আমি মনে করি যে, দেশ সামাজিক স্বাধীনতার দিক থেকে সত্যই অনেক বেশী বিকশিত হয়েছে আর এই প্রগতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ – এই কথা ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ আজ সরাসরি টেলিভিশন চ্যানেলে, রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল গুলির প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে. রাষ্ট্রপতির পদ থেকে চলে যাওয়ার আগে এই সাক্ষাত্কার হচ্ছে শেষ বারের মতো.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতা – এটা খুবই বিরল অনুভূতি, যা প্রত্যেক ব্যক্তিই নিজের মতো বুঝতে পারেন. এটা যেমন বাস্তব অবস্থা, তেমনই প্রত্যেক লোকেরই অনুভবের বিষয়. আর এই অর্থে, মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের কালে রাশিয়াতে অনেক দূর গুরুত্বপূর্ণ ধরনের অগ্রগতি করা সম্ভব হয়েছে. দেশের নেতার মতে, এটা খুবই স্পষ্ট ভাবেই দেখিয়ে দিয়েছে বিগত সময়ের ঘটনা গুলি, তার মধ্যে বহু সংখ্যক লোকের সমাবেশ গুলিও রয়েছে. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

    “দেখুন, বিগত বছর গুলিতে কি ঘটে গিয়েছে. আমি মনে করি  যে, আমরা সত্যই সামাজিক স্বাধীনতার বিষয়ে অনেক অগ্রগতি করতে পেরেছি. কারও মনে হতে পারে এই প্রগতি স্বল্প, কেউ মনে করতে পারেন বরং উল্টো, মাত্রাতিরিক্ত – অনেকটা এতদূর যাওয়ার দরকার ছিল না আর এমনিতেই সব ভালো ছিল. কিন্তু আমার মতে, আমরা এগিয়ে গিয়েছি, আর যথেষ্ট গুরুতর ভাবেই. আমি শুধু বিগত কয়েক মাসের ঘটনা নিয়েই বলব: চলুন জনতার কাছ প্রশ্ন করা যাক, যাঁরা বিভিন্ন চত্বরে জমায়েত হয়েছিলেন, - তাঁরা স্বাধীন না কি নন – এখানে মুখ্য নয়, তাঁরা কাদের জন্য বেরিয়ে ছিলেন: সাদা, লাল নাকি নীলদের জন্য. আমি একেবারেই বিশ্বাস করি যে, তাঁদের মধ্যে বেশীর ভাগ লোকই বলবেন: হ্যাঁ, আমি স্বাধীন. কারণ আমার একটা অবস্থান রয়েছে, আমার অনেক কিছুই ভালো লাগে না. অথবা উল্টো: আমার সবই ভালো লাগে, এটাকে ছোঁয়ার সাহস করবেন না. কিন্তু আমি স্বাধীন. স্বাধীনতা – এটা নিজের বোধ, আর এই বিষয়ে আমরা কিছু কম করি নি”.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ সরাসরি টিভি চ্যানেলে প্রথমবার সাক্ষাত্কার দিচ্ছেন না, শুধু তার কাঠামোই পাল্টেছে. গত হেমন্তে তিনি রাষ্ট্রীয় চ্যানেল গুলির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন. আজ তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, প্রসঙ্গতঃ, শুধু রাষ্ট্রীয় চ্যানেলের লোকদেরই নয়, বরং “রেন – টিভি” ও “দোঝ্দ (বৃষ্টি)” চ্যানেলের মতো যাদের বিরোধী মনে করা হয়, তাদের সাংবাদিকরাও রয়েছেন.

দিমিত্রি মেদভেদেভ আরও বলেছেন যে, নিকট প্রাচ্যে ক্ষমতা চরমপন্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে. দেশের প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া এই ধরনের বিপদের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখেছে সেই এলাকায় নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে.

    সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যে, তিনি “আরব বসন্তের” ফলাফল কিভাবে মূল্যায়ন করেন, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তা শেষ হবে “আরব হেমন্তে”, এই কথার “সরাসরি ও বক্রোক্তি ধরে অর্থ করলে”. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির কথামতো, এই সব ঘটনার ফলে এই এলাকায় চরমপন্থীরা ক্ষমতায় আসতে চাইছে, আর রাশিয়া এই বাস্তবকে নিকট প্রাচ্যে নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের সময়ে বিচার না করে পারে না, তাই তিনি বলেছেন:

    “আরব বিশ্বে পরিস্থিতি সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে. তা হল সেখানে পরিস্থিতি খুবই টলমলে. বেশ অনেকগুলি দেশের প্রশাসনে আসতে চাইছে চরমপন্থীরা. আর তাদের সঙ্গে কাজ করা হবে অনেক কঠিন. আমি এই নিয়ে সকলকেই বলেছি – আমাদের আমেরিকার সহকর্মীদের যেমন, তেমনই ইউরোপের সহকর্মীদেরও, - যে সব রকমের পরিবর্তনেরই, এমনকি তা ভালোর জন্য হলেও, তা চরমপন্থীদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হতে পারে না. আর সেই ধরনের আশঙ্কা রয়েছে, কিন্তু আমরা আশা করবো যে, এই সব দেশের লোকরা সঠিক নির্বাচনই করবেন. আমাদের সেখানে স্বার্থ রয়েছে. এটা আমাদের পররাষ্ট্র নীতির স্বার্থ. আমরা চাই এই সমস্ত দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে. চাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে. জিনিস, অস্ত্র সব কিছু নিয়েই বাণিজ্য করতে – সেই সব কিছু নিয়ে, যা আমাদের দেশে ভাল তৈরী করা হয় বলে স্বীকৃত. আর আমরা এটা আমাদের সাধ্যমত করতেই থাকবো. কোন রকমের আলাদা করে দিক পরিবর্তন এখনও করা হয় নি. কিন্তু আমরা অবশ্যই ভূ- রাজনৈতিক বাস্তব হিসাব করেছি. অবশ্যই, অনেক ক্ষেত্রে আমরা স্রেফ কিছু সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছি”.