রাশিয়ায় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ মঙ্গলবার পালিত হয়েছে বসন্ত উত্সব ও শ্রম দিবস. সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকতেও এই উত্সব পালন করা হত. বিভিন্ন শ্রমিক সমিতি মস্কোতে শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে. এর পূর্বে কখনই বর্তমান রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এ ধরনের বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কোন শোভাযাত্রায় অংশ নেন নি.

        সরকারি তথ্য মতে, ১ মে দিবস উপলক্ষ্যে ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি  ও বিভিন্ন শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে মস্কোর প্রানকেন্দ্রে আয়োজিত শোভাযাত্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন. অবশ্য, কয়েকদিন আগেই গনমাধ্যমে জানানো হয় যে, মেদভেদেভ ও পুতিন সাধারণ নাগরিকদের সাথে আজকের শোভাযাত্রায় অংশ নিবেন.       

          শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের সাথে বর্তমান রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও সদ্য নির্বাচিত হওয়া রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনকে হাস্যজ্জ্বল মনোভাবে কথা বলতে দেখা যায়. তাঁরা উভয়ই ১ মে উপলক্ষ্যে শোভাযাত্রা আয়োজন করার পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন. শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া একজন রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেন-

আপনার এত ব্যস্ততার পরও কিভাবে আপনি শারীরিক দিক দিয়ে সর্বদা ফিট থাকেন?. উত্তরে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, সময়ের সঠিক ব্যবহার করা উচিত.

অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, এত ব্যস্থতার কারণেই আমাদের শারীরিক গঠন ভাল লাগছে!. আরও বেশি কাজ করা উচিত.

শোভাযাত্রার অন্য এক অংশগ্রহণকারী জিজ্ঞেস করেন- আপনারা কি রাশিফল বিশ্বাস করেন?.

দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, না, আমি বিশ্বাস করি না.

ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, আমিও রাশিফল একদম বিশ্বাস করি না.

          দেশের শীর্ষ রাজনীতিবিদরা এ দিন ছিলেন ভিন্ন চরিত্রে. শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া লোকজনের মুখে ছিল হাসি, অবশেষে মস্কো নগরে গ্রীষ্মকালের একটি আমেজ চলে এসেছে এবং রাজধানীতে এখন ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হল. এমনটি বলছিলেন  ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টির নেতা দুমার ভাইস স্পিকার অলেগ মারোজেভ. তিনি বলছেন,

        ‘চারিদিকে উত্সবমুখর পরিবেশ. আমার জন্য এই উত্সব সবসময়ই সত্যিকার বসন্তের আবির্ভাব বলে মনে হয়. তাছাড়া, এই উত্সব পালন করা হয় ৯ মে’র ঠিক কয়েক দিন পূর্বে যা আমার কাছে অনেক মূল্যবান একটি দিন. আর ১ মে তা অবশ্যই বসন্ত, শ্রম আর বিশ্বাসের উত্সব. প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটেছে. সবার মুখেই হাসি. সত্যিই চমত্কার একটি দিন’.

পুরো মস্কোতে ১ মে উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন ১৪টি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে.