মস্কো শহরে মে মাসের প্রথম দিন গুলিতে সত্যিকারের শিল্পকলার প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে. রাজধানীতে একাদশ সারা রাশিয়া যুব ডেলফিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা সারা দেশ থেকেই প্রতিযোগীদের মস্কো শহরে উপস্থিত করতে পেরেছিল.

    চারটি প্যানহেলেনিক গেমস, যা প্রাচীন গ্রীস দেশে অনুষ্ঠিত হত ও যার একটি বর্তমানের অলিম্পিক গেমস, সেই চারটিরই একটি ছিল শিল্পকলার প্রতিযোগিতা, যা ডেলফি নামের জায়গায় করা হত, সাধারণত অলিম্পিক গেমস হওয়ার এক বছর আগে ভগবান অ্যাপেলো কে সন্তুষ্ট করার জন্য, গান, নাচ, থিয়েটার সার্কাস, ভোজ এই সব দিয়ে.

    এই বছরের প্রতিযোগিতার পদকের সংখ্যা ছিল ২৭টি! আর রাশিয়ার ৭৭টি এলাকা থেকে এসেছিল এতে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিনিধিদল. “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে কথা বলার সময়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ছেলেমেয়েরা, তারা পদক জিতে থাকুক, অথবা নাই থাকুক, খুবই উত্সাহ নিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতার সম্বন্ধে জানিয়েছে. কুরগান রাজ্যের থিয়েটার স্টুডিও ওভেশন এর অল্প বয়সী অভিনেতা, অভিনেত্রীরা পেয়েছেন ব্রোঞ্জ পদক. তারা এই ঘটনাতে নিজেরাই খুব আনন্দিত ও মনে হয়েছে যে, নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নিয়ে নিজেরাই খুব উচ্ছ্বসিত.

    রাশিয়ার লোক সঙ্গীতের বাদ্য যন্ত্র গুলির বাজিয়ের সংখ্যা এই রকমই খুব একটা বেশী নয়, যেমন থিয়েটার করতে আসা শিল্পীদের মতই. তাদের মধ্যে আলেকজান্ডার ভয়েভোদিন রাশিয়ার এক প্রাচীন শহর ভ্লাদিমির থেকে এসেছে, সে বাজায় বালালাইকা. আর তার মস্কোর ডেলফিক গেমসের প্রতিটি দিনই একেবারে মিনিট অনুযায়ী রুটিন করা, সে বলেছে:

    “আমাদের অনুষ্ঠান হয়েছে, তার আগে হয়েছে রিহার্সাল, তার পরের দিনে আবার রিহার্সাল... বালালাইকা বাজিয়ের সংখ্যা কম, কিন্তু প্রতিযোগিতা খুব বড় – যারা বাজাতে এসেছে, সেই ছেলেমেয়েরা খুবই কুশলী ও শক্তিশালী, খুব ভাল করে তৈরী হয়েই এখানে এসেছে. ২৪ জনের মধ্যে দ্বিতীয় পর্যায়ে উঠতে পেরেছে শুধু আট জন”.

    এই ধরনের প্রচুর চাপের মধ্যে থাকার সময়ে, প্রয়োজন পড়ে খুবই সহায়তার, যা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের দিয়েছে মস্কোর স্বেছাসেবকরা.

    আর ১৩ বছরের গায়িকা আলিনা লমাকিনা এসেছে ভলগোগ্রাদ অঞ্চল থেকে, তার “সমর্থক দল” হিসাবে এসেছেন শুধু তার মা. প্রসঙ্গতঃ, বয়সে ছোট হলে কি হবে, আলিনা – খুবই অভিজ্ঞ প্রতিযোগী: সে এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিচ্ছে এর মধ্যেই তৃতীয়বার. “প্রথমবার আমি শুধু ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট পেয়েছিলাম, দ্বিতীয়বার পেয়েছিলাম ব্রোঞ্জ পদক, এবারে আশা করছি আরও ভাল করার”, - আলিনা “রেডিও রাশিয়াকে” সাক্ষাত্কারে বলেছে.

    ২০ বছরের সের্গেই ইঝভ তাম্বোভ অঞ্চল থেকে এসে যোগ দিয়েছে এক নতুন ধরনের প্রতিযোগিতা, যার নাম “শিক্ষা দেওয়ার শিল্প”, তাতে যোগ দিয়েছে. সে এর মধ্যেই পাঁচ বছর ধরে বাচ্চাদের শিক্ষা দিয়ে আসছে, ছোটদের সব কিছু শিখে নেওয়ার পথ দেখানোর কাজ করে সে. যদিও সে নিজেই এখনও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র, তবুও তার একটুও ভাবতে অসুবিধা নেই যে, সে পরে হয়ত স্কুলেই পড়াবে. সে “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছে:

    “আমি ডেলফিক গেমস সম্বন্ধে অনেক দিন ধরেই জানি, কিন্তু আমি ভাবতাম এটা বোধহয় শুধু গান, নাচ এই সবের প্রতিযোগিতা. আর হঠাত্ করেই এই ধরনের একটা প্রতিযোগিতা শুরু করা হয়েছে, যেমন “শিক্ষা দেওয়ার শিল্প”. জানেন, আমার জন্য বাচ্চাদের সঙ্গে কাজের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামী বিষয় হল – তাদের সঙ্গে কথা বলা. আমি সঠিক জানি যে, প্রত্যেক বাচ্চাই – একক, একটা আবিষ্কার. আর আমি চেষ্টা করি প্রত্যেক বাচ্চার সঙ্গে আলাদা করে কাজ করতে”.

    মস্কো থেকে সের্গেই নতুন ও অত্যন্ত মূল্যবান অভিজ্ঞতা নিয়ে যাচ্ছে, বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলার, কারণ এই প্রতিযোগিতার প্রোগ্রামে – একেবারে অচেনা বাচ্চাদের সঙ্গে খোলা ভাবে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে: প্রথমে সেই সব বাচ্চাদের সাথে, যাদের বয়স ৪ থেকে ৬.

    তারপরে ১৩- ১৪ বছরের ছেলেমেয়েরা. তাছাড়াও অন্যান্য স্মৃতিও মনে থেকে যাবে, এই বিশ্বাস নিয়ে সের্গেই বলেছে:

    “আমি বহু প্রতিযোগিতায় দর্শক হিসাবে ছিলাম. আমার দেখতে ইচ্ছা হয়েছিল, আর আমি বলতে পারি যে, প্রত্যেক প্রতিযোগিতাই দারুণ আগ্রহের! বলা যাক “বেহালা বাজানো”... বাচ্চাদের দিকে, যাদের এখনও ১৫ বছর বয়সই হয় নি, দেখলে মনে হয়, অথচ তারাই কি সমস্ত কঠিন কম্পোজিশন বাজাচ্ছে! আর এখানে সত্যই এলে দেখতে পাওয়া যায় যে, সারা রাশিয়া, সমস্ত অঞ্চলই শিল্পকলার চর্চা করে. আমি দেখেছি ও এবারে সম্পূর্ণ ভাবে আশ্বস্ত হয়েছি যে, রাশিয়াতে আগের মতই অনেক নিজ গুণে গুণী লোক রয়েছেন...”

    ডেলফিক প্রতিযোগিতার ফলাফল অনুযায়ী আয়োজকরা রাশিয়ার অঞ্চলগুলির এক ধরনের রেটিং তৈরী করে থাকেন, যেখানে প্রতিভা সবচেয়ে বেশী দেখতে পাওয়া যায়. আর প্রতিযোগীরা নিজেরাই – তাদের মধ্যে সবচেয়ে যারা সেরা – তারা রাশিয়ার জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ডেলফিক গেমস অনুষ্ঠানে যাবে.