রাশিয়ার মুসলমানদের একটি সূত্রে আবদ্ধ করা হচ্ছে. এরই আলোকে রাশিয়ায় নতুন একটি সামাজিক সংগঠনের যাত্রা শুরু হল. এর নাম হচ্ছে- রুশ ফেডারেশন মুসলিম ইউনিয়ন. মস্কোতে অনুষ্ঠিত সর্বরাশিয়া মুসলমানদের সম্মেলনে এ ধরনের সংগঠন তৈরীর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. রাশিয়ার ৫০টিরও অধিক অঞ্চলের মুসলমান নারীদের সংগঠন অংশ নেয়. সম্মেলনে তুরস্ক, ইরান, স্বাধীন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রবর্গ ও বাল্টিক দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন.

         রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সভাপতি শেখ রাভিল গাইনুতদিন রেডিও রাশিয়ার স্ংবাদদাতাকে বলেছেন, রাশিয়ার মুসলমানরা সামাজিক মঙ্গলজনক কাজ করে যাচ্ছেন. বর্তমানে রাশিয়ার ভূখণ্ডে মুসলমানদের জন্য চারটি শীর্ষ আধ্যাত্মিক সেন্টার রয়েছে. তিনি আরও বলেন, ‘সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহতালার!. সৃষ্টিকর্তার কৃপা মুসলমান মুসলমানদের ওপর বর্ষিত হোক. বর্তমানে রুশী মুসলমানরা সবাই একটি সূত্রে আবদ্ধ হয়েছে যা আমাদের জন্য একটি উদাহরণ. আমাদের সমাজের সামনে যে কর্মসূচি রয়েছে সবাইকে একত্রিত হয়ে তার সমাধান করা উচিত. যারা ইসলামের ওপর আঘাত করতে চায় তাদেরকে সবাই মিলে নিবারণ করতে পারব’.

         রুশ ফেডারেশন মুসলিম ইউনিয়ন পরিচালনা করছেন নিলা জিগানিশিনা. তিনি বিগত ৭ বছর ধরে তাতারস্থান প্রজাতন্ত্রে মুসলিম নারীদের একটি সংগঠন পরিচালনা করেছেন. সংগঠনের উদ্দ্যোগে নিয়মিত কর্মসূচি ছাড়াও আরও নানা বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়. এর মধ্যে রয়েছে মুসলিম পোশাক ডিজাইনারদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা যেখানে তুরস্ক, ইরান, মিশর, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরও অনেক দেশের পোশাক ডিজাইনাররা অংশ নিয়েছেন. নিলা জিগানিশিনার নেতৃত্বে তার এ সংগঠনটি ২০০৭ সালে তাতারস্থান প্রজাতন্ত্রে সেরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পুরস্কার পায়.

         নিলা জিগানিশিনার রয়েছে অনেক পরিকল্পনা. তিনি এখন রুশ ফেডারেশন মুসলিম নারী ইউনিয়নের পরিচালক. সংগত কারণেই তার কাজের মাত্রা আরও নতুন ধারায় শুরু হবে. তিনি বলছেন, ‘অবশ্যই, নারীদের বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় আমার যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও বুদ্ধিমত্তা রয়েছে তার সবটুকু প্রয়োগ করবো. আমার কাছে যে বিষয়টি সত্যিই ভাল লেগেছে তা হল, মিলনায়তনে উপস্থিত অতিথিদের কার্যকরী মনোভাব. আমাদের সংগঠন শুধুমাত্র কাগজে কলমেই নয় বরং কাজের সংগঠন হবে. আমি শিশুদের পচ্ছন্দ করি, তাদের চোখের মাঝে আমি আনন্দ দেখতে চাই. নারীদের আইনগত নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটি সেন্টার দরকার এবং আমাদের সেন্টার নারীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে. এছাড়া আমি মনে করি, রাশিয়ার মুসলমানদের নিজেদের ঘর মুসলমানদের ঘরের আলোকে হওয়া উচিত’.      

 নিলা জিগানিশিনা জানান, রাশিয়ার মুসলিম ইউনিয়নের কর্মসূচি শুরুর পূর্বে আন্তর্জাতিক কমিটি আমাদের সাথে কাজ করবে.