শতকরা ৯০ ভাগ পর্যটক, যারা রাশিয়াতে এসেছেন, তারাই পরে বন্ধু বান্ধবদের কাছে এই দেশের কথা বলেন. মস্কো হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের এক বিদেশীদের মধ্যে করা মতামত গ্রহণের ফলে এটাই দেখতে পাওয়া গিয়েছে. যারা রাশিয়া সম্বন্ধে মনে ভয় নিয়ে আগে এখানে এসেছেন, তারাই দেখা গেছে পরে খুব সন্তুষ্ট ও আশ্চর্যান্বিত হয়েছেন, বিশেষ করে সমস্ত স্মৃতি বিজড়িত জায়গা ও জাদুঘর গুলি দেখে. বিদেশীরা আরও অনেক বেশী কিছু দেখতেই পারতেন, যদি দেশের অঞ্চল গুলিতে পর্যটন আরও দ্রুত বিকশিত হত.

পর্যটকরা রাশিয়া আসেন হয় কোন কাজের অছিলায় অথবা প্রাসাদ, গির্জা বা জাদুঘর দেখতে. প্রসঙ্গতঃ এই ক্ষেত্রে সংস্কৃতির বিষয়ে ব্র্যান্ড হওয়া ভদ্রলোকের জায়গাগুলি সোভিয়েত সময়ের পর থেকে খুব কমই পাল্টেছে. হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের মতামত নেওয়ার সময়ে ৩৬টি দেশের শতকরা ৩০ ভাগ ট্যুরিস্ট ঠিকই করতে পারেন নি যে, তাদের জন্য রাশিয়াতে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের চেয়ে কোনও বেশী আগ্রহের জায়গা আছে কি না.

মনে হতে পারে পূর্ব সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদ অথবা, যেমন ধরুন, দক্ষিণের শহর সোচী- ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের রাজধানী – সকলেরই শোনা জায়গা. রাশিয়া সমস্ত উল্লেখ যোগ্য ট্যুরিস্ট প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকে ও বিদেশীদের জন্য ইন্টারনেট পোর্টাল তৈরী করছে. একেবারেই অল্প দিন আগে, এপ্রিল মাসে, রাশিয়ার বিভিন্ন রাজ্য নিজেদের ট্যুরিস্ট আকর্ষণ গুলিকে তিনটি ইউরোপীয় রাজধানীতে এক পথ প্রদর্শনী হিসাবে দেখিয়েছে রাশিয়ার ট্যুরিস্ট স্পট রোড শো হিসাবে – বার্লিনে, প্যারিসে ও লন্ডনে. আর তাও সেই ২৩ লক্ষ ট্যুরিস্ট, যারা রাশিয়াতে আসেন প্রত্যেক বছরে, তারা বেশীর ভাগই শুধু চেনা জায়গা গুলিতেই আসেন, কোনও চলতি পথের বাইরের আকর্ষণে নয়.

মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের আকর্ষণ রয়েছে প্রদর্শনী ও জাদুঘর গুলির দেখতে পাওয়ার জন্য. অতিথিদের যাত্রা পথ সাধারণত সীমাবদ্ধ থাকে স্বর্ণ বলয় নামে মস্কোর চারপাশের প্রাচীন শহর গুলি যাওয়া দিয়েই.

ফলে বিদেশীরা রাশিয়া সম্বন্ধে যে ধারণা নিয়ে যান, তা খুবই সীমিত. প্রসঙ্গতঃ মতামত গ্রহণের ফলে দেখা গিয়েছে, তাদের মধ্যে বেশীর ভাগই যা দেখতে পেয়েছেন, তাতেই খুশী হতে পেরেছেন. সেই সব ট্যুরিস্টদের মধ্যে, যারা রাশিয়া সম্বন্ধে নিজেদের মনোভাব এই দেশের আসার পরে পাল্টেছেন, তাদের মধ্যে শতকরা ৯০ ভাগই পরে এই দেশকে ভাল বলে মনে করতে শুরু করেছেন. বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া পর্যটন ক্ষেত্রে খুবই সফল খেলোয়াড় হতে পারে. কিন্তু যদি এই দেশ তাদের ভিসা সংক্রান্ত ব্যবস্থা সহজ করে তবেই, পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করে, যাতায়াতের দাম পাল্টায় ও আরও বেশী স্বল্প দামী কিন্তু আরাম দায়ক হোটেল তৈরী করে এবং যাত্রাপথেরও পরিবর্তন করে নানা রকমের করে. সেই সব অঞ্চল গুলি, যারা এই সমস্যার সমাধান করছে, তাদেরই সফলতা আসছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পর্যটন শিল্প সংগঠনের উপ সভাপতি ইউরি বারজীকিন বলেছেন:

“এখন খুবই দ্রুত গতিতে বৈকাল ও তার কাছের জায়গা গুলি উন্নতি করছে, যেমন আলতাই. তাদের এলাকায় বহুলাংশে অতিথিদের সংখ্যা বেড়েছে – বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও চিন থেকে. উত্তর পশ্চিমে এই রকমের হয়েছে কারেলিয়া ও প্স্কোভ এলাকা, যেখানে পর্যটনের পরিকাঠামো ভাল করা হচ্ছে. রাশিয়ার দক্ষিণেও উন্নতি হচ্ছে, যেখানে তুরস্কের সঙ্গে পারস্পরিক ভাবে ভিসা বিহীণ যাতায়াতের ব্যবস্থা হয়েছে. নতুন দিক ও সম্ভাবনাময় জায়গা একই সঙ্গে হয়েছে – কামচাত্কা, সাখালিন, সুদূর প্রাচ্যে নদী পথে পরিভ্রমণ”.

ইউরি বারজীকিন মনে করেন যে, রাশিয়ার সমস্ত স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্র ও পর্যটন কেন্দ্র গুলিও এই ধরনের সাফল্য পেতে পারত. কিন্তু তাদের পরিষেবা আন্তর্জাতিক মানে স্বীকৃতী নেওয়া হয় নি. আর তাদের দামের নীতিও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে প্রয়োজনানুগ নয়, অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা এই কথা যোগ করেছেন. ফলে চেখ দেশের কার্লোভী ভারী নামের পর্যটন কেন্দ্র ককেশাসের মিনেরালনীয়ে ভোদী নামের কেন্দ্রের চেয়ে জনপ্রিয়তার রেটিংয়ে অনেক বেশী এগিয়ে, যদিও রাশিয়ার কেন্দ্রের উষ্ণ প্রশ্রবণ গুলি কোন অংশে কম নয়.

“বিদেশীদের পর্যটনের উপযুক্ত করে তোলার জন্য কাজ এখনও অনেক বাকী – মন্তব্য করেছেন ইউরি বারজীকিন. – কিন্তু তার আগে প্রয়োজন হবে আভ্যন্তরীণ পর্যটনের বৃদ্ধি করা”. এই রকমই করে থাকে, যেমন, ফ্রান্স, যারা তাদের দেশের ভিতরের পর্যটনের জন্য বিশ্ব সেরা. একই সঙ্গে বাড়ানো দরকার পরিবেশ সংক্রান্ত ও খেলাধূলার ক্ষেত্রে পর্যটন. বিশেষজ্ঞদের মতে, তার উপরেই নির্ভর করছে ভবিষ্যত.