রাশিয়ার সহযোগিতায় তৈরী ভারতের কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে প্রথম রিয়্যাক্টরের সমস্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরীক্ষা শেষ হয়েছে. অংশতঃ, রিয়্যাক্টর বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনার পরিস্থিতির মডেল করেও দেখা হয়েছে. সমস্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করেছে সন্দেহাতীত ভাবেই. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম রিয়্যাক্টর এবারে তৈরী জ্বালানী ভর্তি করে চালু হওয়ার জন্য, খবর দিয়েছে রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থা থেকে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    প্রত্যেকের জন্যই পরীক্ষা সফল হওয়া – ভাল খবর. এই গুলি করার দরকার ছিল, যাতে ভারতের পারমানবিক সংস্থার কাছ থেকে জ্বালানী ভরার বিষয়ে স্বীকৃতি পাওয়া যায়. প্রধানমন্ত্রীর ক্যাবিনেটের প্রতিমন্ত্রী নারায়নস্বামী মনে করেন যে, কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম ব্লক আগামী দুই মাসের মধ্যেই চালু হয়ে যাবে. “আমাদের শুধু নতুন রিয়্যাক্টরের ভিতরে জ্বালানী ভর্তি করাই বাকি রয়েছে, যাতে তা কাজ করতে শুরু করে”, - তিনি বলেছেন. নারায়নস্বামী আরও জানিয়েছেন যে, দ্বিতীয় রিয়্যাক্টরের কাজ এখন শতকরা ৯৫ ভাগ শেষ হয়ে গিয়েছে.

কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে অল্প করেই এই বিষয়ে বলা হয়েছে. চেন্নাই শহরের রুশ কনস্যুল নিকোলাই লিস্তোপাদভ মন্তব্য করেছেন যে, ভারতীয় প্রশাসনের ঘোষণা বেশী আশাবাদী. “আমরা সেই বিষয়েই আশা করছি যে, প্রথম রিয়্যাক্টর এই বছরের শেষের আগেই চালু হয়ে যাবে, আর দ্বিতীয় – আরও কয়েক মাস বাদে”, - জানিয়েছেন কূটনীতিবিদ. তারই মধ্যে, রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

 “কাজ হচ্ছে খুব দ্রুত গতিতে, সেই গতি, যা বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে কুদানকুলাম কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা প্রদর্শন করছেন, তা আশা যুগিয়েছে যে, এই সব প্রতিবাদের কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা খুবই আসন্ন সময়ে পূরণ করা সম্ভব হবে. ভারত – সেই রকমের দেশ, যেখানে বিশেষজ্ঞরা পারমানবিক প্রকল্পের মতো বড় ধরনের কেন্দ্র নির্মাণের অনেক অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন ও তা চালানোর ক্ষেত্রেও. এই দিক থেকে যেমন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতা রাশিয়া ও তুরস্ক, ভিয়েতনাম বা ইরানের সহযোগিতার চেয়ে অনেক আলাদা. মনে করিয়ে দেবো যে, রাশিয়ার ভারতে পারমানবিক প্রকল্প নির্মাণ নিয়ে প্রসারিত পরিকল্পনা রয়েছে. যদি সেই গুলির বাস্তবায়ন হয়, তবে আগামী ২০ বছরে রাশিয়া দেশের বাইরে যে সব রিয়্যাক্টর স্থাপন করতে চলেছে, তার প্রতি দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর ভারতে তৈরী হবে”.

পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরীর বিষয়ে “সবুজ” সঙ্কেত এই কথাই বলে যে, ভারতের পক্ষ থেকে আর কোন বিপদের ভয় নেই. কুদানকুলাম বিদ্যুত কেন্দ্রের জন্য ভূমিকম্প, ত্সুনামি বা অন্য কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভয়ের ব্যাপার নয়, এই কথা বলেছেন এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা জয়ারাম. তারই মধ্যে, ছয় মাস পারমানবিক শক্তির বিরোধীদের প্রতিবাদের কারণে বন্ধ হয়ে থাকায় শুধু সময় নষ্টই হয় নি, ভারতের ক্ষতি হয়েছে এক হাজার কোটি টাকা. এবারে তামিলনাডু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দাবী করেছেন যে, এই কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে যে বিদ্যুত শক্তি উত্পন্ন হবে, তার পুরোটাই তাঁর রাজ্যের প্রয়োজনে দিতে হবে, আগের কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনা মতো অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে বণ্টন করা হবে না. তাঁর কথামতো, পুরো ২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত শক্তি, যা এই কেন্দ্রের প্রথম দুটি রিয়্যাক্টর উত্পাদন করবে, তা যেন শুধু তামিলনাডু রাজ্যকেই দেওয়া হয়.