খনিজ তেলের খুবই বেশী দাম ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা উত্তপ্ত খনিজ তেলের কেন্দ্র গুলির গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকির ভয় কে কমিয়ে দিয়েছে. ইরাকে ও দক্ষিণ চিন সাগরে রুশ খনিজ তেল কোম্পানী গুলির নতুন প্রকল্প নেওয়ার খবরে এই ভাবেই রুশ বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন.

    বৃহত্তম রুশ ব্যক্তি মালিকানার খনিজ তেল কোম্পানী “লুকঅয়েল” ইরাকের “পশ্চিম কুর্ণা- ২” খনিজ তেল উত্তোলন কেন্দ্রের সক্রিয় কাজকর্মের অধ্যায়ে প্রবেশ করছে. সেখানে খনিজ তৈল ক্ষেত্রের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য শুরু করা হয়েছে মূল পরিকাঠামো তৈরী ও খননের কাজ. সভাপতি ভাগিত আলেকপেরভ ঘোষণা করেছেন যে, কোম্পানী এই প্রকল্পের সম্পূর্ণ রকমের বাস্তবায়নের জন্য ২ হাজার পাঁচশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে. প্রতিদিন দেড় লক্ষ ব্যারেল তেল উত্তোলন এই প্রকল্পের খরচ পূরণ করে আরও অনেক করমুক্ত লাভের পথ খুলে দেবে. কোম্পানী আশা করেছে দ্রুত প্রাথমিক খরচ পূরণ করে এই প্রকল্পকে নিজের থেকেই বিনিয়োগে সক্ষম করবে দ্রুত বেড়ে ওঠা লাভের কারণেই. লুকঅয়েল কোম্পানীর জন্য এটা সম্পূর্ণ ভাবেই বাস্তবায়ন যোগ্য, যেমন রাশিয়ার গাজপ্রমের জন্য অন্য একটি উত্তপ্ত এলাকা – লিবিয়াতে এলিফান্ট খনিজ তেল উত্পাদন কেন্দ্রের প্রকল্প. এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” ঘোষণা করেছেন জ্বালানী বিকাশ তহবিলের ডিরেক্টর সের্গেই পিকিন, তিনি বলেছেন:

    “ভবিষ্যতের লাভ পাওয়ার সম্ভাবনাই রাশিয়ার কোম্পানী গুলিকে এখনই, এমনকি কিছু রাজনৈতিক ভাবে অনির্দিষ্ট অবস্থা স্বত্ত্বেও এই সব জায়গা দখলে রাখতে জোর দিচ্ছে. যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে ও ঝুঁকির মাত্রা কমবে, তখন এই সব সম্পদের উত্সর জন্য প্রতিযোগিতাও হবে অনেক বেশী. সুতরাং, একই ভাবে, লাভের পরিমানও কমে যাবে. খনিজ তেলের বাজার বর্তমানে একটি দ্রুত দাম বাড়ার অবস্থায় রয়েছে. খনিজ তেলের দাম আমাদের বিনিয়োগকে অনেক নানা ধরনের প্রকল্পে বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে দেয়, যা সঙ্গে সঙ্গেই ফল দিতে পারে অথবা মাঝারি পাল্লার সময়ের মধ্যেই তা করে দিতে পারে. বর্তমানের পরিস্থিতি অনুযায়ী সামান্য ঝুঁকি পূর্ণ প্রকল্পে বিনিয়োগ অথবা পক্ষ গুলির মধ্যে একই অর্থবহ নয়, এমন পরিস্থিতিতে থাকা প্রকল্প গুলিতে বিনিয়োগ, যে কোন ভাবেই প্রয়োজনীয় লাভ নিয়ে আসতে পারে”.

    “গাজপ্রম নেফ্ত” কোম্পানী এই সম্ভাবনাকে বাতিল করে নি যে, তাদের প্রতিনিধিরা লিবিয়াতে সেই দেশের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য যাবেন. এর আগে “গাজপ্রমের” প্রতিনিধিরা জানিয়ে ছিলেন যে, ক্রমাগত চলা যুদ্ধের মধ্যেই, একবার ক্রান্তি কাল পার হয়েছে, এমন ঘোষণা করা হলেই, কোম্পানীর লোকরা এই বছর শেষের আগেই এলিফান্ট প্রকল্পের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত করতে যেতে পারেন. এখানে কথা হচ্ছে ইতালির এনি কোম্পানীর কাছ থেকে ১৬ কোটি ৩০ লক্ষ ডলার দিয়ে এই তৈল ক্ষেত্রের একাংশ কিনে নেওয়ার.

    খুব একটা কম প্রতিধ্বনির উদ্ভব করে নি ভিয়েতনামের কোম্পানী পেট্রো ভিয়েতনামের সঙ্গে গাজপ্রমের যৌথভাবে দক্ষিণ চিন সাগরে দুটি তৈল ও গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রের প্রকল্প তৈরী করার খবর. তারা এমন এক সাগরের এলাকায় রয়েছে, যার অধিকার নিয়ে চিন ও ভিয়েতনাম বিতর্ক করছে. তরই মধ্যে চিনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক দলের সংবাদপত্র “ঝেনমিন ঝিবাও” হ্যানয়ের নামে অভিযোগ করেছে যে, তারা রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বেজিংয়ের উপরে এলাকা সংক্রান্ত বিতর্কে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে. এই ব্যবসায়িক প্রকল্পের রাজনৈতিক রঙ চড়ানো আইন সঙ্গত নয়, এই রকম মনে  করে “জ্বালানী ও বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের” বিশ্লেষক সের্গেই কনদ্রাতিয়েভ বলেছেন:

    “ভিয়েতনামের সঙ্গে আমাদের খনিজ তেল ও গ্যাসের বিষয়ে বহু দিনের ভাল সম্পর্ক. দক্ষিণ চিন সাগর শুধু ভিয়েতনাম ও চিনের মধ্যেই বর্তমানে ভাগের পিঠে হয়ে দাঁড়ায় নি, বরং আরও কয়েকটি দেশের মধ্যেই হয়েছে. কিন্তু রাশিয়া ও ভিয়েতনামের যৌথ জ্বালানী প্রকল্পের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের কোন সম্পর্ক নেই. এটা রাশিয়ার বাইরে বড় খনিজ তেল ও গ্যাস সংক্রান্ত খুবই স্বল্প সংখ্যক প্রকল্প গুলির একটি. তাই খুবই যুক্তিযুক্ত হবে যে, রাশিয়ার কোম্পানী তাতে অংশ নিলে. কিছু রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা থাকলেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হবে মনে করা যে, এই প্রকল্প থেকে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে”.

    খনিজ তেল ও গ্যাস কোম্পানীগুলির প্রতিযোগিতা, নতুন সমস্ত উত্তোলন ক্ষেত্র নিয়ে, আর তাদের মধ্যে “উত্তপ্ত সমস্ত কেন্দ্র” নিয়ে, এরপর থেকে বাড়তেই থাকবে, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে যাঁরা আলোচনা করেছেন, তাঁরা বক্তব্য রেখেছেন. এরই প্রমাণ হিসাবে – ইরাকে খনিজ তেল উত্তোলনের জন্য চতুর্থ টেন্ডার নিয়ে লড়াই হচ্ছে. যা আসন্ন সময়ে ২০টি কোম্পানীর অংশ গ্রহণের মাধ্যমে হবে. এরই সংক্ষিপ্ত তালিকায় বিশ্বের সব বৃহত্ কোম্পানী গুলিই রয়েছে, তাদের মধ্যে রাশিয়ার কোম্পানীরাও রয়েছে.