বিশ্বের একমাত্র অলিম্পিক বিশ্ববিদ্যালয়, যা সোচী শহরে তৈরী করা হয়েছে, তা প্রথম ছাত্রদের নেওয়ার জন্য সেপ্টেম্বর মাসে চালু হয়ে যাবে. এখন ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের জন্য কর্মী তৈরী করার বিষয়েই প্রধান জোর দেওয়া হবে, আর তারপর থেকে এই আলাদা রকমের রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়, যা এখনই বলা হয় খেলাধূলার “হাওয়ার্ড” নামে, প্রতি বছরে বহু শত আন্তর্জাতিক স্তরের বিশেষজ্ঞ তৈরী করে দেবে, যাঁরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে পারঙ্গম হবেন. বেশীর ভাগ ছাত্রই এখানে হবেন বিদেশী. প্রথম বছরে ক্রীড়া প্রশাসন বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাঠক্রম পড়ানো হতে যাচ্ছে ইংরাজী ভাষায়.

একেবারেই আলাদা রকমের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা ও সাংবাদিকতা নিয়ে রুশ এমবিএ প্রোগ্রাম সারা বিশ্বের এই বিষয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মীদের তৈরী করে দেবে. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প একেবারে শূন্য থেকে শুরু করার খরচ খুবই বেশী. রাশিয়া এই ধরনের বিশাল খরচা নিজের কাঁধে এই কারণে নিতে রাজী হয়েছে যে, আগামী দশকে দেশে খুব একটা কম আন্তর্জাতিক মানের বড় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে না বলেই: অলিম্পিক, ইউনিভার্সিয়াড, ফুটবল ও আইস হকির বিশ্বকাপ. বেশীর ভাগ ছাত্রই, যারা সোচী শহরে পড়তে আসবেন, তারা বিদেশী, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনারেল ডিরেক্টর লেভ বেলোউসভ বলেছেন:

“এই পড়াশোনার প্রতিষ্ঠান অলিম্পিকের জ্ঞানের ভিত্তিতে এখানে বিশেষজ্ঞ তৈরী করবে. মাস্টার অফ স্পোর্টস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নামের পাঠক্রম স্রেফ খেলাধূলার ব্যবস্থা করে দেওয়ার উপরে ভিত্তি করেই তৈরী হয় নি, বরং তৈরী করা হয়েছে অলিম্পিকের ব্যবস্থাপনা করে দেওয়ার উপরে ভিত্তি করে, তাতে বহু বিশেষ বিষয় ও সমস্যা নিয়ে পড়ানো হবে. পশ্চিম ইউরোপে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খেলাধূলার বিষয়ে প্রশিক্ষণের কেন্দ্র রয়েছে, তাছাড়া রয়েছে অলিম্পিক নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রও, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে খেলাধূলা পরিচালনার জন্য বিশেষজ্ঞ অলিম্পিকের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরী করা হবে, এই রকমের এখনও কোথাও নেই”.

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াবেন বেশীর ভাগই মার্কেটিং, খেলাধূলার ইতিহাস ও দর্শন শাস্ত্রের অধ্যাপক, আর খেলা নিয়ে সাংবাদিকতা সম্বন্ধে পড়াবেন সারা দুনিয়া থেকেই আসা সাংবাদিকরা. এই কারণেই লেখা পড়া এখানে করা হবে ইংরাজী ভাষায়, এটাই বিশেষ করে উল্লেখ করে লেভ বেলোউসভ বলেছেন:

“আমরা সবচেয়ে ভাল লোকদেরই নিচ্ছি, যাতে আমরা সবচেয়ে ভাল ফলই দিতে পারি. এটা প্রাথমিক ভাবে বিদেশী প্রফেসর. লেখা পড়া হবে ইংরাজী ভাষায়. এই “ক্রীড়া প্রশাসন নিয়ে স্নাতকোত্তর” পাঠক্রম নিয়ে যারা পড়াবেন, তাঁদের অধিকাংশই আসছেন বিদেশ থেকে: গ্রেট ব্রিটেন, কানাডা, স্পেন, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া”.

লন্ডনে অলিম্পিকের সময়ে ১৪ই জুলাই ২০১২ সালে এই পাঠক্রম, যা রুশ এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞরা তৈরী করেছেন, তা জনসমক্ষে উপস্থিত করা হবে. বিশেষজ্ঞ তৈরী করার ক্ষেত্রে এই বিরল বিশ্ববিদ্যালয় এর মধ্যেই নিজেদের বিশ্বের নেতৃস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় গুলির সাথে এক সারিতে দাঁড়িয়েছে. রাশিয়ার এই প্রকল্পের আরও একটি বিশেষত্ব রয়েছে – সোচীতে পেশাদার খেলোয়াড়দের একটা নতুন পেশা তৈরী করে দেওয়ার কথা হচ্ছে, যারা বয়সের কারণে খেলা ছেড়ে দিচ্ছেন.