৩০ এপ্রিল ৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সিরিয়ায় তাদের কাজ শুরু করছে. পর্যবেক্ষক দলের শীর্ষপদে নরওয়ের আর্মি-জেনারেল রবার্ট মুড.

     এই সপ্তাহে শাসক কর্তৃপক্ষ ও সশস্ত্র বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তিরক্ষা করেছে ১০ জন জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক, সিরিয়ায় গোলাগুলি চালানো কমেছে, কিন্তু পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাকর. দামাস্কাসে মসজিদের কাছে বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে গতকাল. খুব সম্ভবত আক্রমণকারী ছিল সন্ত্রাসবাদী-আত্মঘাতী. শাসক কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবারে দামাস্কাসের শহরতলীতে বোমা বিস্ফোরণের জন্যও বিদ্রোহীদের দোষারোপ করছে. আপোষবিহীন বিদ্রোহীরা অন্যদিকে অভিযোগ করছে, যে হামা শহরে রাষ্ট্রীয় ফৌজের গোলাগুলিতে ৭০ জন মারা গেছে. এই সব তথ্য পরীক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ পর্যবেক্ষক্ষদের অভাব. কোফি আন্নন আশা করছেন, যে খুব শীঘ্রই পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা ৩০০ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে.

     অন্যদিকে জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি স্যুজান রাইস বিশ্বাস করছেন না, যে পর্যবেক্ষকদের মিশন সিরিয়ায় সফল হবে.

        আমেরিকার ধৈর্য্য ফুরিয়ে গেছে. আমরা অত্যন্ত মনোযোগের সাথে লক্ষ্য করতে চাই, যে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকরা তাদের জন্য নির্দিষ্ট মিশন পূরণ করতে পারে কি না. যদি ৯০ দিনের মধ্যে তারা না পারে, তাহলে আমরা আবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে আবেদন জানাবো ও আলোচনা করবো, কিভাবে চাপ বাড়ানো যেতে পারে.

      অন্যদিকে রাশিয়ার মতে, ১২ই এপ্রিল স্থাপিত শান্তিবস্থা লঙ্ঘন করতে উস্কানি দিচ্ছে সিরিয়ায় বিরোধীরা. পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ এই প্রসঙ্গে বলছেন -

      শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এখনো অর্জন করা যায়নি অনেকাংশে এই কারণেই, যে সশস্ত্র বিরোধীরা রাষ্ট্রীয় ফৌজের উপর গুলিগোলা চালাচ্ছে, বোমা বিস্ফোরণ ও সন্ত্রাস থেকে বিরত হয়নি. বিরোধীরা আন্ননের পরিকল্পনা ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে, যাতে বিদেশী জনসমাজ ক্ষুব্ধ হয় ও সে দেশে অনুপ্রবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়.

      বৃহস্পতিবারে প্যারিসে সিরিয়ার অন্যতম উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নেতা নোফাল দাওয়ালিবি ঘোষণা করেছে, যে সিরিয়ায় নাকি অন্তর্বতীকালীন সরকার গড়া হবে. ঐ সরকারের কর্তব্য – বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করা, বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশে সহায়তা করা.

    সিরিয়ার বিরোধীদের মধ্যে উদারপন্থীরা অন্যদিকে সংকট থেকে মুক্তির রাজনৈতিক পথ খুঁজছে. ‘স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের জন্য ফ্রন্টে’র নেতা কাদ্রি জামিল মস্কোয় সের্গেই লাভরোভের সাথে সাক্ষাত্কারের পরে ঘোষণা করেছেন –

   এর আগে সংলাপ ছিল শুধুমাত্র – ধারনা. এখন এটা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে. আলাপ-আলোচনা – এটা সিরিয়ায় ভাবী পরিবর্তনের জন্য অগ্রসর হওয়ার একমাত্র পথ. এটা জটিল প্রক্রিয়া, কিন্তু বাস্তব. যাতে বিদেশ থেকে আমাদের আভ্যন্তরীন ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করা না হয়, সে ব্যাপারে রাশিয়া সাহায্য করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে. এর সুবাদে সিরিয়ার সমস্যার মীমাংসা করার কার্যকরী উপায় খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে.

    গত সপ্তাহে মস্কো সফর করেছে সিরিয়ার অন্য এক বিরোধী গোষ্ঠী – ‘গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের জন্য জাতীয় সমন্বয় কমিটি’. চীনও সিরিয়ায় সংকটমোচনের ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে. সিরিয়ার শাসক কর্তৃপক্ষ ও বিদ্রোহীদের সাথে চীনাদের সক্রিয় যোগাযোগ উভয়পক্ষকে আলাপ-আলোচনার টেবিলে সমবেত করার উদ্দেশ্যে.