রাশিয়াতে রাজ্যপাল নির্বাচন আবার জনগনের ভোটে হতে চলেছে. এই প্রসঙ্গে এক আইন রাশিয়ার লোকসভায় তৃতীয় ও শেষ বার পাঠের পরে গৃহীত হয়েছে.

    গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংশোধনের শুরু করেছিলেন দেশের নেতা দিমিত্রি মেদভেদেভ, জাতীয় সভায় তাঁর বার্তা পড়ার মধ্য দিয়ে. তারপরে লোকসভায় গ্রহণের জন্য তিনটি আইনের খসড়া প্রস্তাব করেছিলেন – রাজ্যপালদের সরাসরি নির্বাচন নিয়ে, রাজনৈতিক দল নথিবদ্ধ করার জন্য ন্যূনতম সদস্য সংখ্যা নিয়ে ও নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য দল গুলিকে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা থেকে রেহাই দেওয়া নিয়ে. এবারে রাষ্ট্রপতির উদ্যোগ আইনে পরিণত করা হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, এপ্রিল মাসের শুরুতেই দল সংক্রান্ত আইন বহাল হয়েছে. এই ধরনের সংশোধনের প্রধান লক্ষ্য – রাশিয়ার নাগরিকদের আরও সক্রিয়ভাবে দেশের রাজনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণ. রাজ্যপালদের সরাসরি নির্বাচনও এই সংশোধনের একটি প্রধান বিষয় – যা সবচেয়ে বেশী বিতর্কের সৃষ্টি করেছে. লোকসভার দল গুলির পক্ষ থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি আইনের খসড়ায় সংশোধনী প্রস্তাব এসেছিল, তার থেকে প্রায় অর্ধেক গৃহীত হয়েছে. এদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুলি হল এই যে, যে  কোন রাজনীতিবিদ, যিনি কোন এলাকার নেতৃত্ব দিতে চান, তাঁকে দুটি তথাকথিত “পরিশোধন প্রক্রিয়া” পার হতে হবে – একটি পৌর সভা গুলির পক্ষ থেকে ও অন্যটি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে. এই আইন অনুযায়ী প্রথম বার যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে পৌরসভার সদস্যদের মধ্যে শতকরা পাঁচ থেকে দশ শতাংশের সমর্থন পেতে হবে.

    এই শর্ত রুশ কমিউনিস্ট পার্টি ও “ন্যায়বাদী রাশিয়া” দলের অসন্তোষ উদ্রেক করেছে. বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা ঘোষণা করেছেন যে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট আদায় করা সহজ হবে না. এই ধরনের নিয়ম খুবই গুরুতর বাধা হতে পারে বলে মনে করে “ন্যায়বাদী রাশিয়া” দলের নেতা সের্গেই মিরোনভ বলেছেন:

    “পৌরসভা গুলিতে বিরোধী পক্ষের সদস্যদের বাস্তব সংখ্যা গুণে দেখলে এই পাঁচ থেকে দশ শতাংশ অবধি “স্তর বিভেদই” পরিশোধন প্রক্রিয়া না হয়ে, বিরোধী পক্ষের প্রার্থীদের সত্যিকারের বাধা হতে পারে”.

    এখানে উল্লেখ করব যে, অঞ্চল গুলিতে সর্বোচ্চ পদে প্রার্থী হতে পারেন যেমন পার্টির, তেমনই নির্দল আর স্বঘোষিত ব্যক্তিরা, শুধু তাঁর যেন গুরুতর ও অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের জন্য আগে হাজতবাসের ইতিহাস না থাকে. তথাকথিত রাষ্ট্রপতির পরিশোধন প্রক্রিয়ার অর্থ হল যে, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল গুলির সঙ্গে পরামর্শ করতে পারেন, যারা রাজ্যপাল পদের জন্য প্রার্থী প্রস্তাব করবেন, আর তারই সঙ্গে স্বঘোষিত প্রার্থীদের সঙ্গেও. রাষ্ট্রপতি নিজেই সেই রকমের প্রয়োজন আছে কি না ঠিক করবেন. তার ওপরে দেশের প্রধানের সঙ্গে আলোচনার মানে এই নয় যে, তিনি কোন ভেটো প্রয়োগ করবেন, এই কথা উল্লেখ করে সংবিধান সংক্রান্ত আইনগুলি নিয়ে ও রাষ্ট্র গঠন সম্বন্ধে আলোচনার জন্য লোকসভার বিশেষ পরিষদের প্রধান ভ্লাদিমির প্লিগিন বলেছেন:

    “রাষ্ট্রপতির এই ধরনের পরামর্শের কোনও আইন সংক্রান্ত ফলশ্রুতি হবে না, এই প্রক্রিয়া কোন বাধা দেওয়ার পথ নয়. কিন্তু রাষ্ট্রপতির সংবিধান সম্মত হওয়ার স্তর, যা আইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়ে থাকে, তাতে সন্দেহ নেই যে, রাজ্যের জনতা রাষ্ট্রপতির মতামত বিচার করে দেখবেন”.

    নিজের পদে রাজ্যের প্রধান পরপর দুই বার পাঁচ বছর ধরে থাকার পরে আর নির্বাচিত হতে পারবেন না. তারই সঙ্গে সম্ভাবনা রয়েছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার, যদি তিনি আইন ভঙ্গ করেন ও নিজের দায়িত্ব সত্ভাবে পালন না করেন. এই ধরনের অপরাধ শুধু আদালতে বিচার যোগ্য. মনে করিয়ে দেবো যে, ২০০৫ সালে রাজ্যপাল নির্বাচনের প্রক্রিয়া বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল. তার পর থেকে রাশিয়ার রাজ্য গুলির জন্যে নেতা ঠিক করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি. এখন সাত বছর বিরতির পরে এই বছরের অক্টোবর মাস থেকেই রাশিয়ার জনগন নিজেরাই তাঁদের এলাকার নেতাকে নির্বাচন করতে পারবেন.