এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তরুন-তরুনীরা নিজেদের সম্মেলনে যোগ দিতে সমবেত হচ্ছেন. আগামী ২ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের ভ্লাদিভস্তোকে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে. বিশ্বের ২১টি দেশের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নিবেন. এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার ইতিহাসে এবারই এই অঞ্চলের নবীনদের নিয়ে এ ধরণের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে.

      পূর্বে এ্যাপেকে নবীনদের শুধুমাত্র ভবিষ্যতের আওয়াজে অংশগ্রহনের সুযোগ  প্রদান করা হত. নবীনদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘ভবিষ্যতের আওয়াজ’ যা ঐতিহ্যগতভাবে এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনের দিনগুলিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে. তবে আয়োজকরা এখন থেকে সামনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং শুধুমাত্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানই নয় বরং রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবে. রাশিয়াই সর্বপ্রথম এ্যাপেকের নবীনদের সম্মেলনের স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব পালন করছে. এ প্রকল্পের সমন্বয়কারক হিসেবে কাজ করছেন আলেকসান্দার তাতোমির. তিনি আস্থার সাথেই বলেছেন, ‘অভিজ্ঞ রাজনীতিবীদদের অতিতের সমস্যা নতুন দৃষ্টিকোন থেকে সমাধানের জন্য নবীনরা সাহায্য করতে পারে. তিনি আরও বলছেন, আমরা চাচ্ছি শুধুমাত্র নবীনরা যেন নিজেদের গুরুত্ব বুঝতে পারে. তাছাড়া শীর্ষ নেতাদের বুঝানো হবে যে, তারাও বিশ্ব সমস্যার কিছুটা সমাধান করতে পারে’.

    এ্যাপেকের নবীনদের এ সম্মেলনে ৪টি সেশন থাকবে. এগুলো হচ্ছে এগ্রো-টেকনোলজি, পারস্পরিক সহযোগিতা, জ্বালানী শক্তি, যোগাযোগ এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প. প্রতিটি সেশনেই ব্যাপক আলোচনা ও তর্ক-বিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে. চুড়ান্ত পর্যায়ে যে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে তা এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনে পেশ করা হবে. আলেকসান্দার তাতোমির আরও জানাচ্ছেন, ‘অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি আশা করছি. আমরা যাদেরকে নির্বাচন করেছি তাদেরকে এ সব সমস্যা সম্পর্কে গবেষণা করা ছাড়াও তাদেরকে আলাদাভাবে তৈরি করা হবে. তবে শুধু এই ৪টি সেশনই কেন?. কারণ হচ্ছে এবারের এ্যাপেক সম্মেলনে রাশিয়া স্বাগতিক দেশ. এ কারণেই আমরা বিষয় নির্ধারণ করে দলে ভাগ করেছি এবং এ ধরণের আলোচ্যসূচি বেছে নেওয়া হয়েছে’.

    অংশগ্রহণকারীদের বাছাই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে. প্রার্থীদের অনেক শর্তাবলী পূরণ করতে হবে. এরা সবাই রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উপস্থাপন করবে. এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানাচ্ছেন  প্রকল্পের সমন্বয়কারক আলেকসান্দার তাতোমির. ‘এ্যাপেকের নবীনদের সম্মেলনে অংশ নিতে হলে প্রার্থীর বয়স  ১৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত হতে হবে. অনেকটা জটিল আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে. যেখানে প্রার্থীকে উল্লেখ করতে হবে তার সামাজিক ও দলগত কাজের অভিজ্ঞতাসহ আরও অনেক কিছু. এছাড়াও তাকে ৩টি প্রবন্ধ লিখতে হবে. প্রথমটি সামগ্রিক, দ্বিতীয়টি নির্ধারিত বিষয়ের ওপর ও সর্বশেষ হচ্ছে অনুপ্রেরণা মূলক. শুধু তাই নয় এ সবই লিখতে হবে ইংরেজিতে’.

       এ সম্মেলন রুশি দ্বীপে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে. তবে সম্মেলন শেষেই তরুন-তরুনীরা নিজের দেশে ফিরে যাবেন না. ভ্লাদিভস্তোকে তারা আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবস্থান করবেন. এ সময়ে তারা এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন এবং ভবিষ্যতের আওয়াজ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন. আয়োজকরা আশা করছেন যে, নবীনদের এ সম্মেলন অন্যান্য দেশের কাছ থেকেও সমর্থন পাবে.