মস্কো শহরের রাস্তায় এখনই বহু লোককে কমলা কালো রঙের ফিতা নিয়ে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. আর এর অর্থ হল, সামাজিক প্রচারাভিযান “সেন্ট জর্জ ব্যান্ড” আরও দ্রুত গতিতে করা হচ্ছে. ১৯৪৫ সালের মহান বিজয়ের এই প্রতীক বিশেষ করে জনপ্রিয় হয়েছে অল্প বয়সী যুবক দের মধ্যে. তাদের স্লোগান: “দাদুর বিজয় – আমার বিজয়!”, “মনে রেখেছি ও গর্ব করি!”

    রেডিও চ্যানেল রেডিও রাশিয়া এই “সেন্ট জর্জ ফিতা” প্রচারাভিযানে অংশ নিচ্ছে এই নিয়ে ষষ্ঠ বার. বিভিন্ন দেশের বহু হাজার মানুষ আমাদের কাছ থেকে উপহার হিসাবে পাচ্ছেন উপহার- কমলা কালো রঙের ডোরাকাটা ফিতা, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়ার এই আন্তর্জাতিক প্রকল্পের যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা সোফিয়া বেরেঝকোভা বলেছেন:

    “আমাদের বহু শ্রোতাই আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি উল্লেখ করে চিঠি দিয়েছেন. সে স্মৃতি তাদের নিজেদের অথবা পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছ থেকে শোনা ইতিহাস. এই বছরে “সেন্ট জর্জ ফিতা” পাঠানো এর মধ্যেই শুরু হয়েছে. আমরা এই গুলি পাঠাচ্ছি আমাদের দেশের লোকদের সংগঠন গুলিকে, আমাদের সমস্ত নিয়মিত শ্রোতাদের, যাঁরা এই ফিতার জন্য আমাদের কাছে চিঠি দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শ্রোতারাও রয়েছেন. আমি মনে করি যে, এই বছরে আমাদের সাইটে ফোটো গ্যালারি দেওয়া হবে, যেখানে নানা ছবি দেওয়া হবে বিজয় উত্সবের দিন গুলিতে নেওয়া ছবি দিয়ে, সেই সব ছবির মধ্যে আমাদের শ্রোতাদের তোলা ছবিও থাকবে. ফোটোতে আমাদের শ্রোতাদের এই ফিতা সমেত দেখতে পাওয়া যাবে. আর চাই সকলকে আসন্ন বিজয় দিবসের উত্সবের অভিনন্দন জানাতে”.

    “সেন্ট জর্জ ফিতা” – অনেক যুদ্ধের মেডালের এক অংশ. প্রথম এই ফিতা সামরিক পোষাকে দেখতে পাওয়া গিয়েছিল ১৭৬৯ সালে পবিত্র ও বিজয়ের প্রতীক মহান সন্ত জর্জের নামাঙ্কিত মেডালের সঙ্গে. তার পর থেকে এর কমলা কালো রঙ রাশিয়াতে সামরিক বীরত্বের প্রতীক বলে মনে করা হয়. দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে তা দেখা গিয়েছিল “বীরত্বের মেডালের” সঙ্গে, এই কথা উল্লেখ করে এই প্রচারাভিযানের নভোসিবিরস্ক শহরের কো- অর্ডিনেটর আলেকজান্ডার করতায়েভ বলেছেন

    “প্রতি বছরে ছাত্র সমাজ নভোসিবিরস্ক শহরে “সেন্ট জর্জ ফিতা” নামের প্রচারাভিযান করে থাকে. প্রায় পঞ্চাশ ষাট হাজার ফিতা লোককে দেওয়া হয়. সেই গুলি সেই সমস্ত লোকেরা পেয়ে থাকেন, যাঁদের কাছে ৯ইমে দিনটি স্মরণীয়. অর্থাত্ বিজয়ের মহান উত্সবের দিন, যা আমরা বসন্ত কালে পালন করে থাকি. এই ফিতা আমাদের দেশের সেনারা যুদ্ধ ক্ষেত্রে নিজেদের বীরত্বের ও শৌর্যের জন্য পেয়েছে. কি কারণে তাঁরা এই বীরত্বের মেডাল পেয়েছেন, তার তালিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ. যেমন, কেউ হয়ত প্রতিপক্ষের পরিখা বা যুদ্ধ পরিচালনার তাঁবুতে ঢুকে পড়েছে ও সেই ভাবে লাল ফৌজের শত্রু পক্ষের ভিতরে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা করে দিয়েছে. অথবা নিজের আগুন জ্বলে যাওয়া ট্যাঙ্ক থেকে প্রতিপক্ষের ট্যাঙ্কের ওপরে গোলা বর্ষণ করেছে. এঁরা সেই ধরনের লোক, যাঁরা অসাধারণ পুরুষকারের পরিচয় দিয়েছে”.

    কি ভাবে দূরের ও কাছের দেশ গুলিতে এই “সেন্ট জর্জ ফিতার” প্রচারাভিযান চলছে, তা “রেডিও রাশিয়া” থেকে পরে আবার জানানো হবে.