সিরিয়া তৈরী হচ্ছে পার্লামেন্ট নির্বাচনের জন্য, যা ৭ই মে হবে. গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে এই প্রথমবার তা হবে বহু দলীয় ভিত্তিতে, ২৬শে ফেব্রুয়ারী দেশে গণ ভোটের মাধ্যমে গৃহীত নতুন সংবিধান অনুযায়ী. এই প্রথমবার তাতে সরকারি ভাবে নথিভুক্ত বিরোধী দল গুলিও অংশ নেবে. তাদের মধ্যে কিছু এর আগেই মস্কো এসেছিলেন ও রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন.

    রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ মন্ত্রী মিখাইল বগদানভ রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের পরিস্থিতিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল বিরোধী দল গুলির ঐক্যবদ্ধ মত, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা সব সময়েই বিরোধী পক্ষকে গঠন মূলক এক মতের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছি, যাতে বিরোধী পক্ষ নিজেরাই নির্দিষ্ট করতে পারে তাদের দাবী ও ভবিষ্যতের দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী সিরিয়ার সামাজিক – অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তৈরী করতে পারে. এই গঠন, বোঝাই যাচ্ছে যে, সংশোধনের প্রয়োজন বোধ করবে, আর এটা সিরিয়ার প্রশাসনও স্বীকার করেছে. কিন্তু, আমার মতে, এই লক্ষ্যে পৌঁছনো সম্ভব হবে না, যদি না সামাজিক আলোচনাকে প্রসারিত করা সম্ভব হয়.

৭ইমের নির্বাচনের পরে, আমরা যে রকম বুঝি যে, যখন পার্লামেন্টের সদস্য অনুপাত নির্দিষ্ট হয়ে যাবে, তখনই নতুন ও সম্ভবতঃ, জোট সরকার তৈরী হবে. কারণ পার্লামেন্টে শুধু বর্তমানের বাস দলের প্রতিনিধিরাই থাকবেন না, বরং অন্যান্য দল ও রাজনৈতিক সংস্থার লোকও থাকবেন. তাই আমার মতে সবচেয়ে মুখ্য হল – যাতে বিরোধী পক্ষ প্রশাসনের সঙ্গে একই ভাষায় কথা বলে. এই ভাষা হওয়া উচিত্ সবচেয়ে গঠন মূলক, যা সেই দিকে নির্দেশ করে, যাতে গৃহযুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়, যাতে রাজনৈতিক আলোচনার মধ্যে দিয়ে দেশের ভবিষ্যত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়, তার মধ্যে দেশের প্রশাসনিক সংস্থা গুলিকে তৈরী করা যায়, তা যেমন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে, তেমনই তার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের উপ প্রধানের মতে জোট সরকার গঠন, একেবারেই বাস্তব, এমনকি সেই দিকে না লক্ষ্য করলেও যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের মধ্যে রয়েছে সেই ধরনের লোক, যারা বর্তমানের সংবিধানকে স্বীকার করে না ও পার্লামেন্টের নির্বাচন বয়কট করার কথা ভাবছে, তাই তিনি যোগ করেছেন:

“এটা ঠিকই যে, সমস্ত ধ্বংস করার মতো শক্তিও রয়েছে, যাদের কোন রকমের সংশোধনের প্রয়োজন নেই. তারা বোঝে যে, গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচনের পথ দিয়ে কখনোই সরকারে আসা হবে না. আমি এখানে প্রাথমিক ভাবে মনে করছি চরমপন্থী, বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির কথা, যারা সন্ত্রাসবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত, আল- কায়দার সঙ্গে যুক্ত. তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে অংশ নেয় না তাদের নীতিগত দিক থেকেই. কিন্তু আরও আছে সেই সমস্ত জাতীয়তাবাদী শক্তিরাও, যারা আপাততঃ ক্ষমতায় থাকা প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে. যে কোন ভাবেই হোক, আলোচনা তৈরী করা – এটা একটা প্রক্রিয়া, কোন এক বারের ঘটনা বা অনুষ্ঠান নয়. এই প্রক্রিয়া হওয়ার জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক জ্ঞান ও স্থৈর্যের, আর এই প্রসঙ্গে বর্তমানে সবচেয়ে মুখ্য হল – রক্তক্ষয় বন্ধ করা.

অবশ্যই এই দেশ সংশোধনের জন্য তৈরী হয়েছে, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের জন্য. আর আমাদের মতে, এই ধরনের সংশোধন ও পুনর্গঠনের জন্য সবচেয়ে ভাল কাঠামো হল – প্রসারিত জাতীয় আলোচনা ও নির্বাচন. জনগনের তাঁদের পক্ষ থেকে কি ধরনের প্রশাসন ও দেশ দেখতে চান, সেই বিষয়ে ভোটের মাধ্যমে মত জানানো উচিত্. এই মত বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া উচিত্ হবে না. আমাদের কাজ হল, বিশ্ব সমাজের অংশ হিসাবে, - আন্তর্সিরিয়া আলোচনা প্রক্রিয়ার শুরুকে সহায়তা করার জন্য সেই সমস্ত সেতু নির্মাণে সাহায্য করা”.