রাশিয়ার ক্রেমলিনের বড় প্রাসাদে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন শেষ হতে চলেছে. অনুষ্ঠান হবে ৭ই মে. দেশের প্রধান নেতার দায়িত্বভার গ্রহণ অনুষ্ঠানের সমস্ত খুঁটি নাটি নিয়েই ভাবা হয়েছে. রাষ্ট্রপতির অর্কেস্ট্রার ব্রাস ব্যান্ডের সব কটাই ঝকঝক করছে, ক্রেমলিনের বাহিনীর প্রহরীরা তৈরী হয়েছে জোরে “হুররে!” বলার জন্য. পারদর্শী রন্ধনবিদরা আগামী ব্যাঙ্কোয়েটের মেন্যুতে শেষ সংযোজন ও সংশোধনে ব্যস্ত.

    আধুনিক রাশিয়াতে দেশের প্রধানের আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে পাঁচ বার. প্রথমবার হয়েছিল ১৯৯১ সালে, যখন বরিস ইয়েলতসিন নিজে পদ দখল করেছিলেন. তখনই এই অনুষ্ঠানের মৌলিক বিষয় গুলি তৈরী করা হয়েছিল. আজকের রাশিয়ার সমাজে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতই এই ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘটনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানা ধরনের মত রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে “ইন্ডেম” তহবিলের রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির রিমস্কি বলেছেন:

    “এই পরিস্থিতিতে আমরা লক্ষ্য করি প্রায়ই যে, আমাদের প্রতীকই খালি ঐক্যবদ্ধ করে. অর্থাত্ এই প্রতীককে প্রত্যেকেই নিজের মত করে অর্থ করে, কিন্তু বেশীর ভাগের জন্যই, অন্তত, তার অর্থ রয়েছে. আর যাতে আমাদের নাগরিকরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে নিজেদের নির্দিষ্ট ঐক্য বুঝতে পারে, সবচেয়ে উচ্চ পদাধিকারীর সঙ্গেও, তাই এই ধরনের অনুষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে. এটার একটা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞাও রয়েছে, যারা রাশিয়া নিয়ে আগ্রহী, তাদের কাছে এটা প্রকট হয় যে, আমাদের দেশে প্রশাসন ও নাগরিকের মধ্যে ঐক্য বোধ কি রকমের”.

    আনুষ্ঠানিক ভাবে শপথ গ্রহণের সময়ে রাষ্ট্রপতি সংবিধানের বয়ানের উপরে হাত রেখে শপথ নেন. তাতে ৩৩টি শব্দ রয়েছে. আর দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বিশ্বস্ত ভাবে সেবার কথা বলা হয়েছে. এই অনুষ্ঠানের সময়ে দেশের প্রধানকে আলাদা রকমের সমস্ত প্রতীক হাতে তুলে দেওয়া হয়. এটা – রাষ্ট্রপতির পতাকা ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রতীক, যাতে রাষ্ট্রের চিহ্ন রয়েছে. এরই উল্টো দিকে খোদাই করা আছে: “লাভ, মর্যাদা ও গৌরব”.

    এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে দেশের প্রশাসন, আইন প্রণয়ন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে. এই অনুষ্ঠানে দেশের প্রধান ধর্মাচার গুলির প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, রাষ্ট্রের প্রধান পদক প্রাপ্ত লোকদের, অন্যান্য রাষ্ট্রের দূতাবাস গুলির প্রধানদের, সামাজিক সংস্থা গুলির প্রতিনিধিদের, সাংবাদিক দেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়. রাষ্ট্র প্রধান শপথ গ্রহণ করার পরে, দেশের সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি ও সভাপতি রাষ্ট্রপতির পদ গৃহীত হয়েছে বলে ঘোষণা করেন. তারপরে রাশিয়ার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়, আর রাষ্ট্রপতির ভবনের উপরে তোলা হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতির বিশেষ পতাকা. এর পরে রাষ্ট্রপতি বক্তৃতা দিয়ে থাকেন ও তার পরে তিরিশ বার কামান ছুঁড়ে স্যালুট জানানো হয়. এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরে ক্রেমলিনের ভিতরের গির্জা স্কোয়ারে রাষ্ট্রপতিকে দেশের সর্বোচ্চ সেনা অধিনায়ক হিসাবে    দেখানো হয়ে থাকে রাষ্ট্রপতির বাহিনীর নিজস্ব প্যারেড.

    এই অনুষ্ঠানের অতিথিদের জন্য পোষাকের নিয়ম যথেষ্ট লিবারেল, আশা করা হয় যে, লোকে শান্ত রঙের পোষাক পরেই আসবেন. ব্যাঙ্কোয়েটের মেন্যু সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল, এটা হবে রুশ জাতীয় খাদ্যাভ্যাসের কথা মাথায় রেখেই. আপাততঃ প্রধান রন্ধনবিদরা এটা গোপন রেখেছেন.