পেন্টাগন নিজেদের গোপন প্রতিরক্ষা পরিষেবা তৈরী করছে, যা প্রাথমিক ভাবে ইরান ও চিন সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহের জন্য করা হবে, যে দেশ দুটিকে সেখানে মনে করা হয়েছে প্রধান বিপদের উত্স বলে. ধারণা অনুযায়ী এই কাঠামো হবে বর্তমানে সক্রিয় প্রতিরক্ষা গুপ্তচর সংস্থার অংশ ও তার শত্রুর এলাকায় অনেক অভ্যন্তরে প্রবেশ ক্ষমতার প্রভূত বৃদ্ধি করবে.

    নতুন পরিষেবায় সামরিক গুপ্তচর বিভাগের শতকরা পনেরো ভাগ কর্মী যোগ দিচ্ছেন – যারা বর্তমানে গুপ্তচরের কাজ করছেন ও তাঁরা মার্কিন সিআইএ সংস্থার সহকর্মীদের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে চলবেন. এই কাজের জন্য তথ্য সংক্রান্ত কাজ কারবার এর মধ্যেই করা হয়েছে. বহু দেশে নানা রকমের পরিচয়ে গা ঢাকা দিয়ে, ভবিষ্যতের কর্মীরা বেশ কিছু কাল ধরে সন্ত্রাসবাদী ও রকেট – পারমানবিক প্রস্তুতি নিয়ে খবর যোগাড় করেছেন.

    আমেরিকার সামরিক গুপ্তচর ব্যবস্থায় পুনরায় কাঠামো বদলের কারণ – পেন্টাগন সংস্থার পক্ষ থেকে এদের কাজের গুণমানের বিষয়ে অসন্তোষ, - এই কথা মনে করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    “দেখাই যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক গুপ্তচর বিভাগ দেশের সামরিক – রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সেই খবর এনে দিতে পারে নি, যা কোন না কোন দেশের, সামরিক ভাবে যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্বন্ধে প্রমাণ সাপেক্ষ ও বাস্তব মূল্যায়ন করতে প্রয়োজন ছিল. অংশতঃ, ইরানে আমেরিকা এই বিষয়ে ধাক্কা খেয়েছে যে, প্রধান তথ্য আসছে মহাকাশ থেকে গুপ্তচর বৃত্তির ফলে. কিন্তু গুপ্তচর সেই দেশে না থাকলে, তা একেবারেই যথেষ্ট নয়, যাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রকেট ও পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সঠিক ভাবে মূল্যায়ন করা যায়”.

    বিশেষজ্ঞের মতে, গোপন প্রতিরক্ষা পরিষেবা উদয় হওয়া – এটা এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে, ইরানের সমস্যা সামরিক ভাবে সমাধানের লক্ষ্য বলার জন্য কোন ইঙ্গিত নয়.

    চিন হঠাত্ করেই উল্লেখ করা হয় নি, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী, তাই ইগর করোতচেঙ্কো আরও বলেছেন:

    “তাদের সামরিক ক্ষমতার বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক সামরিক ক্রিয়াকলাপ প্রমাণ করে দেয় যে, এই দেশের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের সাফল্যের একাংশ বর্তমানে পরিণত করা হচ্ছে নির্দিষ্ট সামরিক- প্রযুক্তিগত ও সামরিক- রাজনীতিগত সিদ্ধান্তে. আমি মনে করি যে, এখানে কথা হচ্ছে আরও গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের বেশী বড় ধরনের সার্বিক পর্যবেক্ষণ ও সামরিক ক্ষমতার গুপ্ত তথ্যের মূল্যায়ন নিয়ে”.

    নতুন কাঠামোর কাজকর্ম কিছু অংশে সিআইএ সংস্থার কাজের পুনরাবৃত্তি করবে, যা হোয়াইট হাউসের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পড়ে. আর পেন্টাগনের ভেতরে এই পরিবর্তন তো মনে হয় না কোন রকমের বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে, এই রকম মনে করে ব্যবসায়িক গুপ্তচর বৃত্তি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ রমান রমাচোভ বলেছেন:

“ওরা কিছু একটা আবিষ্কার করতে ভাল বাসে. এমনকি ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসবাদী হানার পরে, ওরা দেশের সমস্ত গুপ্তচর সংস্থা ও বিশেষ সংস্থার উপরে একক এক সংস্থা তৈরী করেছিল. আমার মনে হয়েছে, এখানে কথা হচ্ছে বাজেটের অর্থ ভাগ করার. সম্ভবতঃ, ওদের কোথাও থেকে আরও একাংশ অর্থ পেতে হবে.”

যদিও রমান রমাচোভ এর সঙ্গেই যোগ করছেন যে, গুপ্তচর বৃত্তিতে কোন বাড়তি তথ্যের উত্স বলে কিছু থাকে না. আর সম্ভবতঃ, এই পরিষেবার নিজেদের উত্সও থাকবে, যাদের জন্য তথ্য আরও পূর্ণ মূল্যের হবে.

সামরিক গুপ্তচর সংস্থার প্রধান কেন্দ্রের এখন ঝাড়াই বাছাই হবে. তার প্রধানের পদে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি প্রস্তাব করেছেন জেনারেল মাইকেল ফ্লিন কে, যিনি বিগত সময়ে সামরিক গুপ্তচর সংস্থার খুবই কড়া সমালোচনা করেছিলেন. এই অফিসার ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক গুপ্তচর সংস্থায় কাজ করেছেন ও ঐক্যবদ্ধ অপারেশনের সামরিক নেতৃত্ব দপ্তরে কাজ করেছেন – সেই সময়ে তিনি কাজ করেছেন, যখন অবধি এই গোপন সামরিক বিশেষ বাহিনী বোন লাদেন কে ধ্বংস করে নি. পশ্চিমের সংবাদ সংস্থা গুলি লিখছে যে, ফ্লিনের আগমন পেন্টাগনের জন্য গোপন বিশেষ অপারেশনের গুরুত্ব বৃদ্ধিরই পরিচয়.