সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াইতে পাইলট বিহীণ ড্রোন বিমান দিয়ে আঘাত হানা সহায়তা করে. ড্রোন আঘাত আইন সম্মত, নৈতিক, প্রয়োজনীয় ও প্রতিতুলনীয়, ঘোষণা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা জন ব্রেন্নান. প্রয়োজন শুধু এই ব্যবহারকে আরও “স্বচ্ছ করার”, বলেছেন তিনি. বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    মার্কিন রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতার এই ঘোষণা মার্কিন বিশেষ বাহিনী দিয়ে ওসামা বেন লাদেনকে ধ্বংস করার বার্ষিকীর সমসাময়িক হয়েছে. এই কথা সত্য যে, তাকে ড্রোন থেকে রকেট ছুঁড়ে মারা হয় নি. তার জন্য প্রয়োজন হয়েছিল বিশেষ ধরনের সামরিক অপারেশন, যা করা হয়েছিল মার্কিন বিশেষ বাহিনীকে দিয়ে পাকিস্তানের অ্যাবত্তাবাদে. কিন্তু আমেরিকার লোকরা এই ক্ষেত্রেও কাজ করেছিল, ড্রোন হামলার মতই. তারা পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব খুবই ন্যক্কার জনক ভাবে লঙ্ঘণ করেছিল, এই অপারেশন পাকিস্তানের সঙ্গে সমঝোতায় না করে আর নিরীহ শান্তিপ্রিয় মানুষদের জীবন মৃত্যুর সামনে উপস্থিত করে. এখানে খুবই কঠিন হবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর লোকদের কাজ কর্মকে আইন সঙ্গত অথবা নৈতিক বলা. কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিছুদিন আগেও পাকিস্তানকে ন্যাটো জোটের বাইরের সবচেয়ে বড় মিত্র বলে অভিহিত করে এসেছে ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সাথী বলেছে. এই প্রশ্নের বিষয়ে রাশিয়ার পাইলট বিহীণ ড্রোন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ দেনিস ফেদুকিনভ বলেছেন:

    “যুদ্ধের সময়ে ড্রোনের ব্যবহার, যেমন এটা করা হয়েছিল ইরাকে, সেই রকম নয়, বরং যে দেশের সঙ্গে কোন যুদ্ধ ঘোষণা করা হয় নি, যেমন ইয়েমেন বা পাকিস্তান, যারা আবার নির্দিষ্ট স্তরে আমেরিকার সহকর্মী দেশও বটে, তা প্রশ্নের উদ্রেক করে. কারণ ড্রোন ব্যবহারের একটা মানবিক দিকও রয়েছে. তার ব্যবহারে প্রায়ই শুধু জঙ্গীরা নয়, বরং সাধারন মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যারা কাছে পিঠেই ছিলেন, অথবা যাদের ভুল করে জঙ্গী ভাবা হয়েছে. এই ধরনের পরিস্থিতি একাধিকবার হয়েছিল, তার মধ্যে পাকিস্তানেও”.

    এই প্রসঙ্গে সরকারি তথ্যও রয়েছে. বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি হয়ে আসার পরে পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় ৬০টিরও বেশী বাচ্চা নিহত হয়েছে, মহিলা ও বৃদ্ধদের সংখ্যা ছাড়িয়েছে শতাধিক. পাকিস্তানে আমেরিকা বিরোধী মনোভাবের আরও শক্তি বৃদ্ধি হয়েছে এই ড্রোন হামলায়. বিগত সময়ে তা একেবারে মাত্রা ছাড়িয়েছে.

    পাকিস্তান নিজেদের দেশে মার্কিন সেনা বাহিনীর উপস্থিতি কম করার দাবী করেছে, শামসি বিমানবন্দর, যেখানে ঘাঁটি ছিল মার্কিন ড্রোন বিমানের, তা বন্ধ করে দিয়েছে. ন্যাটো সেনা বাহিনীর জন্য আফগানিস্তানে রসদ পাঠানোর রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিল, পাকিস্তানের জমিতে. পাকিস্তানের পার্লামেন্টের পরিষদ আমেরিকা ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ভাল করার এক প্রধান শর্ত হিসাবে পাকিস্তানের জমির উপর দিয়ে ড্রোন উড়ান বন্ধ করার দাবী করেছে.

    এই রকমের একটা পটভূমিকায় মার্কিন রাষ্ট্রপতির পরামর্শদাতা জন ব্রেন্নানের ঘোষণা যে, সমস্ত ড্রোন হামলাই সেই সব দেশের প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমেই করা হয়েছে, এই কথা বলা অন্তত পাকিস্তানে অবোধ্য বলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে.