রাশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয় বিমান বন্দর গুলিতে উড়ান পূর্ব যাত্রী নিরাপত্তার আইনে পরিবর্তন এনেছে. ২০১২ সালের মে মাস থেকেই বেশীর ভাগ যাত্রীকে আর জুতো খুলতে হবে না ও বেল্ট খুলতে হবে না. আর হেমন্ত কাল থেকেই বিমানের ভিতরে জল নিয়ে ঢোকার বিষয়ে বাধা দূর করে দেওয়া হবে. কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, নিরাপত্তা পরিষেবা তাদের নজর কমিয়ে দিচ্ছে. স্রেফ সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার প্রযুক্তি আরও বেশী ভাল হয়েছে.

    জুতো খুলবেন না শুধু তারাই, যাদের জুতোর তলা এক সেন্টিমিটারের কম, আর হিলের উচ্চতা আড়াই সেন্টিমিটারের বেশী নয়. প্যান্টের বেল্টের বিষয়ে শুধু তাদেরই সুবিধা হবে, যাদের বেল্ট হাল ফ্যাশনের. বড় ও চওড়া ধাতুর টুকরো ও চামড়ার বেল্ট কিন্তু খুলতে হবে ভাল করে দেখার জন্য. তবুও এই ধরনের সুবিধা করে দেওয়া বিমানবন্দরে প্রবেশের জন্য সময় কমাবে ও সুবিধা বাড়িয়ে দেবে.

    জুতো ভাল করে দেখা ও বিমানের ভিতরে কোন রকমের তরল সঙ্গে না নিয়ে ঢোকার নিয়ম করা হয়েছিল, প্রয়োজনে পড়ে. ২০০৭ সালে গ্রেট ব্রিটেনে এক সন্ত্রাসবাদী কোন রকমের বাধা না পেয়েই জুতোর হিলে লুকিয়ে বিস্ফোরক সমেত বিমানে উঠে পড়তে পেরেছিল. তারপর থেকেই সারা বিশ্বের বিমান বন্দর গুলিতে খুবই গুরুত্ব দিয়ে নিয়ম কঠোর করা হয়েছিল. সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, আর নতুন প্রযুক্তি এবারে আবার পুরনো আরাম ফিরিয়ে দিয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষ বাহিনী “আলফার” প্রাক্তন কর্মী ও বর্তমানের আন্তর্জাতিক সংগঠনের সভাপতি সের্গেই গনচারভ বলেছেন:

    “সেই প্রযুক্তি, যা বর্তমানে বিমানবন্দরে লাগানো হয়েছে, তা আরও গুরুতর ভাবে ও খুঁটিয়ে যাত্রীদের যারা বিমানে চড়তে যাবেন, নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম. এই যন্ত্র, সহজেই যে কোনও তরল বিস্ফোরক কি না পরীক্ষা করতে দেখতে পারে. আপনারা একবার এই কেবিনে ঢুকলেই, যন্ত্র একেবারে শরীরের ভিতর পর্যন্ত পরীক্ষা করে দেখে নেবে. আর যে কোন ধরনের জিনিসই, যা আপনার গায়ে বা সঙ্গে থাকবে, অথবা যে কোন ধরনের তারই এক্স রে দিয়ে দেখা হয়ে যাবে. অর্থাত্ যে ভাবেই হোক আপনাকে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়ে যাবে”.

    তাছাড়া আরও বেশী করে এই পরীক্ষা করার জায়গায় মনস্তত্ব বিদের কাজও আরও বেশী করে ভরসার উপযুক্ত হচ্ছে. এই পদ্ধতি ব্যবহার করে সন্ত্রাসবাদী হানা এড়ানোর প্রতি বিশ্বাস যোগ্যতা ইজরায়েলে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে. রাশিয়াতে অবশ্য এখনও এটা খুব কমই ব্যবহার করা হচ্ছে. কিন্তু এই ক্ষেত্রে খুবই ভাল করে ব্যবহার করা হচ্ছে, কুকুর সমেত কর্মীদের. এই বিষয়ে “পরিষেবার কুকুর” নামের এক কেন্দ্রের প্রধান দিমিত্রি রদিওনভ বলেছেন:

    “কুকুর খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে. এই জীব মানুষের উপরে মনস্তাত্বিক প্রভাব বিস্তার করে. এমনকি যদি সেই কুকুর কিছু নাও পারে, তবে সেই মানুষ, যে লোক নিজের শরীরে বিস্ফোরক সমেত বেল্ট নিয়ে এসেছে, অথবা কোন অপরাধ কতে যাচ্ছে, সে ভয় পেয়ে যায়. সে দাঁড়িয়ে পড়ে, চেষ্টা করে অপেক্ষা করতে, যতক্ষণ না কুকুর চলে যায় অথবা অন্য কোন রাস্তা ধরার কথা ভাবে. কুকুর এই ধরনের লোকের সম্বন্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়”.

    প্রসঙ্গতঃ, কোনও গোপন কথা নয় যে, সবচেয়ে ভাল কাজ করে সব কিছু মিলিয়ে তৈরী নিরাপত্তার ব্যবস্থা, যখন বৈদ্যুতিন যন্ত্র, মানুষ. কুকুর ও আরও সমস্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা এক সঙ্গে কাজ করে. এখানে ভুলে গেলে চলবে না অপরাধ হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া নিয়ে, রাশিয়ার নিরাপত্তা রক্ষী সংস্থার জন্য এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজের দিক.