ডিজিট্যাল টেকনলজির বৈপ্লবিক প্রগতি প্রায়ই আচমকা নেতিবাচক পরিনাম উপস্থিত করে. প্রযুক্তির নতুনত্ব সন্ত্রাসবাদীদের দান করে তথ্য পাঠানোর নতুন সম্ভাবনা. এই ভাবেই কিছু দিন আগে জার্মানীর বিশেষ পরিষেবা “আল- কায়দা” দলের প্রমোদ তরণী দখলের পরিকল্পনা লক্ষ্য করতে পেরেছে এক পর্ণ গ্রাফিক সিনেমার মধ্যে লুকান অবস্থায়.

    বার্লিন শহরে মাকসুদ লোদিন নামক এক ২২ বছর বয়সী অস্ট্রিয়া বাসীর কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল একটি মেমরি কার্ড, যাতে ছিল একটি পর্ণ গ্রাফিক ফিল্ম ও একটি ফাইল যার নাম “সেক্সি তানিয়া”. জার্মানীর তথ্যোদ্ধার বিশেষজ্ঞদের বেশ কয়েক সপ্তাহ লেগেছে এই ফাইল গুলির ভিতরে ইংরাজি, জার্মান ও আরবি ভাষায় লুকান সন্ত্রাসবাদীদের জন্য বিশদ নির্দেশ, ইউরোপে ও অন্যান্য দেশে সন্ত্রাসবাদী হানা দেওয়া ও প্রমোদ তরণী দখলের পরিকল্পনা. গুপ্তচররা এই দলিল গুলিকে বলেছেন খাঁটি সোনা, কারণ এই সব খুঁজে পাওয়া কিছু দলিল বহু নাটকীয় ঘটনার উপরে আলোকপাতে সাহায্য করেছে. সন্ত্রাসবাদীরা ব্যবহার করে সমস্ত রকমের উপায় ও এই ভাবেই নিজেদের পরিকল্পনা ও খবরাখবর পারাপার করে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা ব্যুরোর প্রাক্তন মেজর জেনারেল আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন:

    “প্রযুক্তির উন্নতি গুপ্তচর বিভাগের জন্য খুবই গুরুতর সব সমস্যার সৃষ্টি করেছে. আর তারা নিজেদের সমস্ত ক্ষমতা নিয়েও সব সময়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে এই সমস্ত সঙ্কেত ও গোপন খবর বার করতে পারে না. আমি মনে করতে পারি যে, আমরা একবার এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছিলাম, যখন তথ্য দেখতে বাচ্চাদের কম্পিউটারের খেলনা এই রকম জিনিসের ভিতরে আলাদা ফাইল করে পাঠানো হয়েছিল”.

    সন্ত্রাসবাদীদের আবিষ্কারের কায়দাই শুধু ভাল হচ্ছে না. তাদের কাজকর্মের ক্ষেত্রও নিয়মিত বেড়ে চলেছে. যেমন, উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সন্ত্রাসবাদী সংস্থা গুলির জন্য বিশাল ক্ষেত্র উন্মোচন করেছে, আর অংশতঃ আল- কায়দা দলের জন্য, এই কথা উল্লেখ করে রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ডক্টরেট ইগর খখলভ বলেছেন:

    “আল – কায়দা আগের মতই খুবই বিপজ্জনক ও হতে পারে যে, এমনকি আগের চেয়ে বেশীই. নতুন সব এলাকা তৈরী হয়েছে. এই গুলি উত্তর আফ্রিকার দেশ, আগে যেখানে ছিল স্বৈরতন্ত্রী শাসক ও ক্ষমতায় ছিল উচ্চ মহলের ধর্ম সংক্রান্ত প্রশাসন. বর্তমানে এই সমস্ত প্রশাসন সরে গিয়েছে, আর কোন সন্দেহই নেই যে, এটা নতুন সম্ভাবনা দিয়েছে আল- কায়দা দলের বৃদ্ধির, যাতে এইসব দেশে চরমপন্থী ধারণা প্রসারিত হয়”.

    সন্ত্রাসবাদীদের বেশী সুযোগ করে দিয়েছে এই সব সমাজের কাঠামো ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মিশ্রণ, তাই ইগর খখলভ যোগ করেছেন:

    “সামাজিক মধ্য যুগীয় কাঠামো ও বর্তমানের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, সেই ধরনের নেট ওয়ার্কস, যেমন আল- কায়দা ও আরও সমস্ত সালাফাইট জাল গুলিকে আধুনিক গুপ্তচর বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক বেশী ফলপ্রসূ করে তুলেছে. ইন্টারনেট এখন মসজিদের পরে প্রথম জায়গা হয়েছে, যেখানে চরমপন্থী কাজ কারবারের জন্য লোক যোগাড় করা হচ্ছে. এতে কোন সন্দেহই নেই যে, এই সমস্ত আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির বিষয় শুধু বাড়বেই”.