বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কোম্পানির হাতে থাকা ছয়টি গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রে ১০টি কূপ উন্নয়নে খনন করবে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান গাজপ্রম. এ জন্য গাজপ্রম কে দিতে হবে ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ডলার.  পেট্রো বাংলার আশা, উন্নয়ন কার্যক্রম সফল হলে এসব কূপ থেকে প্রতিদিনে ৩০০ মিলিয়ন ঘন ফুট গ্যাস জাতীয় জ্বালানী গ্রিডে যোগ হতে পারে. বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকায় একটি হোটেলে রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়. চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রের ১৯, ২০, ২১, ২২ নম্বর কূপ ও সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেডের (এসজিএফএল) রশিদপুর গ্যাস ক্ষেত্রের ৮ নম্বর কূপ উন্নয়ন করবে গাজপ্রম. এছাড়া বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) বেগম গঞ্জের ৩ নম্বর, শাহাবাজ পুরের ৩ ও ৪ নম্বর কূপ, শ্রীকাইলের ৩ নম্বর কূপ এবং সেমুতাংয়ের ৬ নম্বর কূপ উন্নয়ন করবে রাশিয়ার এই কোম্পানি. চুক্তিতে বলা হয়েছে, ব্যাংক ঋণপত্র (এলসি) খোলার ২০ মাসের মধ্যে কূপ উন্নয়নের কাজ শেষ করতে হবে. বিজিএফসিএল ও এসজিএফএল এর অধীন পাঁচটি কূপ উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৩৩ লাখ ডলার. আর বাপেক্সের পাঁচটি কূপ উন্নয়নে ৯ কোটি ৩২ লাখ ডলার ব্যয় হবে বলে ধরা হয়েছে. বিজিএফসিএলের পক্ষে ভার প্রাপ্ত সচিব মো. রফিকুল আলম, এসজিএফএল পক্ষে সচিব মো. মাহতাব উদ্দিন ভুঁইয়া, বাপেক্সের পক্ষে মো. আব্দুস সবুর এবং গাজপ্রম ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেণ্ট বি.ভি. (রাশিয়ান ফেডারেশন) এর পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভার প্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউরি স্কোক এই চুক্তিতে সই করেন. এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা তওফিক এলাহী চৌধুরী, বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী চেয়ারম্যান এস এ সামাদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ড. ইয়াফেস ওসমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার নিকোলায়েভ সহ জ্বালানি মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পেট্রো বাংলার উর্ধতন কর্মকর্তা বৃন্দ. চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক. চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত একে মাইল ফলক অভিহিত করে বলেন, "ষাটের দশক থেকেই রাশিয়া (তত্কালীন সোভিয়েত দেশ) এখানকার খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে." যারা বেশী অর্থে কূপ খননের সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, "কূপ খনন ব্যয় বহুল. দেশের বিকাশ মান অর্থনীতির জন্য জ্বালানির প্রয়োজন. এই কারণে আমাদেরকে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দিতে হবে." জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, "আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ১৩টি ড্রিল (কূপ খনন) হয়েছে, এই দশটি হলে ২৩টি হবে. এর আগে বিগত সাত বছরে কোন ড্রিলিং হয়নি." রাশিয়ার সঙ্গে যে সম্পর্ক স্থাপিত হল তা আগামীতে আরো বৃদ্ধি পাবে. চুক্তি স্বাক্ষর কালে বক্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় ও স্বাধীনতা পরবর্তী তত্কালীন সোভিয়েত দেশের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু প্রতিম ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন.