প্রিয় বন্ধুরা, শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ – “রাশিয়া-ভারতঃ ঘটনাবলী, মানুষজন, স্মরণীয় দিনগুলি”. আজ আমরা আপনাদের রাশিয়া-ভারতের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে সব ঘটনা ও মহাপুরুয বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল ও রেখেছিলেন, সেই সম্পর্কে জানাবো. ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’ বইয়ে জওহরলাল নেহেরু লিখেছিলেন – “অতীত সর্বদাই আমাদের সঙ্গী. অতীত আমাদের মধ্যে গেঁথে গেছে - এটা উপলব্ধি না করা অথবা না বুঝতে চাওয়ার মানে হল – বর্তমানকে অস্বীকার করা”.

      অতীতের স্মরণীয় ঘটনা মে মাসে ১লা মে ঘটেছিল. ১৯৪৮ সালের ১লা মে রাশিয়া ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল. রুশী-পাক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেমন ছিল সক্রিয় সহযোগিতার যুগ, তেমনই শীতলতা. এই মুহুর্তে রুশী-পাক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উষ্ণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন অভিমুখে, যেমন সন্ত্রাসের বিরূদ্ধে সংগ্রামে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মজবুত করার বিষয়ে. ২০০৫ সাল থেকে পাকিস্তান ‘শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা’য় পর্যবেক্ষকের ভূমিকায় আছে, যে সংস্থার সদস্য হল – রাশিয়া, চীন, কাজাকস্তান, তাজিকিস্তান, কির্গিজিয়া ও উজবেকিস্তান. গত বছর ভ্লাদিমির পুতিন একবাক্যে পাকিস্তানের সদস্য পদ পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র মঞ্জুর করার ব্যাপারে তার সম্মতি জানিয়েছিলেন ও বলেছিলেন, যে পাকিস্তান মুসলিম দুনিয়ায় ও দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শরিক.

     অবশেষে আমি রাশিয়ায় এসেছি. যা দেখছি – অসাধারন. অন্য কোনো দেশের মতো নয় – এই কথা দিয়ে তাঁর স্মরণীয় গ্রন্থ ‘রাশিয়ার চিঠি’ শুরু করেছিলেন মহান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর. তিনি ৬৯ বছর বয়সে ১৯৩০ সালে আমাদের দেশ সফর করেন. গ্রন্থটির প্রথম পাতা থেকে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত তিনি মস্কোয় যা অবলোকন করেছিলেন, সে সম্পর্কে মর্ণস্পর্শী বর্ণনা রয়েছে. আর মস্কো নগরীতে একটি পার্কে ঐ মহান ভারতীয় কবি, লেখক, সঙ্গীতকার, শিক্ষাবিদের ব্রোঞ্জনির্মিত বিশাল মূর্তি কাউকে বিস্মিত করে না. আর বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি মনীষি জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৮৬১ সালের ৭ই মে.

      ৯ই মে – রাশিয়া ও মিত্রশক্তির ফ্যাসিবাদ ও নাত্সীবাদের বিরূদ্ধে বিজয়ের ৬৭ তম জয়ন্তী. ভারতীয় সৈনিকরাও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ করেছিল. সোভিয়েত ইউনিয়নের সামরিক পদকে ভূষিত করা হয়েছিল ভারতের আর্মি ক্যাপ্টেন রাম সিং, সুবেদার পৃথ্বী সিং কুরুঙ্গ, সুবেদার নারায়ন রাও নিগম, কর্ণেল উইলিয়ামস, হাবিলদার গজেন্দর সিংকে. ভারতীয় সৈনিকরা ভারত থেকে ইরানের মধ্যে দিযে রাশিয়ায় সামরিক জিনিষপত্র পৌঁছে দিয়েছিল. সেই কাজ ছিল ভয়ঙ্কর রকম বিপজ্জনক – পথে, বিশেষতঃ পাহাড়ী এলাকায় প্রায়ই নাত্সী এজেন্টরা তাদের উপর হামলা করতো.

    আমাদের ভারতে বেতারবার্তা সম্প্রচারের ৭০ বছর পূর্তি হতে চলেছে. প্রথম ভারতীয় শ্রোতাদের জন্য হিন্দী ও উর্দু ভাষায় আমাদের বেতার সম্প্রচারন শুরু হয়েছিল ১৯৪২ সালের ১৮ই মে, ১৫ মিনিট মেয়াদী একটা অনুষ্ঠাণ দিয়ে. রেডিও মস্কো সেই দিন থেকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষদিন পর্যন্ত সব ফ্রন্ট থেকে যুদ্ধের খবর পরিবেশন করেছে. বহু ভারতীয়র জন্যে তখন বেতারই ছিল যুদ্ধের খবরাখবর পাওয়ার একমাত্র উত্স. বর্তমানে রেডিও রাশিয়া শর্ট ও মিডিয়াম ওয়েভে বেতার সম্প্রচারন করে, আর তাছাড়াও রুশী ভাষায় ও আরও ৩৮টি বিদেশী ভাষায় ইন্টারনেটে নিজস্ব ওয়েভ-সাইটে সংবাদ পরিবেশন করে . বাঙলা ভাষায় আমাদের অনুষ্ঠাণ আপনারা দেখতে ও শুনতে পারেন এই ঠিকানায় – http\bengali.ruvr.ru\

     ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু বলতেন, যেখানে হাজার হাজার মিস্ত্রী নির্মাণকার্য চালায়, সেই জায়গাগুলোকে দেখলে মনে হয় যেন মন্দির, মসজিদ, গীর্জা নির্মাণ করা হচ্ছে. তার ক্যাবিনেটে গোটা একটা দেওয়াল জুড়ে টানানো থাকতো ভারতবর্ষের বিশাল মানচিত্র. নেহেরু স্বদেশের শিল্পায়ন করনের স্বপ্ন দেখতেন. আমাদের দেশ তাঁর স্বপ্ন রূপায়নে গুরুতর অবদান রেখেছে. রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণ করা হয় ভিলাই, বোকারো ও বিশাখাপত্তনমে লৌহ ও ইস্পাত কারখানা, রাঁচিতে হেভি ইঞ্জিনিয়ারিং কারখানা, কোরবায় এ্যালুমিনিয়ামের কারখানা, হরিদ্বারে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতির কারখানা, বারাউনি, মথুরা ও কোয়েলে অয়েল রিফাইনারি, আরও কয়েকটি তাপবিদ্যুত ও জলবিদ্যুত কেন্দ্র. জওহরলাল নেহেরু পরলোক গমন করেছিলেন ১৯৬৪ সালের ২৭শে মে.