১৩ ও ১৪ই মে ভিয়েনা শহরে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ও ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে নতুন এক প্রস্থ আলোচনা হতে চলেছে. তেহরানে এই বছরের জানুয়ারী ও ফেব্রুয়ারী মাসে এই সংস্থার প্রতিনিধি দলের অসফল সফরের পরে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ প্রায় বাস্তবে স্তব্ধই হয়েছিল. কিন্তু ইস্তাম্বুল শহরে এপ্রিল মাসে ইরানের সঙ্গে “ছয় পক্ষের” মধ্যস্থতাকারী দলের গঠন মূলক আলোচনার পরে (পাঁচটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ও জার্মানী), নিভে আসা আলোচনা আবার নতুন করে শুরু করার জন্য একটি গতি পেয়েছে, তার মধ্যে এই সংস্থার কাঠামোর মধ্যেও তা সম্ভব হয়েছে.

    এই ভিয়েনা শহরের আলোচনার থেকে কি অপেক্ষা করা হচ্ছে? এই প্রসঙ্গে – ভ্লাদিমির সাঝিনের মন্তব্য হল:

    কোন সন্দেহ নেই যে, ভিয়েনার আলোচনা দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সেই গুলিতে তেহরানের সঙ্গে সংস্থার পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও আইন সঙ্গত সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করা হবে. এই আলোচনা বাস্তব ভিত্তি তৈরী করবে রাজনৈতিক সমাধান বাগদাদে কি করে পাওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে, যখন আবার ২৩শে মে ইরানের প্রতিনিধিরা “ছয় পক্ষের” সঙ্গে মিলিত হবে.

    এই প্রসঙ্গে জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বলেছেন:

    “এই বৈঠকের প্রধান আলোচনার বিষয় হতে চলেছে সম্ভাব্য সমঝোতায় ইরান ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কাঠামো কি হতে পারে তা নিয়ে, যে কাঠামো ব্যবহার করে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র বিতর্ক গুলির নিরসন করবে ও সেই সমস্ত প্রশ্ন দূর করবে, যা সংস্থার ইরানের প্রতি এখনও রয়েছে.

এই প্রশ্ন গুলির তালিকা রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার পূর্ববর্তী রিপোর্ট গুলিতে লেখা হয়েছে. তাই ইরানের কাছে এই তালিকা নতুন কিছু হবে না. সংস্থা মনে করে যে, আপাততঃ ইরান তাদের সামনে রাখা সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেয় নি. এখানে কথা হয়েছে, অঘোষিত পারমানবিক বিষয়ে কাজকর্ম নিয়ে, অর্থাত্ সেই সমস্ত কাজ, যা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ভাবে ব্যবহার করা হতে পারে”.

তাই, - আন্তন খ্লোপকভ মনে করেন যে, - এই প্রশ্নের তালিকা, যা ভিয়েনার বৈঠকে তোলা হবে, তা যথেষ্ট প্রসারিত. শুরু হবে সেই থেকে যে, সংস্থার পর্যবেক্ষকদের শুধু কেন্দ্র গুলিই নয়, বিজ্ঞানীদের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হবে কি না, যাঁরা এই সব কেন্দ্রে কাজ করছেন, যে বিষয়ে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা জোর দিয়েছে. তারই সঙ্গে কথা হতে পারে সেই বিষয়ে যে, কোন কাঠামোতে এই ধরনের অধিকার দেওয়া হবে ও অন্যান্য বিষয়...

ইরানের পক্ষ থেকে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, তা আন্তন খ্লোপকভের মতে, সেই বিষয়ের সঙ্গে জড়িত, যাতে সেই প্রশ্নের তালিকা, য়া সংস্থার পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হবে ও সেই সমস্ত কেন্দ্রের তালিকা, যেখানে যেতে দেওয়ার অধিকার চাওয়া হবে, তা যেন শেষ বারের মতো দেওয়া হয়. তাই ইরানের লোকরা একেবারে শুরু থেকেই ব্যাখ্যা চেয়েছেন, কোন অধ্যায়ে তারা এই সংস্থার কাছ থেকে বিজ্ঞপ্তি আশা করতে পারেন যে, “ইরানের পারমানবিক তথ্য ভাণ্ডারের” প্রশ্নের তালিকা এবারে বন্ধ হয়েছে. অর্থাত্ সেই বিষয়ে যে, সংস্থার পক্ষ থেকে ইরানের বিগত অঘোষিত পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে আর কোনও প্রশ্ন নেই.

তাই এই আলোচনার জন্য প্রশ্নের তালিকা যথেষ্ট প্রসারিত. কিন্তু সেই ধরনের ইতিবাচক পরিবেশ, যা ইস্তাম্বুলের বৈঠকে পরবর্তী সময়ের আলোচনার জন্য তৈরী করা হয়েছিল, তা কম করে হলেও, আমাদের সেই বিষয়েই আশা করার জন্য মানসিক ভাবে তৈরী করে, যে ভিয়েনার বৈঠক, আর তার পরে বাগদাদের বৈঠক – হয়ত, ফলের ক্ষেত্রে শূন্য হবে না, - এই রকমের মত প্রকাশ করেছেন আন্তন খ্লোপকভ.

বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন সেই বিষয়ে যে, ভিয়েনার সাফল্য বাগদাদের সম্ভাব্য সাফল্যের একটা প্রস্তুতি হতেই পারে. ইরানের সঙ্গে বর্তমানে আলোচনা প্রক্রিয়া অনেকটাই হতে পারছে কিছুটা কমানো রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে. তেহরান থেকে আরও বেশী করে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে আশাব্যঞ্জক ঘোষণা. যেমন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পরামর্শদাতা গোলাম আলি হাদাদ আদেল তাঁর আশা প্রকাশ করেছেন আগামী “ছয় পক্ষ” ও ইরানের বৈঠকের সম্বন্ধে ও উল্লেখ করেছেন যে, তেহরান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে, এই ধরনের আশা প্রকাশ করছে. এটাও সত্য যে, ইরানের বিরোধী পক্ষ বিগত সময়ে ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সমালোচনার স্তর অনেক কমিয়েছে. আমেরিকার উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারীদের মতে, আর তারই সঙ্গে বহু রাজনীতিবিদদের মতে, ইরানের সঙ্গে সশস্ত্র বিরোধের সম্ভাবনা বিগত সময়ে কমে গিয়েছে.

এই ভাবেই, “সম্ভাবনার জানলা” ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে রাজনৈতিক ভাবে সমাধান হওয়ার জন্য অভূতপূর্ব ভাবেই খুলে দেওয়া হয়েছে. আর যদি ভিয়েনা শহরের বৈঠকের অংশীদাররা, আর তার পরে বাগদাদের লোকরা, এই সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণ ভাবে ব্যবহার করতে পারে, তবে বিশ্বের মানচিত্রে আরও একটি সবচেয়ে উত্তপ্ত বিন্দু কম হবে. যদি এই সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়, তবে পরিস্থিতি হবে ইস্তাম্বুলের আগের চেয়েও আরও খারাপ. আর, সম্ভবতঃ, একেবারে তত দূর অবধি তীক্ষ্ণ হয়ে উঠবে, যে সময়ে রাজনীতিবিদরা যেমন বলে থাকেন, “কোন রকমের সমাধানের সম্ভাবনাকেই বাদ দেওয়া যাচ্ছে না”. কিন্তু আপাততঃ, সকলেই ভাল হবে এই রকমের আশা রেখেছেন.