.