এক বছর আগে ১লা থেকে ২রা মের ভোর রাতে আমেরিকার বিশেষ বাহিনী বেন লাদেনকে ধ্বংস করে দিয়েছিল. অন্তত এই সম্বন্ধে সরকারি ভাবে ঘোষণা করা হয়েছিল.

    অবশ্যই লোক পাওয়া গিয়েছে, যারা এই খবর সেই ভিত্তিকে অস্বীকার করেছেন যে এই ধ্বংস হওয়ার প্রমাণ কেউ দেখে নি, শুধু যারা নিজেরা এই কাজ করেছে, তারা ছাড়া. অনেকেই এখন অবধি বিশ্বাস করেন যে, ওসামা তার ভেল পাল্টে ফেলে অন্য কোনও ঠাণ্ডা শহরে বেঁচে আছে, হতে পারে তা নিজের দেশ ইয়েমেনে অথবা একেবারেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. আর অন্যেরা বলছেন যে, বেন লাদেন আসলে বহু দিন আগেই মারা গিয়েছিল, আর এক বছর আগের ঘটনা ছিল স্রেফ নাটক.

    এই সব গুরুত্বপূর্ণ নয়: যে ভাবেই হোক গত বছরে বেন লাদেনের তরফ থেকে কিছু শোনা যায় নি. আর তার জীবন কালের মুখ্য অর্জন – আল- কায়দা জাল এই বছর তাকে ছাড়াই বেঁচে আছে. আর শেখ ওসামাকে ছাড়া কায়দা কি রকম বেঁচে রয়েছে? নিজেদের ধারণা এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে ব্যাখ্যা করে বলেছেন সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ ও রাজনীতিবিদ আন্দ্রেই গ্রোজিন. ইভগেনি এরমোলায়েভের বক্তব্য ছিল এই রকমের:

“বেন লাদেন নেই, আর আল-কায়দা জাল একটা গঠনের মত হয়েই কাজ করে চলেছে. এই কথা সত্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গুপ্তচর সংস্থার প্রধান জেমস ক্ল্যাপার কিছুদিন আগে বলেছেন যে, আফগানিস্তানে আল- কায়দার প্রভাব অনেকটাই কমে গিয়েছে. কিন্তু এলাকার অন্যান্য দেশ গুলিতে এই কথা বলা যাচ্ছে না. আরব উপদ্বীপের দক্ষিণের আল-কায়দা এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে যে, দক্ষিণ ইয়েমেনের একের পর এক শহর দখল করতে শুরু করেছে. ইরাকের আল- কায়দার অংশ, যারা নিজেদের দুই নদীর দেশের আল- কায়দা বলে অভিহিত করেছে, তারা দেশের জনতাকে কোন রকমের শান্তিতে থাকতেই দিচ্ছে না, যেমন দিচ্ছে না সেই দেশের সরকারকেও, নিয়মিত ভাবে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড কারখানা করে. ঐস্লামিক মাগ্রিবের দেশ গুলির আল- কায়দা তাদের শত্রু কর্নেল গাদ্দাফির পতনে খুবই উদ্বুদ্ধ হয়ে লিবিয়ার সেনা বাহিনীর অস্ত্র রসদ লুঠ করে লিবিয়ার বহু অঞ্চলের উপরে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ জারী করেছে. আর এবারে নিজেদের প্রভাব প্রতিবেশী দেশ গুলিতেও প্রসারিত করছে, যেমন মালিতে. এই ভাবেই বলা যেতে পারে যে, বেন লাদেনের পক্ষে, তার সোভিয়েত দেশের বিরুদ্ধে কাজ করার বছর গুলিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সৌদি আরব ও আরও কয়েকটি দেশ জুড়ে এমন এক জাল সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছে, যা আজও বেঁচে রয়েছে. আর সে নিজে সন্ত্রাসবাদী নম্বর – ১ উপাধির যথেষ্ট উপযুক্ত, যা তাকে পশ্চিমেই শেষ অবধি দেওয়া হয়েছিল”.

এই দৃষ্টিকোণের সঙ্গে একেবারেই একমত হয়ে অন্য এক আলোচনায় অংশগ্রহণকারী আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেন:

“বেন লাদেন অনেক অর্থেই বলা যেতে পারে আমেরিকার ভেতরের প্রকল্প. তার চরিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুবই সুবিধার ছিল. সে সব সময়েই আমেরিকার প্রশাসনের সমস্ত সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের সঙ্গে এক সাথেই বক্তৃতা দিয়েছে. সে এতই প্রবল ভাবে তাদের সমালোচনা করত, যে রাজনীতিতে খুব একটা বোদ্ধা নয়, এমন পশ্চিমের যে কোন সাধারন লোক মনে করত: যখন এই ভয়ঙ্কর কুকর্ম করা লোক বিরুদ্ধে, তখন নিশ্চয়ই সিদ্ধান্ত ঠিক. আর বাস্তব জীবনে বেন লাদেনের সংস্থা খুব একটা মানে ছিল না – যদি কিছু করাও হত, তবে তা একেবারেই কিছু বিশ্ব জোড়া ব্যাপার নয়. প্রাক্তন যুগোস্লাভিয়াতে, ককেশাসে আরও দু একটা জায়গায় জঙ্গী পাঠানো হয়েছিল মাত্র. তার বেশী কিছু নয়, এটাও আগ্রহের ব্যাপার যে, সেই পশ্চিমেই এক সময়ে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছিল যে, আল- কায়দার বেন লাদেনের আঁকা চেহারা কতটা সত্য, তা নিয়ে. এমনকি এই ধরনের মতও দেওয়া হয়েছে যে, আল- কায়দা আসলে বৈদ্যুতিন মাধ্যমেই রয়েছে – টিভিতে ও কম্পিউটারের মনিটরে, আসলে তারা নেই. আর তারপরে যখন আমেরিকা এই তৈরী করা ব্র্যান্ডের প্রচার করেছে, তখন স্বাভাবিক ভাবেই নানা রকমের নকল বেরিয়েছে. সারা দুনিয়া জুড়েই – তা ঐস্লামিক মাগ্রিবের থেকে দুই নদীর দেশেও. এই সব নকল গুলিই এখন কাজ করছে, সেই বহুল প্রচারিত বিজ্ঞাপনের নাম ব্যবহার করে. অন্য ব্যাপার হল, মুসলমান দেশ গুলিতে পশ্চিমের অনুপ্রবেশের ফলে পরিস্থিতির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে. অন্যায় বিশ্ব রাজনৈতিক ব্যবস্থা, যেখানে শক্তিশালীরা দুর্বলদের উপরে রাজত্ব করছে, তাদের নিজেদের নানা রকমের কৌশলের বস্তু বানাচ্ছে, তা অবশ্যই বিদ্রোহী মানসিকতার জন্ম দিচ্ছে. এই বিদ্রোহকে পশ্চিমের সুবিধাজনক ধারায় দিক নির্দেশ করার কাজেই সাহায্য করেছে বেন লাদেনের আল – কায়দা – আর এখন অন্য কোনও সংগঠন তা করবে. একটা কৃত্রিম প্রকল্প নষ্ট হয়েছে, আরও অনেক উদয় হবে. আর এই সব প্রকল্পের বাজেট যে কম হবে না, তা নির্দিষ্ট করেই বলা যেতে পারে”.