২রা মে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে এক সারি বিস্ফোরণ এই প্রদেশের দিকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে. এই প্রদেশের প্রায় সমস্ত বড় শহরেই ব্যাঙ্কের টেলারিং মেশিন গুলিতে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে, তার মধ্যে প্রশাসনিক কেন্দ্র করাচি রয়েছে. পাকিস্তানের জাতীয় ব্যাঙ্কের টেলারিং মেশিন গুলিই সবচেয়ে বেশী ভাঙা হয়েছে. তাছাড়া, ঘোটকি স্টেশনের কাছে স্বল্প শক্তির এক বোমা ফাটানো হয়েছে রেল লাইনে, তাতে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে. ফলে ১০জন ব্যক্তি আহত, তাদের মধ্যে পুলিশও রয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    পাকিস্তানের পুলিশ থেকে যেমন বলা হয়েছে যে, এই সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের পিছনে রয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী সিন্ধু প্রদেশ লিবারেশন আর্মি. এই দলের ছোট বই ও প্রচারপত্র কিছু ভেঙে ফেলা টেলারিং মেশিনের কাছে পাওয়া গিয়েছে. এরই প্রতিবেশী প্রদেশ বেলুচিস্তানের মতই সিন্ধু প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা যথেষ্ট শক্তিশালী. বিশেষ করে এটা করাচি শহরের ২৩শে মার্চ হওয়া মিছিল প্রমাণ করে দিয়েছিল. সিন্ধু প্রদেশের লোকদের বহু সহস্র প্রতিনিধি বিচ্ছিন্নতাবাদী স্লোগান দিয়ে এই বহু লক্ষ লোকের শহরে মিছিল করে গিয়েছিল. এই স্বাধীনতার মিছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতার এক মনে রাখার মতো প্রকাশ হয়েছিল. এই মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছিল সিন্ধু প্রদেশের যুক্ত ফ্রন্ট, যারা এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় জাতীয়তাবাদী দল.

    সিন্ধু প্রদেশের ঘটনা বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী মিছিল ও মিটিংয়ের পরেই হয়েছে. এখানে মনে করা হয়েছে যে, তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদত ছাড়া হয় নি. ফেব্রুয়ারী মাসে আমেরিকার কংগ্রেস সদস্যরা বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রচুর ঘটনার কড়া সমালোচনা করে বক্তৃতা দিয়েছিলেন, বলেছিলেন যে, সেখানে নিরীহ জনতাকে খুন, অত্যাচার, লোপাট করে দেওয়া হচ্ছে. আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছু প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়েছিল, যার লেখকরা বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার স্বপক্ষে মত দিয়েছিলেন. আমেরিকার কংগ্রেসে বেলুচিস্তান নিয়ে শুনানীকে পাকিস্তানে মনে করা হয়েছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতাকে সরাসরি সমর্থন বলেই, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

    “পাকিস্তান অবশ্যই, প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য ছিল.  তারা এটাই করা ভাবে করেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্বের অধিকারকে রক্ষ করে, আর তার ওপরে তারাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের এখন মাশুল গুনছে”.

    পাকিস্তানের সেনেট নিজেদের আমেরিকার সহকর্মীদের কাজের উত্তর দিয়েছে এক বিশেষ ঘোষণা গ্রহণ করে, যাতে নিজেদের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশী হস্তক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে. তারই সঙ্গে পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদের মাথা চাড়া দেওয়ার মূলে রয়েছে খুবই গুরুতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ. সিন্ধু প্রদেশের ভূগর্ভ থেকে বেলুচিস্তানের মতই সারা পাকিস্তানের খনিজ তেল ও গ্যাসের বেশীর বাগ উত্পাদিত হয়, বেলুচিস্তানে শতকরা ৭০ ভাগ কয়লা উত্পাদন করা হয়, ৮০ ভাগ ক্রোমিয়াম. এই অঞ্চল গুলির স্ট্র্যাটেজিক ভাণ্ডারও বিশাল. বেলুচিস্তানের ভিতর দিয়েই পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় পাইপ লাইন যাচ্ছে. সেখানেই রয়েছে দেশের দুটি বৃহত্তম বন্দর করাচি ও গাধার. পররাষ্ট্র বাণিজ্যের অধিকাংশই সেখান দিয়ে করা হয়ে থাকে.

    শুধু শক্তি প্রয়োগ করেই বিচ্ছিন্নতাবাদী মানসিকতা দূর করা সম্ভব হবে না. পাকিস্তানের প্রশাসনের প্রয়োজন হবে এই প্রদেশ গুলিতে লভ্যাংশের ন্যায্য অংশ দিয়ে জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন করার. তা না হলে বিচ্ছিন্নতাবাদের সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে না.