স্যালুট ছাড়া, বরং বিস্ফোরণের সঙ্গে. কাবুল শহরকে পাঁচটি পরপর বিস্ফোরণ নাড়া দিয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার অঘোষিত সফর শেষ হওয়ার পরেই. এই সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সরকারি ভাবে ২০১৪ সালে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরেও নিজেদের কিছু সেনাকে রেখে দেবে.

    ওয়াশিংটন ও কাবুল চুক্তি করেছে ২০১৪ সালে সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরেও সহযোগিতার. নতুন ও আপাততঃ প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী, যা ওবামার অঘোষিত সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আরও দশ বছর এই দেশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে. তারই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিজের উপরে আফগানিস্তানের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছে. ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই দেশ থেকে সেনা প্রত্যাহারের পরেও সেনা বাহিনী রেখে দেবে.

    মার্কিন রাষ্ট্রপতির এই সফর অনেকটাই প্রতীকের মত, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আফগান বিভাগের প্রধান ভিক্তর কর্গুন উল্লেখ করেছেন যে, এই সফর এমনকি যেন ওসামা বেন লাদেন ধ্বংসের বার্ষিকী উপলক্ষে করা হয়েছে, যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নাম দেওয়া হয়েছিল বিশ্বের “এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী” বলে. ওবামার আফগানিস্তান সফরের পরে এই দেশে শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনও সত্যিকারের অগ্রগতি দেখতে পাওয়া গেছে বলা যাচ্ছে না, তাই বিশেষজ্ঞ যোগ করেছেন:

“তাঁর সফর আফগানিস্তানের পরিস্থিতিতে ভালোর দিকে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাই উপস্থিত করে নি, কোনও শান্ত অবস্থা, কোনও সামাজিক হিংসার অবসানের দিকেও নিয়ে যায় নি. অবশ্যই আরও একটি পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা দেখানো হয়েছে. কিন্তু অধিক ভাবেই, এটা প্রতীক মাত্র. আর বাস্তবে শক্তির অনুপাত পরিবর্তন করা, প্রশাসনের বিরোধীদের উপরে কোন রকমের প্রভাব বিস্তার করা, অবশ্যই এই সফর করতে পারে নি. আর তা করার কথাও ছিল না. তার ওপরে যখন এটা ছিল একটা অপরিকল্পিত সফর, যার বিষয়ে কোনও সমঝোতায় আগে আসা হয় নি. অর্থাত্ তা পরিকল্পিত ছিল না, বলা যেতে পারে, আফগানিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ভাবে স্বীকৃত আন্তর্রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে”.

বারাক ওবামার সফরকে এক ধরনের নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ সফর বলা যেতে পারে, এই রকমই মনে করেছেন ভিক্তর কর্গুন, কারণ সেই দেশে থেকে যাওয়া সামরিক বাহিনী, আগামী নির্বাচনে তারাও অংশ নেবে.

বারাক ওবামার কথা অনুযায়ী, ২০১২ সালের গরমের শেষে আফগানিস্তান থেকে ২৩ হাজার সেনা ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে. তার ওপরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি তৈরী করা থেকে নিরত হবে. তবে এই ক্ষেত্রে সরকারি ভাবে কাবুল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে বাধ্য থাকবে. চুক্তি অনুযায়ী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে ন্যাটো জোটের বাইরের দেশ গুলির মধ্যে প্রধান স্ট্র্যাটেজিক সহকর্মী দেশ বলে মানতে বাধ্য থাকবে. তবে এটাও সত্য যে, মার্কিন রাষ্ট্রপতির চলে যাওয়ার ঠিক পরেই হওয়া বিস্ফোরণ গুলি প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আপাততঃ অন্য পক্ষের তরফ থেকে একই ধরনের বদান্যতা আশা করা ঠিক হবে না.