জাতীয় সভার সম্মেলন ও রাশিয়ার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল গুলির কাছে সাক্ষাত্কার দিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ চলে যাওয়া সপ্তাহে নিজের চার বছরের শাসন কালের একটা সারাংশ নিজেই জানিয়েছেন. দেশের প্রধান বলেছেন যে, এই সময়ে দেশ ও দেশের নাগরিকরা আরও বেশী করে স্বাধীন হতে পেরেছেন. তিনি আরও উল্লেখ করেছেন দেশের রাজনৈতিক সংশোধনের বিষয়ে যা তাঁর উদ্যোগে হয়েছে ও হতাশা প্রকাশ করেছেন যে, সমস্ত কিছুই করা সম্ভব হয় নি, আর তার মধ্যে – দুর্নীতির সঙ্গে পেরে ওঠা.

    গত মঙ্গলবারে জাতীয় সভায় উপস্থিতিই এই মুহূর্তের গুরুত্বই উল্লেখ করেছে. ক্রেমলিনের গিওর্গি হলে রাশিয়ার রাজ্য গুলির প্রধানরা, প্রশাসনের সদস্যরা, রাজনৈতিক দল গুলির নেতারা, উচ্চ আদালতের প্রতিনিধিরা, সামাজিক কর্মীরা ও ব্যবসায়ীরা জমায়েত হয়েছিলেন. নিজের পদে থাকার সময়ের এক সারাংশ উল্লেখ করতে গিয়ে দেশের নেতা ঘোষণা করেছিলেন যে, রাশিয়ার নাগরিকরা বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের সময়ে ছিলেন সুরক্ষিত. আর তিনি এটাকে মনে করেন একটি প্রধান সাফল্য, এই বিষয় নিয়ে তিনি বলেছিলেন:

    “আমরা জনগনের গণ হারে গরীব হয়ে যাওয়া হতে দেবো না. আর সেই রকমের পরিস্থিতি তৈরী করতে থাকবো, যাতে বহু লক্ষ মানুষের সংসারে বিশ্ব জোড়া নিবর্তনের সময়েও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়. মনে করিয়ে দেবো যে, রাশিয়ার আধুনিক ইতিহাসে এই বছরে আমাদের সবচেয়ে কম মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে – ৪ শতাংশ. আমাদের কাজ হবে প্রতি বছরের সঙ্গে মূল্য বৃদ্ধি কমানো. বর্তমানের বছরে বেকারত্বের হার – প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ. এই রকমই তা ছিল চার বছর আগে, বিশ্ব জোড়া অর্থনৈতিক সঙ্কট শুরু হওয়ার আগে. আর রাশিয়ার অর্থনীতির গড় উন্নতির হারও এখন স্থিতিশীল হয়েছে শতকরা চার শতাংশের কাছে. এটা খুবই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি গুলির মধ্যে খুবই উল্লেখ যোগ্য সূচক”.

    সারাংশ উল্লেখ করার সঙ্গে সঙ্গেই পদ ছেড়ে চলে যাওয়া রাষ্ট্রপতি ভবিষ্যতের কাজ নিয়েও বলেছেন. তাঁর প্রাথমিক ভাবে উল্লিখিত কাজের মধ্যে রয়েছে: গণতান্ত্রিক সমাজ গঠনের গতিকে শক্তিশালী করা ও অর্থনীতিতে সরকারের তরফ থেকে কম হস্তক্ষেপ করা. প্রাথমিক কাজের মধ্যে দিমিত্রি মেদভেদেভ দেশে ভাল ব্যবসা করার উপযুক্ত আবহাওয়া তৈরীর কথা বলেছেন. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি পাঁচটি প্রধান নীতির কথা উল্লেখ করেছেন, যা প্রধান সিদ্ধান্ত গুলি নেওয়ার সময়ে রাষ্ট্রের প্রশাসনের ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করা উচিত্, তিনি বলেছেন:

“প্রথম হল উদ্যোগী ব্যবসায়ীর প্রতিভাকে দেখা উচিত্ খুবই গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্পদ হিসাবে, অন্য কোন ভাবেই নয়. দ্বিতীয়, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অর্থনীতিতে হস্তক্ষেপ হওয়া উচিত্ সবচেয়ে কম ও তা সম্পূর্ণ ভাবে স্বচ্ছ. তৃতীয়, শৃঙ্খলা রক্ষা সংস্থা গুলির অবস্থান যে কোন ধরনেরই মালিকানার সংগঠনের প্রতি হওয়া উচিত্ কোন রকমের বিশেষ প্রবণতা ছাড়া. তারা সকলেই একই মাত্রায় সুরক্ষিত থাকা দরকার. চতুর্থ, নিয়ন্ত্রণ হওয়া উচিত্ বিশ্ব মানে প্রতিযোগিতায় সক্ষম. আর পঞ্চম হল, সমস্ত আগ্রহী সমাজেরই প্রয়োজন কি ভাবে নিয়ম তৈরী হবে তার বিষয়ে”.

অর্থনৈতিক সারাংশের সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন দেশে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার বৃদ্ধির গুরুত্ব নিয়ে. এই ঘোষণা একটা পরিকল্পনা মূলক চরিত্র বহন করে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ দিমিত্রি অর্লোভ বলেছেন:

“মেদভেদেভ বাস্তবে রাশিয়ার রাজনীতিতে নতুন মূল্যবোধের দিক নির্দেশ করেছেন – এটা জাতীয় স্বাধীনতা. এটা শুধু ব্যক্তিগত স্বাধীনতাই নয়, বরং স্বাধীনতা রাজনৈতিক শ্রেনীর দায়িত্বশীল অংশকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা. আর এই স্বাধীনতা, আমি মনে করি, সেই নিশ্চয়তা দেয়, যে আসন্ন বছর গুলিতে দেশে বিনিয়োগের আবহাওয়াও বদল হবে, ব্যবসায়ীদের প্রতি সম্পর্কও পাল্টাবে, আর ব্যবসায়ের সুরক্ষা ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার উন্নতি হবে”.

মনে করিয়ে দেবো যে, ৭ই মে দিমিত্রি মেদভেদেভ, নতুন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন – ভ্লাদিমির পুতিন হবেন আবার রাষ্ট্রপতি. বৃহস্পতিবারে এই ধরনের ক্ষমতা হস্তান্তরের ফলশ্রুতি কি হতে পারে তা নিয়ে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেছেন যে, “তাঁদের যৌথভাবে শাসন কার্য, রাজনৈতিক কাঠামো হিসাবে নিজের অস্তিত্বকে সপ্রমাণিত করতে পেরেছে”.