সময়ের আগেই জন্ম হওয়া ও সময়ের আগেই জন্মের সময়েই মৃত্যু হওয়া শিশুদের পরিসংখ্যানে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে প্রথমে রয়েছে. বিশ্বে প্রতি বছরে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের সমগ্র পরিসংখ্যান অনুযায়ী এক কোটি পনেরো লক্ষের মধ্যে ভারতের ভাগ ৩৫ লক্ষ. আর এদের মধ্যে তিন লক্ষের বেশী মারা যায় একেবারেই জন্ম কালে. এটা – “খুব আগেই হয়ে যাওয়া জন্ম: নামের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সময়ের আগেই জন্ম সংক্রান্ত কাজের রিপোর্টের” তথ্য.

    যদি দেশের জনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে শতকরা হারে এটার হিসাব করা হয়, তবে এই ছবি ততটা ভয়ঙ্কর লাগে না: ভারত এই তালিকায় ১৯৯ এর মধ্যে ৩৬ নম্বর জায়গায় রয়েছে. আর যদি চিনের সঙ্গে তুলনা করা যায়, যারা এখনও মোট জনসংখ্যার হিসাবে ভারতের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে, তবে ভারতের তুলনায় চিনে সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া বাচ্চার সংখ্যা তিন ভাগ কম. এই ধরনের ব্যাপার হওয়ার কারণ অনেক. যদিও বিগত বছর গুলিতে ভারতবর্ষ অর্থনৈতিক দিকে মনে করার মতো সাফল্য দেখিয়েছে, তবুও এই সাফল্য গুলি বাস্তবে দেশের বহু কোটি মানুষের জীবনে কোন রকমেরই প্রভাব ফেলতে পারে নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    “কিছু তথ্য অনুযায়ী, এখনও ভারতের প্রায় একের চতুর্থাংশ জনগন - এটা প্রায় তিরিশ কোটি মানুষ দিনাতিপাত করছেন এক ডলারেরও কমে (পঞ্চাশ ভারতীয় টাকার কমে). জন্মের সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসাবে বলা হয়েছে অল্প বয়সে বিবাহ ও তার ফলশ্রুতি হিসাবে কৈশোরে গর্ভবতী হওয়া, গর্ভাবস্থায় মহিলাদের ভাল করে খেতে না পাওয়া. চিকিত্সার ভাল ব্যবস্থার অত্যন্ত অভাব”.

    মনে হয়েছিল, এই সমস্যা সমাধানের পথ – এমন করা যাতে ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিতর্কাতীত সাফল্য দেশের জনগনের অধিকাংশের কাছেই পৌঁছায় ও তাদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন করে, আর তার থেকেও মুখ্য হল – চিকিত্সা ব্যবস্থার উন্নতি করা, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে.

    কিন্তু ভারতকে প্রস্তাব করা হচ্ছে সবচেয়ে আলাদা রকমের প্রেসক্রিপশন. কয়েক দিন আগে ভারত সফরে এসেছিলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের জনসংখ্যা তহবিলের ডিরেক্টর বাবাতুন্ডে অসোতিমেহিন. তাঁর প্রেসক্রিপশন হল, সামাজিক সংস্থান ভাল করা নয়, বরং জন্মহার কমানো. “আমি মনে করি যে, ভারতের সেই বাস্তবকে স্বীকার করতেই হবে যে, তাদের খুবই সক্রিয় ও আগ্রাসী ভাবে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে কাজ করতে হবে”, - ঘোষণা দিয়েছেন শ্রী অসোতিমেহিন.

    এই ধরনের পরামর্শ শুধু ভারতীয় সমাজের ঐতিহ্যের পরিপন্থীই নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের – যেমন, মানব জীবনের নিঃশর্ত মূল্যের ও পরিপন্থী, এই রকম মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    “বাস্তবে, আধুনিক পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত নীতি বাগীশরা চেষ্টা করছেন সেই আঠারশো শতকের ইংরেজ ধর্ম গুরু ও অর্থনীতিবিদ টমাস ম্যালথাসের জনসংখ্যা সংক্রান্ত ধারণাকেই নতুন মোড়কে উপস্থিত করতে চাইছেন. তাঁর ধারণা অনুযায়ী জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায় ছিল যুদ্ধ ও মড়ক, আর বর্তমানের লিবারেল পণ্ডিতরা আরও সূক্ষ্ম করে বলছেন: তাঁরা সক্রিয়ভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি ব্যবহারের পক্ষে, মহিলারা যাতে চাইলেই গর্ভপাত করাতে পারেন ইত্যাদি.

    একই সময়ে, বহু গ্রহণযোগ্য ও মর্যাদা দেওয়ার মতো গবেষণায় প্রমাণ হয়েছে যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক প্রগতিতে একটি প্রধান অর্থনীতি হয়ে ওঠার প্রতিযোগিতায় ভারতের জনসংখ্যা হল অন্যতম কারণ. এই ক্ষেত্রে যদি না বলাও হয় যে, অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ গুলির অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে যে, জন্মহার কমার অর্থ হল অবশ্যম্ভাবী ভাবে সামাজিক সংস্থান কমে যাওয়া, প্রাথমিক ভাবে – বয়স্ক মানুষদের পেনশন ব্যবস্থা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে”.

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই রিপোর্টের ভিত্তিতেই প্রতি বছরে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া শিশুদের হিসাবে – প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশী- অর্থাত্ ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র. এই দেশে সেই সমস্ত কঠিন সমস্যা গুলি, যা ভারতের আছে, তা নেই – যেমন, দেশের অধিকাংশ লোক গরীব, চিকিত্সা পাওয়া যায় না, ইত্যাদি. অথচ খুবই দ্রুত বেড়ে উঠেছে গর্ভপাত, এক লিঙ্গ বিবাহ, ইন ভিট্রো গর্ভাধান, যাকে “পরিবার পরিকল্পনা” কর্মসূচীর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে. সুতরাং হতে পারে যে, ভারতের এই নিউইয়র্কে সদর দপ্তর থাকা তহবিলের নির্দেশ মানা নিয়ে তড়িঘড়ি না করলেও চলবে, কি মনে হয়?