মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা চিন ও ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতাকে মজবুত করতে সাহায্য করতে পারে. রাশিয়া যদি এই পরিকল্পনাতে অংশ নেয়, তবে মস্কো ও বেজিং সমঝোতায় আসতে পারে যে, এই মার্কিন ব্যবস্থা চিনের বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে করা হবে না. এই প্রসঙ্গে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা সম্বন্ধে রাশিয়ার চিন ও ভারতের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে করা রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঘোষণা নিয়ে এই কথা রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন.

    রাশিয়ার মন্ত্রণালয় এই প্রথম এই বিষয়ে খোলাখুলি ভাবে স্বীকার করেছে. যদিও রাজনীতিবিদ আলেক্সেই মাসলভের তথ্য অনুযায়ী রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা সেই ২০০৮ সাল থেকেই করা হচ্ছে. সম্ভবতঃ, এই ভাবেই রাশিয়ার সামরিক দপ্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু দিন আগে করা রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার এশিয়ার দিক তৈরী করা নিয়ে ঘোষণার প্রত্যুত্তরে প্রতিক্রিয়া হিসাবে করেছে. এই বিষয়ে অংশগ্রহণকারী – জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও পারস্য উপসাগরের বেশ কয়েকটি দেশ.

    আলেক্সেই মাসলভের তথ্য অনুযায়ী, চিন বিগত দুই বছরে নিজেদের রকেট বিরোধী ব্যবস্থা তৈরীর বিষয়ে প্রযুক্তিগত ও পরিকাঠামোগত ভাবে অনেক অগ্রসর হয়েছে. অংশতঃ, তাদের রকেট বিপদ সম্পর্কে আগে থেকেই সাবধান করার মতো উন্নত ব্যবস্থা ও বেশ কয়েকটি রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা সহ ঘাঁটি তৈরী হয়েছে – তিব্বতে, সেচুয়ান প্রদেশে, চিনের দক্ষিণে. এই ভাবেই রাশিয়ার এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন সহকর্মী দেশের উদ্ভব হয়েছে.

    একই সঙ্গে চিন ও ভারত নিজেদের মধ্যে খুবই গুরুতর বিরোধ বজায় রেখেছে. সেই গুলি স্ট্র্যাটেজিক ভাবে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার পথে অন্তরায়. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিশ্ব ব্যাপী রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরীর বিপদ সকলের জন্যই এমন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যেখানে রাশিয়া চিন ও ভারতের মধ্যে মধ্যস্থের কাজ করতে পারে ও তাদের এক সম্মিলিত সহযোগিতার ভিত্তিতে উপনীত করতে পারে, বলে মনে করেছেন আলেক্সেই মাসলভ, তাই তিনি বলেছেন:

    “যতই আশ্চর্য মনে হোক না কেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রসার মস্কোকে সাহায্য করতে পারে ভারত ও চিনের সঙ্গে পুরনো সেই ত্রিপাক্ষিক জোটের ধারণাকে বাস্তবায়িত করার বিষয়ে. একদিকে, চিন এর ফলে এশিয়া মহাদেশে একক নেতৃত্ব হতে পারবে না, আর অন্যদিকে – এশিয়াতেই বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের সৃষ্টি করবে”.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব ব্যাপী রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা রাশিয়ার চেয়ে অনেক বেশী করেই চিনের পারমানবিক ভাবে থামিয়ে রাখার ক্ষমতার জন্য বিপদ হতে পারে. এই বিষয়ে রুশ প্রতিরক্ষা দপ্তরের আন্তর্জাতিক সামরিক সহযোগিতা বিভাগের সদর দপ্তরের প্রধান সের্গেই কোশেলেভ ঘোষণা করেছেন. তিনি মনে করেন যে, পারমানবিক ভাবে চিনের পক্ষ থেকে থামিয়ে রাখার ক্ষমতা এই ব্যবস্থার ফলে সম্পূর্ণ ভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে. সামরিক বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির দ্ভোরকিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “যদি আমেরিকার রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ইউরোপীয় অংশে রাশিয়া এতে অংশ নেয়, তবে মস্কো ও বেজিং সেই বিষয়ে আলোচনা করতে পারে যে, এই ব্যবস্থা চিনের বিরুদ্ধে কোন রকমের বিপদের কারণ হবে না. চিন খুব ভাল করেই বুঝতে পারছে এর গুরুত্ব. একই সময়ে বেজিংয়ের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা উদ্বেগ সৃষ্টি না করে পারে না. তাই বোধহয় সমঝোতায় আসা যেত যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপে সহযোগিতা কোন এক ভাবে এশিয়াতে তৈরী হওয়া রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থায় হয় মস্কো ও বেজিংয়ের পক্ষ থেকে পাল্টা ব্যবস্থা অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সহযোগিতা নিয়ে কোন অন্য সমঝোতায় আসায় পরিণত হতে পারত”.

    চিন সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এশিয়াতে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে চেয়েছে. বেজিং ও ওয়াশিংটনের চতুর্থ স্ট্র্যাটেজিক ও অর্থনৈতিক আলোচনায় এই বছরের দ্বিতীয় ভাগে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে নতুন রাউন্ড পরামর্শ করা হবে বলে ঠিক করা হয়েছে. দুই পক্ষই ঠিক করেছে স্ট্র্যাটেজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্নাবলীর আলোচনার ক্ষেত্রে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হবে.